Facebook Pixel

রাজশাহী কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব মঞ্জুরুল কাদের দ্বাদশ ক্লাসে একদিন একজন সংস্কারকের জীবনী নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, 'বাল্যকাল থেকেই তিনি অসহায় দুস্থ আর্তপীড়িত, দরিদ্র ও এতিমদের উপর ধনীদের জুলুম, অত্যাচার ও নিপীড়নের অবসানকল্পে প্রায়ই চিন্তামগ্ন থাকতেন।' এজন্য তিনি একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেন। এটি বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম মানবকল্যাণ সংঘ, যা ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে গঠিত হয়ে প্রায় ৫০ বছরকাল স্থায়ী ছিল। ক. হযরত মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক গঠিত সংগঠনটির নাম কী ছিল? খ. সেবা সংঘ/হিলফুল ফুজুল বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সংঘ গড়ে তোলার উদ্দেশ্য তোমার পঠিত বইয়ের আলোকে বর্ণনা কর। ঘ. বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে নানারূপ অন্যায়, অবিচার, জুলুম ও অত্যাচারের নিরসনকল্পে উক্ত সংগঠনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. হযরত মুহাম্মদ (স) কর্তৃক গঠিত সংগঠনটির নাম ছিল হিলফুল ফুজুল। খ. হিলফুল ফুজুল বা সেবা সংঘ রাসুল (সা.) কর্তৃক ৫৯০ সালে গঠিত একটি শান্তি সংঘের নাম। প্রতিবছর জিলহজ মাসে আরবে বিখ্যাত উকাজ মেলা অনুষ্ঠিত হতো। এ মেলায় জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে কুরাইশ ও কায়েস গোত্রের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যা ইতিহাসে 'হরবুল ফুজ্জার' নামে পরিচিত। রাসুল (সা.) বাল্যকালে এ যুদ্ধের তাণ্ডবলীলা প্রত্যক্ষ করেন। এতে তাঁর কচিমন কেঁদে ওঠে। মানবতার এ অপমান সহ্য করতে না পেরে যুদ্ধ বন্ধের জন্য কনিষ্ঠ পিতৃব্য জুবাইর ও অন্যান্য কয়েকজন উৎসাহী যুবককে নিয়ে তিনি একটি শান্তি কমিটি গঠন করেন। এ সেবা সংঘ ইসলামের ইতিহাসে 'হিলফুল ফুজুল' নামে প্রসিদ্ধ। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সংঘের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের হিলফুল ফুজুল গঠনের মিল রয়েছে। মূলত সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অত্যাচার বন্ধের উদ্দেশ্যে এ সংঘ গঠন করা হয়। প্রতিবছর জিলহজ মাসে আরবে উকাজ মেলা বসত। এ মেলায় ঘৌড়দৌড়কে কেন্দ্র করে কুরাইশ ও বনু কায়েস গোত্রের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ যুদ্ধ হারবুল ফুজ্জার নামে পরিচিত। মহানবি (সা.) এ যুদ্ধের ভয়াবহতা ও নারী-শিশুদের করুণ পরিণতি প্রত্যক্ষ করে অত্যন্ত ব্যথিত হন। ৫ বছর ধরে চলা এ যুদ্ধের বীভৎসলীলা দেখে কিশোর মুহাম্মদ বিচলিত হন এবং আরববাসীকে এ রকম ভয়াবহতা থেকে রক্ষার পথ খুঁজতে থাকেন। অতঃপর তিনি একটি শান্তিসংঘ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং ৫৯০ খ্রিস্টাব্দে সমমনা নিঃস্বার্থ কিছু উৎসাহী যুবক ও পিতৃব্য জুবাইরকে নিয়ে একটি শান্তিসংঘ গঠন করেন। এ সংঘের চারজন বিশিষ্ট সদস্য ফজল, ফাজেল, ফাজায়েল ও মুফাজজলের নাম অনুসারে এ সংঘের নাম রাখা হয় হিলফুল ফুজুল। এ শান্তিসংঘ ৫০ বছর স্থায়ী হয়েছিল। হিলফুল ফুজুল গঠনের উদ্দেশ্য ছিল- ১. অসহায়, নিঃস্ব ও দুর্গতদের সেবা প্রদান। ২. যথাসাধ্য চেষ্টা করে অত্যাচারীকে বাধা দান এবং অত্যাচারিতকে সাহায্য করা। ৩. দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা যেন কোনো ব্যক্তি বা গোত্র শান্তিভঙ্গের কারণ না হতে পারে। ৪. বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা। ৫. কোনো বিদ্রোহীকে মক্কায় আশ্রয় না দেওয়া। ৬. দুর্বল, এতিমদের সাহায্য করা। ৭. বিদেশি বণিকদের মক্কায় বাণিজ্যের সময় নিরাপত্তা প্রদান করা। অতএব, হিলফুল ফুজুলের উদ্দেশ্য ছিল আর্তমানবতার সেবায় গৃহীত জনকল্যাণকর কার্যাবলি সম্পাদন ও অপরাধের অবসান ঘটানো। ঘ. বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে নানারূপ অন্যায়, জুলুম ও অত্যাচারের নিরসনকল্পে উক্ত সংগঠন তথা হিলফুল ফুজুলের গুরুত্ব অপরিসীম। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হানাহানি প্রতিরোধ করতে শান্তি-শৃঙ্খলার লক্ষ্যে বর্তমান সমাজে হিলফুল ফুজুলের মতো শান্তিসংঘ অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এ ধরনের সংগঠনের ফলে সমাজে হানাহানি কমবে, অত্যাচার কমবে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। ৫৯০ খ্রিস্টাব্দে রাসুল (সা.) সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য কয়েকজন উৎসাহী যুবক ও পিতৃব্য যুবায়েরকে নিয়ে হিলফুল ফুজুল নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এ সংগঠনের কার্যাবলি সম্পাদনে মহানবি (সা.) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ সংঘের মূল উদ্দেশ্য ছিল- ক. দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা, খ. বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে সম্ভাব স্থাপন ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধ করা, গ. অত্যাচারিতকে অত্যাচারীর হাত থেকে রক্ষা করা, ঘ. দুর্বল, অসহায় ও এতিমদের সাহায্য করা, ঙ. বিদেশি বণিকদের জান ও মালের নিরাপত্তা বিধান করা এবং চ. সকল প্রকার অন্যায় ও অবিচার অবসানের চেষ্টা করা। সৈয়দ আমীর আলী বলেন, "এই ফুজুল সংঘ দুর্বল ও মজলুম মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রভূত শক্তি সঞ্চার করেছিল এবং প্রথম বর্ষেই এটির হস্তক্ষেপে ভীতি প্রদর্শন বন্ধ, বলশালীর আইন-শৃঙ্খলা লঙ্ঘন দমন এবং সহায়হীনের প্রতি অন্যায়ের প্রতিকার বিধানে অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল।" তাই বর্তমান সমাজে প্রচলিত জুয়া, মাদক, অন্যায়-অত্যাচার চাঁদাবাজি বন্ধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হিলফুল ফুজুলের মতো সংগঠনের গুরুত্ব অপরিসীম। যুবকরা এগিয়ে এসে এরকম সংঘ গঠন করলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রাজশাহী কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব মঞ্জুরুল কাদের দ্বাদশ ক্লাসে একদিন একজন সংস্কারকের জীবনী নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, 'বাল্যকাল থেকেই তিনি অসহায় দুস্থ আর্তপীড়িত, দরিদ্র ও এতিমদের উপর ধনীদের জুলুম, অত্যাচার ও নিপীড়নের অবসানকল্পে প্রায়ই চিন্তামগ্ন থাকতেন।' এজন্য তিনি একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেন। এটি বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম মানবকল্যাণ সংঘ, যা ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে গঠিত হয়ে প্রায় ৫০ বছরকাল স্থায়ী ছিল।

ক.

হযরত মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক গঠিত সংগঠনটির নাম কী ছিল?

খ.

সেবা সংঘ/হিলফুল ফুজুল বলতে কী বোঝ?

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত সংঘ গড়ে তোলার উদ্দেশ্য তোমার পঠিত বইয়ের আলোকে বর্ণনা কর।

ঘ.

বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে নানারূপ অন্যায়, অবিচার, জুলুম ও অত্যাচারের নিরসনকল্পে উক্ত সংগঠনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদের উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রত...

ক. মদিনার পূর্বনাম কী ছিল? খ. মদিনা সনদকে বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান বলা হয় কেন? গ. উল্লিখিত ছকে মহানবি (স)-এর জীবনের ক...

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে আল-আমিন বলা হয়, কারণ তিনি-

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদে উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রতি...

অটোমান সুলতান বায়েজিদ অঙ্গোরার প্রান্তরে তৈমুর লঙ্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মোকাবিলা করেন। যুদ্ধে বায়েজিদ অনেক সৈন্য বিশ্বাস...

অমুসলিমদের থেকে প্রাপ্ত নিরাপত্তা করকে কী বলে

আকাবার প্রথম শপথ কত খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয়?

আকাবার প্রথম শপথে কত জন মদিনাবাসী ছিলেন?

আকাবার শপথ মোট কতবার অনুষ্ঠিত হয়?

আক্কাশ আলী তার এলাকার পথভ্রষ্টকারী মানুষের অত্যাচারের কারণে আপন লোকজন নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। বেশ কিছুদিন পরে প্রতিষ্ঠিত...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।