Facebook Pixel

মি. জোহেব একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে তার কোম্পানির বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। গত সপ্তাহের চট্টগ্রাম বন্দরে আসা তার মাল বুঝে নেয়। সে ভাবে কত দ্রুতই রাশিয়া থেকে তার মাল বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। অথচ এক সময় তা এত সহজ ছিল না। তিনি বুঝতে পারেন যে, কোনো দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য এ মাধ্যমটির যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। ক. পোতাশ্রয় কাকে বলে? খ. পশ্চাদভূমি খলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মাধ্যমটি গড়ে উঠা অনুকূল পরিবেশসমূহ উল্লেখ কর।। ঘ. বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উদ্দীপকের যোগাযোগ মাধ্যমের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ভূগোল ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ পরিবহন ও যোগাযোগ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. যে স্থানে জাহাজগুলো নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে যে স্থানকে পোতাশ্রয় বলে। খ. বন্দরের মাধ্যমে যে অঞ্চলের পণ্যদ্রব্য রপ্তানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য আমদানি করা হয় তাকে ঐ বন্দরের পশ্চাদভূমি বলে পশ্চাদভূমি কোনো পণ্যের স্থানীয় চাহিদা মিটাতে সক্ষম হলে তাকে উদ্বৃত্ত অঞ্চল বলে। এতে করে রপ্তানি আর ঘাটতি অঞ্চল হলে আমদানি বাণিজ্য (যেমন, 'বাংলাদেশের খাদ্যশস্য) বৃদ্ধি পায়। স্বাভাবিকভাবেই পশ্চাদভূমি যদি অর্থনৈতিক দিক থেকে সমৃদ্ধ হয় তাহলে বন্দরের উন্নতি হয়। সুতরাং বন্দর গড়ে ওঠার পিছনে পশ্চাদভূমির ভূমিকা অপরিসীম। যেমন- বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নতি মূলত পশ্চাদভূমির কারণেই হয়েছে। কারণ এসব বন্দরের সন্নিকটে বিশাল পশ্চাদভূমি রয়েছে। গ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মাধ্যমটি হলো জাহাজ যা সমুদ্রপথে চট্টগ্রাম বন্দরে মাল নিয়ে পৌঁছায়। বন্দর গড়ে ওঠার জন্য অনুকূল পরিবেশ লাগে। নিচে সমুদ্রবন্দর গড়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশ আলোচনা করা" হলো: যে স্থানে জাহাজগুলো নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে সে স্থানকে পোতাশ্রয় বলে। পোতাশ্রয়ের অভ্যন্তরে সমুদ্রস্রোত, সমুদ্র ঢেউ ঝড়ঝাপটা প্রভৃতির প্রভাব মুক্ত থাকে। এ কারণে সমুদ্র উপকূল ভগ্ন থাকলে সহজে প্রোতাশ্রয় গড়ে ওঠে। চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দরে এরূপ পোতাশ্রয় বিদ্যমান। বন্দরের গঠন ও এর উন্নতি বহুলাংশে পশ্চাদভূমির ওপর নির্ভর করে। বন্দরের মাধ্যমে যে অঞ্চলের পণ্যদ্রব্য রপ্তানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য আমদানি করা হয় তাকে ঐ বন্দরের পশ্চাদভূমি বলে। কৃষি, শিল্প, জনবহুল ও সমৃদ্ধশালী পশ্চাদভূমি বন্দর গঠনে সহায়ক। 1 t ভগ্ন তটরেখা বন্দর গঠনের পক্ষে খুবই উপযুক্ত। কারণ, ভগ্ন তটে বহু গভীর ও প্রশস্ত, খাঁড়ি দেখা যায়। এরূপ অবস্থায় অধিকসংখ্যক জাহাজ এক সাথে প্রোতাশ্রয়ে অবস্থান করতে পারে। এছাড়াও শৈলমুক্ততা, উপকূলীয় গভীরতা, জলবায়ু, সুবিস্তৃত সমভূমি, উন্নত যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা, পানীয় জল ও জ্বালানির ব্যবস্থা সমুদ্রবন্দর গড়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশ। ঘ. উদ্দীপকে সমুদ্রপথের কথা বলা হয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সমুদ্রপথের গুরুত্ব অত্যধিক। নিচে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যোগাযোগ মাধ্যমের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সমুদ্রপথের গুরুত্ব অত্যধিক। বাংলাদেশের প্রধান দুইটি সমুদ্রবন্দর হলো চট্টগ্রাম এবং মংলা সমুদ্রবন্দর। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই দুই বন্দরের ভূমিকা অপরিসীম। এই দু'টি বন্দরের যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নির্ভর করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ব্যবসা বাণিজ্য সহজ হয়েছে। শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি সমুদ্রপথে বন্দরের মাধ্যমে আমদানি ও রপ্তানি করা হয়। দেশের আমদানিরপ্তানি বাণিজ্যের শতকরা ৯৭ ভাগ এ বন্দরের মাধ্যমে সমুদ্রপথে সম্পাদিত হয়। এ বন্দরের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজে বহুলোক নিয়োজিত থেকে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। এই সমুদ্রপথের বন্দরকে কেন্দ্র করে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড় উঠেছে। বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করার সময় খুব অল্প খরচে সমুদ্রপথের মাধ্যমে পণ্য আমদানি করা হয়। আবার বিদেশে পণ্য রপ্তানি করার সময় খুব স্বল্প খরচে এই সমুদ্রপথে বিদেশে পণ্য রপ্তানি করা হয়। দেশের প্রয়োজনে প্রায় সব ধরনের পণ্যদ্রব্য এই সমুদ্রপথে আমদানি-রপ্তানি করা হয়। এছাড়াও পৃথিবীর বড় বড় বন্দরের সাথে সমুদ্রপথে সহজেই যোগাযোগ হচ্ছে। অতএব, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যোগাযোগ মাধ্যম সমুদ্রপথের ভূমিকা অপরিসীম। এই সমুদ্রপথে বন্দর গড়ে ওঠার কারণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পথ সুগম হয়েছে এবং আমদানি- রপ্তানিও সহজতর হয়েছে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক ত্বরান্বিত হচ্ছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মি. জোহেব একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে তার কোম্পানির বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। গত সপ্তাহের চট্টগ্রাম বন্দরে আসা তার মাল বুঝে নেয়। সে ভাবে কত দ্রুতই রাশিয়া থেকে তার মাল বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। অথচ এক সময় তা এত সহজ ছিল না। তিনি বুঝতে পারেন যে, কোনো দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য এ মাধ্যমটির যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।

ক.

পোতাশ্রয় কাকে বলে?

খ.

পশ্চাদভূমি খলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মাধ্যমটি গড়ে উঠা অনুকূল পরিবেশসমূহ উল্লেখ কর।।

ঘ.

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উদ্দীপকের যোগাযোগ মাধ্যমের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. স্থলবন্দর কী? খ. জাতীয় জনপদ বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর। গ. 'C' যোগাযোগ মাধ্যমটি পাহাড়ি এলাকায় গড়ে তোলা কঠিন হওয়ার কারণ ...

ক. পোতাশ্রয় কাকে বলে? খ. বন্দর গড়ে উঠার পিছনে পশ্চাদভূমির ভূমিকা ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত বন্দরটি গড়ে ওঠার ...

ক. শিল্পায়ন কী? খ. বাংলাদেশের শিল্পসমূহের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর। গ. উদ্দীপকে 'B' চিহ্নিত অঞ্চলে সমুদ্রবন্দর গড়ে ওঠার ভৌগ...

ক. বন্দর কী? খ. বাংলাদেশের বান্দরবান জেলায় রেলপথ গড়ে না ওঠার কারণ ব্যাখ্যা কর। গ. 'B' যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব ব্যাখ্যা...

ক. বন্দর কাকে বলে? খ. পশ্চাদ্‌ভূমির বিস্তৃতি ও সমৃদ্ধি উন্নত বন্দর গঠনে সহায়ক ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত স্থা...

ক. চিত্রের সেতুটি কোন নদীর উপর? খ. যমুনা সেতুতে কী কী ধরনের পথ আছে? গ. যমুনা সেতু উত্তরাঞ্চলের সাথে বাংলাদেশের রাজধানীর ...

ক. পায়রা সমুদ্রবন্দর কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় উন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভাব ব্যাখ্যা ক...

ক. পৌরসভার সড়কপথ বলতে কী বোঝ? খ. বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নাম লেখ। গ. চিত্রে দেখানো পথটি অর্থনীতিতে কীভাবে...

অন্যতম নদী মাতৃক ও সমুদ্র উপকূলবর্তী দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সড়ক পথের সহায়তায় দেশের সর্বত্র একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর ...

অল্প দূরত্ববিশিষ্ট স্থানের জন্য কোন বাহনটি বেশি কার্যকর?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।