Facebook Pixel

যুক্তিবিদ্যার ক্লাসে গালিব স্যার বলেন, শ্রীলংকায় দ্রব্যমূল্য ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষার্থী স্নেহা বললো, দ্রব্যের যোগান কমে গেলে দাম বাড়ে। আবার যোগান বেড়ে গেলে দাম কমে যায়। শিক্ষার্থী শ্রেয়সি বললো, কোনো কোনো সময় এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়। ক. শব্দ কত প্রকার ও কী কী? খ. 'হায়' শব্দটি পদ নয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত গালিব স্যার আর স্নেহার বক্তব্য তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়টিকে নির্দেশ করেছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত শিক্ষার্থী শ্রেয়সির বক্তব্যটি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ যুক্তির উপাদান

উৎস: Board Exam Question JB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যুক্তিবিদ্যায় শব্দ প্রধানত তিন প্রকার। যথা: পদযোগ্য শব্দ, সহ-পদযোগ্য শব্দ এবং পদ-নিরপেক্ষ শব্দ। (খ) 'হায়' শব্দটি পদ নয় কারণ এটি কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না। যুক্তিবিদ্যায় যে শব্দগুলো স্বাধীনভাবে কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হতে পারে না, তাদের পদ-নিরপেক্ষ শব্দ বলা হয়। 'হায়', 'ছি!', 'আহ!' ইত্যাদি আবেগসূচক শব্দগুলো কোনো বস্তুর বা গুণের নাম নির্দেশ করে না, তাই এগুলোকে পদ হিসেবে গণ্য করা হয় না। (গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত গালিব স্যার এবং শিক্ষার্থী স্নেহার বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার 'পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী সম্পর্ক' নির্দেশ করেছে। যুক্তিবিদ্যায় পদের দুটি দিক থাকে: ব্যক্ত্যর্থ (Denotation) বা পরিমাণগত দিক এবং জাত্যর্থ (Connotation) বা গুণগত দিক। যুক্তিবিদদের মতে, পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান। অর্থাৎ, পদের ব্যক্ত্যর্থ বাড়লে জাত্যর্থ কমে এবং ব্যক্ত্যর্থ কমলে জাত্যর্থ বাড়ে। উদ্দীপকে স্নেহা বলেছে, দ্রব্যের যোগান কমে গেলে দাম বাড়ে এবং যোগান বেড়ে গেলে দাম কমে। এখানে যোগান ও দামের মধ্যে যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক দেখানো হয়েছে, তা যুক্তিবিদ্যার ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীত সম্পর্কের একটি বাস্তব উদাহরণ। গালিব স্যার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির যে প্রসঙ্গটি তুলেছেন, তা এই সম্পর্কেরই প্রতিফলন। (ঘ) উদ্দীপকে শিক্ষার্থী শ্রেয়সির বক্তব্যটি যুক্তিবিদ্যার 'ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী সম্পর্কের সীমাবদ্ধতা' নির্দেশ করে। সাধারণত ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান থাকলেও, সব ক্ষেত্রে এটি সমানভাবে কার্যকর হয় না। শ্রেয়সির বক্তব্যের আলোকে এর বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো: ১. জাতি-উপজাতি সম্পর্কের অভাব: যেসব পদকে জাতি-উপজাতি বা শ্রেণি-উপশ্রেণি হিসেবে সাজানো যায় না, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই নিয়মটি কার্যকর হয় না। যেমন: 'বই', 'চাঁদ', 'কাঠ', এদের মধ্যে কোনো জাতিগত ক্রম নেই, তাই এদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ম অনুযায়ী ঘটে না। ২. সুনির্দিষ্ট ব্যক্ত্যর্থের ক্ষেত্রে: যেসব পদের ব্যক্ত্যর্থ সুনির্দিষ্ট বা নির্দিষ্ট, সেখানে ব্যক্ত্যর্থ বাড়া-কমার সুযোগ নেই। যেমন: 'এক ডজন কমলা' বললে এখানে সংখ্যা নির্দিষ্ট। একে 'এক হালি কমলা' বললে ব্যক্ত্যর্থ কমলেও কমলার গুণগত বৈশিষ্ট্য বা জাত্যর্থের কোনো পরিবর্তন হয় না। ৩. গাণিতিক অনুপাতের অভাব: ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী সম্পর্কটি কোনো গাণিতিক বা জ্যামিতিক নিয়ম মেনে চলে না। অর্থাৎ, কতটুকু ব্যক্ত্যর্থ বাড়লে কতটুকু জাত্যর্থ কমবে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট আনুপাতিক হার নেই। পরিশেষে বলা যায়, শ্রেয়সির বক্তব্যটি যুক্তিবিদ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাকে তুলে ধরেছে, যা প্রমাণ করে যে ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীত সম্পর্কটি সব ক্ষেত্রে বা সব ধরনের পদের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenJessore Board (2022)

যুক্তিবিদ্যার ক্লাসে গালিব স্যার বলেন, শ্রীলংকায় দ্রব্যমূল্য ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষার্থী স্নেহা বললো, দ্রব্যের যোগান কমে গেলে দাম বাড়ে। আবার যোগান বেড়ে গেলে দাম কমে যায়। শিক্ষার্থী শ্রেয়সি বললো, কোনো কোনো সময় এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়।

ক. শব্দ কত প্রকার ও কী কী? খ. 'হায়' শব্দটি পদ নয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত গালিব স্যার আর স্নেহার বক্তব্য তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়টিকে নির্দেশ করেছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত শিক্ষার্থী শ্রেয়সির বক্তব্যটি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।