Facebook Pixel

রাজু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয়টি অধ্যয়ন করছে তা ১৯৫৭ - ৫৮ শিক্ষাবর্ষে ইউনেস্কোর সহযোগিতায় স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। উক্ত বিষয়টির বিকাশে একজন প্রথিতযশা চিন্তাবিদের অবদান অনস্বীকার্য । যাকে বাংলাদেশে ওই বিষয়ের জনক বলা হয় । ক. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ? খ. পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান প্রয়োজন কেন ? ব্যাখ্যা কর। গ. রাজুর অধ্যয়নের বিষয়টির বিকাশধারা বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দীপকে যে চিন্তাবিদের কথা বলা হয়েছে তার অবদান মূল্যায়ন কর।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ঢাক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২১ সালে। খ. যেকোনো উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। কেননা সমাজ বিচ্ছিন্ন বা সমাজ বিরুদ্ধ কোনো উন্নয়নমূলক কাজ কখনো টেকসই হয় না। তার বাস্তব উদাহরণ হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরে ' টাটা ' র প্রস্তাবিত শিল্প নগরের বিরুদ্ধে সহিংস আন্দোলনের মুখে এ দুটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে যদি সম্ভাব্যতা যাচাই করা যেত তবে এর একটি উত্তম বিকল্প ব্যবস্থা হয়তোবা সম্ভব ছিল। তাই যেকোনো পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় সমাজবিজ্ঞানের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন । গ. রাজুর অধ্যয়নের বিষয়টি হলো সমাজবিজ্ঞান । বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৫৭ সালে চালু হয় এবং ১৯৫৭ - ৫৮ শিক্ষাবর্ষ হতে এর কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালুর পেছনে ভূমিকা রাখেন সামাজিক নৃবিজ্ঞানের প্রখ্যাত ফরাসি অধ্যাপক ক্লাউড লেভি স্ট্রস (Prof Cloude Levi-Struss ) । তিনি ১৯৫০ সালে ঢাকা আসেন এবং এ বিষয়ে পরীক্ষা চালান। তাঁকে সহায়তা করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তৎকালীন শিক্ষক এ . কে . নাজমুল করিম। এ দুইজনের যৌথ উদ্যোগে এবং ইউনেস্কোর সার্বিক ও কারিগরি সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়। এরপর ষাট ও সত্তরের দশকে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয় । ১৯৬৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করে। ১৯৯০ - ৯১ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চালু হওয়ার পর সমাজবিজ্ঞান এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত অনার্স কলেজসমূহের অধিকাংশ কলেজেই সমাজবিজ্ঞান পড়ানো হয়। দেশের সবকয়টি সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ আছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু আছে। বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ' সামাজিক গবেষণা পরিষদ ' ও সমাজবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করে। ড . এ . কে . নাজমুল করিমের প্রথম এবং বিখ্যাত বই হলো 'Changing Society in India, Pakistan & Bangladesh'. এটিই প্রথম কোনো বাঙালি রচিত সমাজবিজ্ঞানের ' ওপর আলোচিত পূর্ণাঙ্গ একটি গ্রন্থ। বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান বিকাশে আরও অবদান রাখেন এফ . আর . খান , অধ্যাপক ড . রঙ্গলাল সেন , অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ । বর্তমানে সমাজবিজ্ঞানকে ঘিরে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে। নতুন ম্যাগাজিন ও পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। 'Bangladesh e - Journal of Sociology' এরূপ একটি অনলাইন পত্রিকা। এ থেকে বোঝা যায় , বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে , যা এর সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে। ঘ. উদ্দীপকে যে চিন্তাবিদের কথা বলা হয়েছে তিনি হলেন বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক ড . এ . কে . নাজমুল করিম। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে নাজমুল করিম রাষ্ট্রবিজ্ঞানের লেকচারার হিসেবে ১৯৪৯ সালে যোগদান করেন। ১৯৫০ সালে প্রখ্যাত ফরাসি প্রফেসর লেভি স্ট্রস বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞানের পঠন - পাঠনের সম্ভাব্যতা যাচাই করার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিদর্শন করেন । এসময় তার সাথে নাজমুল করিম অধ্যাপক অর্জিত কুমার সেনকে সঙ্গে নিয়ে দেখা করেন এবং সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠায় ইউনেস্কোর সাহায্য - সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এরই ফলশ্রুতিতে লেভি স্ট্রসের সক্রিয় আগ্রহে ১৯৫৭ - ৫৮ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান নামে স্বতন্ত্র বিভাগ চালু হয়। নাজমুল করিম এখানে শিক্ষাদান কার্যক্রমে অংশ নেন। তার প্রথম এবং বিখ্যাত বই হলো 'Changing Society in India, Pakistan & Bangladesh'. এটিই প্রথম কোনো বাঙালি রচিত সমাজবিজ্ঞানের ওপর আলোচিত পূর্ণাঙ্গ একটি গ্রন্থ। বর্তমানেও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অপরিহার্য একটি সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে এটি সবার নিকট সমাদৃত। তাছাড়া 'The Dynamics of Bangladesh Sociology' নামক তার আরেকটি গ্রন্থ রয়েছে। দেশি - বিদেশি পত্র - পত্রিকায় তার সমাজতত্ত্ব বিষয়ক অসংখ্য প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশের সামাজিক পরিবেশ , প্রয়োজন , শিক্ষা পদ্ধতির সাথে সংগতি রেখেই সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্যসূচি প্রণয়নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাই বলা যায় , বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে এ , কে , নাজমুল করিমের অবদান সর্বাধিক ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রাজু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয়টি অধ্যয়ন করছে তা ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ইউনেস্কোর সহযোগিতায় স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। উক্ত বিষয়টির বিকাশে একজন প্রথিতযশা চিন্তাবিদের অবদান অনস্বীকার্য। যাকে বাংলাদেশে ওই বিষয়ের জনক বলা হয় ।

ক.

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ?

খ.

পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান প্রয়োজন কেন ? ব্যাখ্যা কর।

গ.

রাজুর অধ্যয়নের বিষয়টির বিকাশধারা বর্ণনা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে যে চিন্তাবিদের কথা বলা হয়েছে তার অবদান মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।