Facebook Pixel

ক. শিল্পায়ন কী? খ. বাংলাদেশের শিল্পসমূহের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর। গ. উদ্দীপকে 'B' চিহ্নিত অঞ্চলে সমুদ্রবন্দর গড়ে ওঠার ভৌগোলিক নিয়ামক ব্যাখ্যা কর। ঘ. বাংলাদেশের অর্থনীতিতে 'A' ও 'B' চিহ্নিত স্থানের যোগাযোগ ব্যবস্থার ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ভূগোল ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ পরিবহন ও যোগাযোগ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. কৃষি থেকে কোনো অঞ্চল বা সভ্যতা শিল্পের দিকে ধাবিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে শিল্পায়ন বলে। খ. বিনিয়োগের পরিমাণ, শ্রমিকের সংখ্যা এবং উৎপাদনের ধরন অনুযায়ী বাংলাদেশের শিল্পসমূহকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: ১. বৃহৎ শিল্প: যেখানে বিপুল পরিমাণ মূলধন, উন্নত প্রযুক্তি ও অনেক শ্রমিক কাজ করে। যেমন: পাট, বস্ত্র, চিনি ও সার শিল্প। ২. মাঝারি শিল্প: যে শিল্প প্রতিষ্ঠানে মূলধন ও শ্রমিকের সংখ্যা বৃহৎ শিল্পের চেয়ে কম কিন্তু ক্ষুদ্র শিল্পের চেয়ে বেশি। ৩. ক্ষুদ্র শিল্প: অল্প মূলধন ও কম শ্রমিক নিয়ে পরিচালিত শিল্প প্রতিষ্ঠান। ৪. কুটির শিল্প: যে শিল্প সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় অল্প পুঁজির ঘরে বসে পরিচালিত হয়। যেমন: তাঁত শিল্প, মৎশিল্প বা বাঁশ-বেতের কাজ। গ. 'B' চিহ্নিত অঞ্চলে সমুদ্রবন্দরটি হলো চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর। যা গড়ে ওঠার পেছনে বিভিন্ন ভৌগোলিক নিয়ামক কাজ করেছে। সমুদ্রবন্দর গড়ে ওঠার অন্যতম নিয়ামক হলো পোতাশ্রয়। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের কাছাকাছি পোতাশ্রয় রয়েছে। এ পোতাশ্রয়ে জাহাজগুলো সহজেই ঝড় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে আশ্রয়গ্রহণ করতে পারে। এটি বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত বলে অনেক জাহাজ একসাথে পোতাশ্রয়ে অবস্থান করতে পারে। তাই বলা যায়, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর গড়ে ওঠার পেছনে পোতাশ্রয়ের প্রভাব রয়েছে। তাছাড়া এ বন্দরটি গড়ে ওঠার অন্যতম কারণ হলো এটি শৈলমুক্ত। চট্টগ্রাম বন্দরের উপকূল সমুদ্র বেশ গভীর। এতে সব ধরনের জাহাজ বন্দরে যাতায়াত করতে পারে। জাহাজ নির্মাণ, মালের গুদাম ইত্যাদি নির্মাণের জন্য এ বন্দরের বিশাল সমভূমি রয়েছে। এ বন্দরের সাথে পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য ভালো পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া এ বন্দরের উপযুক্ত বিস্তৃত পশ্চাদভূমিও রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে 'B' চিহ্নিত অঞ্চলে সমুদ্রবন্দরটি গড়ে ওঠার পেছনে যেসব নিয়ামক কাজ করছে তন্মধ্যে পোতাশ্রয়, পশ্চাদভূমি, ভগ্ন তটরেখা, শৈলমুক্ততা, উপকূলের গভীরতা, সুবিস্তৃত সমভূমি, জলবায়ু, উন্নত যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য। ঘ. A' ও 'B' চিহ্নিত স্থান যথাক্রমে ঢাকা ও চট্টগ্রাম। স্থান দুটি সড়ক ও রেলপথে যুক্ত। বাংলাদেশের উন্নয়নে সড়ক ও রেলপথ তথা স্থলপথের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি নদীমাতৃক হলেও পুরো দেশ স্থলপথেই নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখে। কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকলেও এদেশে স্থলপথই সবচেয়ে আধুনিক, সমৃদ্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক ও রেলপথের প্রভাব এক্ষেত্রে বিশ্লেষণ করা হলো- (i ) শিল্পের কাঁচামাল আনয়ন বাংলাদেশের শিল্পের কাঁচামাল (যেমন- আখ, বাঁশ, পাট) বিভিন্ন স্থল পরিবহনের মাধ্যমে আনয়ন করা হয়, যা জাতীয় ও শিল্পের উন্নয়নে ভূমিকা পালনে সহায়তা করে। (ii) কৃষিপণ্য পরিবহন কৃষিপণ্য একস্থান থেকে অন্যস্থানে পরিবাহিত হয়। এর ফলে কৃষক তার ফসলের ন্যায্যমূল্য অর্জনে সক্ষম হয় এবং জাতীয় উন্নয়নে তার প্রভাব লক্ষ করা যায়। (iii) প্রচুর যাত্রী পরিবহন সড়ক ও রেলপথে বাংলাদেশের প্রচুর যাত্রী যাতায়াত করে। এর মাধ্যমে দেশ প্রচুর অর্থ উপার্জনে সক্ষম হয়, যা দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। (iv) ব্যাপক কর্মসংস্থান: পরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়ক ও রেলখাতে প্রতিবছর প্রচুর লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে দেশ থেকে বেকারত্বের হার হ্রাস পাবে। (v) গ্রাম ও শহরের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন: বাংলাদেশের পরিবহন মাধ্যমগুলো বিশেষত, রেলওয়ে ভ্রমণের মাধ্যমে শহর থেকে গ্রামে এবং গ্রাম থেকে শহরে সহজে যাতায়াত করা যায়। এর মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের ব্যবধান হ্রাস পেয়ে গ্রামীণ উন্নয়ন ও শহরের অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। (vi) বাজারে পণ্য আনা-নেওয়া: সড়ক ও রেলপথে সহজে বিভিন্ন বাজারে পণ্য আনা-নেওয়া করা যায়। এর ফলে ক্রেতারা দ্রুততম সময়ে পণ্য সেবা পেয়ে থাকে, যা দেশের উন্নয়নে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। (vii) জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, শিল্প, ফ্যাশন ডিজাইন ইত্যাদির স্থানান্তরে এ পরিবহনব্যবস্থা বিশাল ভূমিকা পালন করে থাকে, যা আমাদের জাতীয় উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে থাকে। পরিশেষে বলা যায়, সড়ক ও রেলপথ বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ক.

শিল্পায়ন কী?

খ.

বাংলাদেশের শিল্পসমূহের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর।

গ.

উদ্দীপকে 'B' চিহ্নিত অঞ্চলে সমুদ্রবন্দর গড়ে ওঠার ভৌগোলিক নিয়ামক ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে 'A' ও 'B' চিহ্নিত স্থানের যোগাযোগ ব্যবস্থার ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. স্থলবন্দর কী? খ. জাতীয় জনপদ বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর। গ. 'C' যোগাযোগ মাধ্যমটি পাহাড়ি এলাকায় গড়ে তোলা কঠিন হওয়ার কারণ ...

ক. পোতাশ্রয় কাকে বলে? খ. বন্দর গড়ে উঠার পিছনে পশ্চাদভূমির ভূমিকা ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত বন্দরটি গড়ে ওঠার ...

ক. বন্দর কী? খ. বাংলাদেশের বান্দরবান জেলায় রেলপথ গড়ে না ওঠার কারণ ব্যাখ্যা কর। গ. 'B' যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব ব্যাখ্যা...

ক. বন্দর কাকে বলে? খ. পশ্চাদ্‌ভূমির বিস্তৃতি ও সমৃদ্ধি উন্নত বন্দর গঠনে সহায়ক ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত স্থা...

ক. চিত্রের সেতুটি কোন নদীর উপর? খ. যমুনা সেতুতে কী কী ধরনের পথ আছে? গ. যমুনা সেতু উত্তরাঞ্চলের সাথে বাংলাদেশের রাজধানীর ...

ক. পায়রা সমুদ্রবন্দর কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় উন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভাব ব্যাখ্যা ক...

ক. পৌরসভার সড়কপথ বলতে কী বোঝ? খ. বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নাম লেখ। গ. চিত্রে দেখানো পথটি অর্থনীতিতে কীভাবে...

অন্যতম নদী মাতৃক ও সমুদ্র উপকূলবর্তী দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সড়ক পথের সহায়তায় দেশের সর্বত্র একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর ...

অল্প দূরত্ববিশিষ্ট স্থানের জন্য কোন বাহনটি বেশি কার্যকর?

আধুনিক যুগে পৃথিবীতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নতির ক্ষেত্রে যাতায়াত ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যা...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।