Facebook Pixel

ক. ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতির আবিষ্কার হয় কোন সভ্যতায়? খ. প্রত্নতত্ত্ব বলতে কী বোঝ? গ. ছক-১: কোন প্রত্নতাত্ত্বিক যুগকে চিহ্নিত করে? উক্ত যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করো। ঘ. ছক-২: কোন প্রত্নতাত্ত্বিক যুগকে নির্দেশ করে? সমাজ ও সভ্যতার বিকাশে উক্ত যুগের অবদান মূল্যায়ন করো।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ প্রত্নতত্ত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সমাজ ও সভ্যতা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সিন্ধু সভ্যতায় ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতিটির আবিষ্কার হয়। খ. প্রত্নতত্ত্ব বলতে বোঝায় প্রাগৈতিহাসিক সমাজ ও মানুষ সম্পর্কিত বিজ্ঞানভিত্তিক অধ্যয়ন। প্রত্নতত্ত্বের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Archaeology' যা এসেছে গ্রিক শব্দ 'Arkhaios' (অর্থ-প্রাচীন) আর 'Logia' (অর্থ-অধ্যয়ন বা পাঠ) থেকে। অর্থাৎ উৎপত্তিগত অর্থে প্রত্নতত্ত্ব অর্থ হচ্ছে 'প্রাচীন বিদ্যা।' ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ স্যার ই.বি. টেইলর প্রত্নতত্ত্বের সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে বলেন, 'প্রত্নতত্ত্ব হচ্ছে অতীতের ধ্বংসাবশেষ সম্পর্কিত পাঠ।' সুতরাং, উৎপত্তিগত অর্থ এবং টেইলর প্রদত্ত সংজ্ঞার আলোকে বলা যায় যে, অতীতকালের মানুষের ব্যবহার্য দ্রব্যসামগ্রী, হাতিয়ার, বাসগৃহ ইত্যাদির ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সেসময়ের সামাজিক জীবনের অধ্যয়নই হলো প্রত্নতত্ত্ব। গ. ছক-১ যে প্রত্নতাত্ত্বিক যুগকে চিহ্নিত করে তা হলো প্রাচীন প্রস্তর যুগ। প্রাচীন প্রস্তর যুগ মানব ইতিহাসের দীর্ঘতম যুগ। এ যুগের সময়কাল প্রায় দুই লক্ষ বছর। এ যুগের প্রধান অধিবাসী নিয়ানডারথাল ও ক্রো-ম্যাগনন মানুষ। প্রাচীন প্রস্তর যুগের প্রথম হাতিয়ার সম্ভবত কুড়িয়ে পাওয়া পাথরের নুড়ি। নুড়িগুলোতে অবশ্য মানুষের হাতের কারুকার্য ছিল না। পর্যায়ক্রমে মানুষ পাথর দিয়ে ঠোকাঠুকি করে নুড়িগুলোকে প্রয়োজন মাফিক আকার দিতে শেখে। এ সময়ের উল্লেখযোগ্য হাতিয়ার দা বা হাত কুড়াল। পরবর্তী সময়ে মানুষ পাথরের বল্লম ব্যবহার করত বলে প্রমাণ মেলে। এ যুগের হাতিয়ার ছিল অপেক্ষাকৃত ভোঁতা। প্রাচীন প্রস্তর যুগ আজ থেকে ২৫ লক্ষ বছর পূর্বে শুরু আর ১০ হাজার বছর আগে শেষ হয়েছে। খাদ্য সংগ্রহ এ যুগের একটি বৈশিষ্ট্য। এ যুগের মানুষ প্রকৃতি থেকে খাদ্য সংগ্রহ করত। এ যুগের আরো একটি বৈশিষ্ট্য হলো আগুনের আবিষ্কার। তারা পাথরে পাথর ঘষে আগুন জ্বালাতে শেখে। যাযাবর জীবনযাপন এ যুগের বৈশিষ্ট্য। এ সময় মানুষ যাযাবর ছিল। তারা ছোটো ছোটো গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে ঘুরে বেড়াত। প্রাচীন প্রস্তর যুগের উল্লেখযোগ্য আরো কিছু বৈশিষ্ট্য হলো- জাদুবিদ্যা ও অতিপ্রাকৃতের জ্ঞান, বাঁশ, চামড়া ও কাঠের ব্যবহার, জনসংখ্যার অপ্রতুলতা, শ্রমবিভাজনের অভাব, দলবদ্ধভাবে বসবাস, শ্রেণিহীনতা, স্বনির্ভরতা, সমভোগবাদ প্রভৃতি। ঘ. ছক-২ যে প্রত্নতাত্ত্বিক যুগকে নির্দেশ করে তা হলো নব্যপ্রস্তর যুগ। নব্যপ্রস্তর যুগ সমাজ ও সভ্যতার বিকাশে বিশেষ অবদান রেখেছে। নব্যপ্রস্তর যুগের সূচনা মধ্যপ্রাচ্যে খ্রিষ্টপূর্ব ৭০০০ অব্দে এবং ব্রিটেনে ২৫০০ খ্রিষ্টপূর্বে। এ যুগের প্রধান আবিষ্কার হলো কৃষিকাজ ও পশুপালন। অর্থাৎ এ যুগের মানুষ খাদ্য সংগ্রহ নির্ভর অর্থনীতির পরিবর্তে উৎপাদন নির্ভর অর্থনীতির সূচনা করে। এছাড়া তারা চাকা ও কৃষি যন্ত্রপাতি আবিষ্কার, ভাষা, শিল্পকলা চর্চা প্রভৃতি ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছিল। উদ্দীপকের ছক-খ-এ উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, এগুলো নব্যপ্রস্তর যুগকে নির্দেশ করছে। নব্যপ্রস্তর যুগে কৃষিকাজ ও পশুপালন অর্থনীতির উদ্ভব হলে সর্বপ্রথম খাদ্যের নিশ্চয়তা আসে। সেইসাথে বাসস্থানের নিশ্চয়তা, খাদ্যের সঠিক যোগান, প্রাকৃতিক পরিবেশের অনুকূল অবস্থা নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষকে সভ্য জীবন গঠনের সুযোগ করে দিয়েছিল। এ যুগেই মানুষ যাযাবর জীবন ত্যাগ করে স্থায়ী বসবাসের জীবন শুরু করে এবং সমাজে পারিবারিক কাঠামো গড়ে ওঠে। বয়ন শিল্পের সাহায্যে এ যুগের মানুষ পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যবহার করে সুসভ্য হতে সক্ষম হয়েছিল। চাকার আবিষ্কারের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসে যুগান্তকারী পরিবর্তন। নব্যপ্রস্তর যুগে মানুষ আগুন জ্বালানো, আগুন দিয়ে খাবার সিদ্ধ করা, আগুন জ্বেলে বন্য পশুকে ভয় দেখানো এবং অস্ত্র তৈরিতে আগুনের ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করে। অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য আবিষ্কারের মাধ্যমে সমাজ ও সভ্যতার বিকাশে অভাবনীয় অবদানের জন্য এ যুগকে 'নবোপলীয় বিপ্লব' হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। পরিশেষে বলা যায়, নব্যপ্রস্তর যুগ মানবসমাজের ইতিহাসে পরিবর্তনের দিক থেকে একটি বৈপ্লবিক যুগ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ যুগের কৃষি, পশুপালন, ঘরবাড়ি তৈরি, মৃৎশিল্প, বয়ন শিল্প এবং বিভিন্ন ধরনের আবিষ্কার বর্তমান সমাজ ও সভ্যতার বিকাশের ক্ষেত্রে অপরিসীম অবদান রেখেছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ক.

ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতির আবিষ্কার হয় কোন সভ্যতায়?

খ.

প্রত্নতত্ত্ব বলতে কী বোঝ?

গ.

ছক-১: কোন প্রত্নতাত্ত্বিক যুগকে চিহ্নিত করে? উক্ত যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করো।

ঘ.

ছক-২: কোন প্রত্নতাত্ত্বিক যুগকে নির্দেশ করে? সমাজ ও সভ্যতার বিকাশে উক্ত যুগের অবদান মূল্যায়ন করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A = সমাজের বৈশিষ্ট্য = i. যাযাবর জীবনযাপন করত ii. হস্তকুঠার, তীরধনুক ব্যবহার iii. আগুনের আবিষ্কার। B = সমাজের বৈশিষ্ট্য ...

Geographia গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

ক. ময়নামতি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কোথায় অবস্থিত? খ. "নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষেরা বিভিন্ন কুসংস্কার বিশ্বাস করত"-ব্যাখ্যা...

ক. উয়ারী-বটেশ্বর কোন জেলায় অবস্থিত? খ. শালবন বিহার সম্পর্কে যা জানো লেখো। গ. উদ্দীপকে কীসের স্তরবিন্যাস দেখানো হয়েছে? উক...

ক. উয়ারী-বটেশ্বর কোথায় অবস্থিত? খ. শালবন বিহার সম্পর্কে যা জানো লেখো। গ. উদ্দীপকের A যে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানকে নির্দেশ ...

ক. Culture শব্দটি সর্বপ্রথম কে ব্যবহার করেন? খ. আকাশ সংস্কৃতি বলতে কী বোঝায়? বুঝিয়ে লেখো। গ. ছক-২-এ বাংলাদেশের কোন প্রত্...

ক. লৌহের প্রথম ব্যবহার হয় কোথায়? খ. "সিন্ধু সভ্যতা ছিল নগরকেন্দ্রিক"- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের ছক-ক-এ নির্দেশিত যুগের ...

ক. প্রত্নতত্ত্বের প্রধান উদ্দেশ্য কী? খ. প্রাচীন প্রস্তর যুগের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ। গ. প্রদর্শিত ১নং চিত্রটি কোন যুগের ইঙ্...

ক. লৌহ সংস্কৃতির আদি উৎপত্তিস্থল বলা হয় কাকে? খ. উয়ারী-বটেশ্বরের অধিবাসীদের ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বরুপ ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্...

ক. চাকমা মৌজা প্রধানকে কী বলে? খ. ছয় দফা কর্মসূচির দুটি কর্মসূচি উল্লেখ করো। গ. উদ্দীপকের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ বা...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।