Facebook Pixel

ক. বন্দর কাকে বলে? খ. পশ্চাদ্‌ভূমির বিস্তৃতি ও সমৃদ্ধি উন্নত বন্দর গঠনে সহায়ক ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত স্থানটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠার কারণ ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের 'খ' স্থান হতে 'গ' ও 'ঘ' স্থানের যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ভূগোল ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ পরিবহন ও যোগাযোগ

উৎস: Board Exam Question Combined 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সমুদ্র, নদী বা হ্রদের তীরে অবস্থিত এমন একটি স্থান, যেখানে জলযান বা জাহাজ নিরাপদে নোঙর করা, ভেড়ানো এবং যাত্রী ও পণ্য ওঠানামা করার সুব্যবস্থা থাকে, তাকে বন্দর বলে। খ. কোনো বন্দরের পেছনের যে বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে বন্দরটিতে রপ্তানিযোগ্য পণ্য আসে এবং বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পণ্য যে অঞ্চলে প্রেরিত হয়, তাকে ঐ বন্দরের পশ্চাদ্‌ভূমি বলে। একটি উন্নত বন্দর গড়ে ওঠার পেছনে পশ্চাদ্‌ভূমির বিস্তৃতি ও সমৃদ্ধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পশ্চাদ্‌ভূমি যদি শিল্প ও কৃষিতে সমৃদ্ধ হয় এবং ঘনবসতিপূর্ণ হয়, তবে সেখানে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানির জন্য এবং স্থানীয় মানুষের চাহিদা মেটাতে পণ্য আমদানির জন্য বন্দরের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা বন্দরটিকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ও উন্নত হতে সাহায্য করে। গ. উদ্দীপকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ইঙ্গিতকৃত স্থানটি হলো বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম (চিত্রে যা 'ঘ' দ্বারা নির্দেশিত)। বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত এই বন্দরটি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান লাইফলাইন বা প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। এই স্থানটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এর অনুকূল ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সুবিধা। কর্ণফুলী নদীর মোহনাটি প্রাকৃতিকভাবেই গভীর ও প্রশস্ত হওয়ায় বড় বড় সমুদ্রগামী জাহাজ সহজেই এখানে প্রবেশ করতে ও নিরাপদে নোঙর করতে পারে। এছাড়া উপকূলীয় পাহাড় ও বনাঞ্চলের কারণে এই বন্দরটি সরাসরি সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের মারাত্মক আঘাত থেকে অনেকটা সুরক্ষিত থাকে, যা সারা বছর নিরাপদ বাণিজ্য পরিচালনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ভৌগোলিক সুবিধার পাশাপাশি এর সুবিস্তৃত ও সমৃদ্ধ পশ্চাদ্‌ভূমি বন্দরটির উন্নতিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। সমগ্র বাংলাদেশ এবং ভারতের কিছু অংশ এই বন্দরের পশ্চাদ্‌ভূমির অন্তর্গত, যা উন্নত সড়ক, নৌ ও রেলপথের মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত। কাঁচামালের সহজলভ্যতা ও বন্দরের নৈকট্যের কারণে চট্টগ্রাম ও এর আশেপাশের অঞ্চলে দেশের বৃহত্তম শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে, যা এই বন্দরকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক বলয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিশাল হাব তৈরি করেছে। ঘ. উদ্দীপকের মানচিত্রে 'খ' চিহ্নিত স্থানটি হলো রাজধানী ঢাকা, 'গ' চিহ্নিত স্থানটি হলো দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা এবং 'ঘ' চিহ্নিত স্থানটি হলো প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। দেশের প্রধান প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হওয়ায় ঢাকা থেকে মোংলা এবং চট্টগ্রাম—উভয় বন্দরের সাথেই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তবে এদের মাধ্যম ও কাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। ঢাকা ('খ') থেকে চট্টগ্রামের ('ঘ') যোগাযোগ ব্যবস্থা ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং বহুমুখী। এই রুটে একটি উন্নত চার লেনের জাতীয় মহাসড়ক (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক), একটি ব্যস্ত রেলপথ এবং দ্রুতগামী আকাশপথ বিদ্যমান। দেশের প্রায় নব্বই শতাংশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় এই রুটে প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী ভারী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল করে, যা এটিকে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম অর্থনৈতিক করিডোরে পরিণত করেছে। অন্যদিকে, ঢাকা ('খ') থেকে মোংলা বন্দরের ('গ') যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘকাল ধরে মূলত নৌপথ নির্ভর ছিল। প্রমত্তা পদ্মা নদীর কারণে সড়ক ও রেল যোগাযোগ সরাসরি ও নিরবচ্ছিন্ন ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে ঢাকা থেকে মোংলা বন্দরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে যাতায়াতের সময় বহুগুণ কমে গেছে এবং পণ্য পরিবহন অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হয়েছে। এছাড়া এই রুটে রেল সংযোগ স্থাপনের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটটি দীর্ঘদিনের সুপ্রতিষ্ঠিত, বহুমুখী এবং দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত যোগাযোগ মাধ্যম, যা শিল্পের কাঁচামাল ও তৈরি পোশাক পরিবহনে অবিরাম ব্যবহৃত হচ্ছে। এর বিপরীতে, ঢাকা-মোংলা রুটটি অতীতে অবহেলিত থাকলেও বর্তমান মেগা প্রকল্পগুলোর কল্যাণে এটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও দ্রুত বিকাশমান একটি রুটে পরিণত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের ওপর চাপ কমিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জাতীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2026)

ক.

বন্দর কাকে বলে?

খ.

পশ্চাদ্‌ভূমির বিস্তৃতি ও সমৃদ্ধি উন্নত বন্দর গঠনে সহায়ক ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত স্থানটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠার কারণ ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের 'খ' স্থান হতে 'গ' ও 'ঘ' স্থানের যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. স্থলবন্দর কী? খ. জাতীয় জনপদ বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর। গ. 'C' যোগাযোগ মাধ্যমটি পাহাড়ি এলাকায় গড়ে তোলা কঠিন হওয়ার কারণ ...

ক. পোতাশ্রয় কাকে বলে? খ. বন্দর গড়ে উঠার পিছনে পশ্চাদভূমির ভূমিকা ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত বন্দরটি গড়ে ওঠার ...

ক. শিল্পায়ন কী? খ. বাংলাদেশের শিল্পসমূহের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা কর। গ. উদ্দীপকে 'B' চিহ্নিত অঞ্চলে সমুদ্রবন্দর গড়ে ওঠার ভৌগ...

ক. বন্দর কী? খ. বাংলাদেশের বান্দরবান জেলায় রেলপথ গড়ে না ওঠার কারণ ব্যাখ্যা কর। গ. 'B' যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব ব্যাখ্যা...

ক. চিত্রের সেতুটি কোন নদীর উপর? খ. যমুনা সেতুতে কী কী ধরনের পথ আছে? গ. যমুনা সেতু উত্তরাঞ্চলের সাথে বাংলাদেশের রাজধানীর ...

ক. পায়রা সমুদ্রবন্দর কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় উন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভাব ব্যাখ্যা ক...

ক. পৌরসভার সড়কপথ বলতে কী বোঝ? খ. বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নাম লেখ। গ. চিত্রে দেখানো পথটি অর্থনীতিতে কীভাবে...

অন্যতম নদী মাতৃক ও সমুদ্র উপকূলবর্তী দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সড়ক পথের সহায়তায় দেশের সর্বত্র একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর ...

অল্প দূরত্ববিশিষ্ট স্থানের জন্য কোন বাহনটি বেশি কার্যকর?

আধুনিক যুগে পৃথিবীতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নতির ক্ষেত্রে যাতায়াত ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যা...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।