Facebook Pixel

মির্জা বংশের তালুকদার গোষ্ঠী ও সিকদার গোষ্ঠীর মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে। নিজ গ্রাম ও আশেপাশের গ্রামগুলো নিজেদের প্রভাববলয়ে নিয়ে আসার জন্য তারা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। নিজেদের প্রভাব ও শক্তি বৃদ্ধির জন্য নানা ধরনের চক্রান্ত অব্যাহত রাখলে অত্র অঞ্চলের মানুষ এক ধরনের আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করতে থাকে। ক. চীনে কত সালে কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়? খ. বার্লিন অবরোধ বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের দুটি বংশের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই পাঠ্যবইয়ের যে বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে তার ধারণা ব্যাখ্যা কর। ৩ ঘ. “দুটি বৃহৎ শক্তির মতাদর্শগত দ্বন্দ্বই উক্ত বিষয়টি সৃষ্টির মূল কারণ” পঠিত বিষয়ের আলোকে তোমার মতামত দাও।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ স্নায়ুযুদ্ধঃ পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব

উৎস: Test Exam Question SGC

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়। (খ) বার্লিন অবরোধ বলতে ১৯৪৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক পশ্চিম বার্লিনের সাথে মিত্রশক্তির স্থলপথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে বোঝায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জার্মানি ও বার্লিনকে চার ভাগে ভাগ করা হলে পশ্চিম বার্লিন মিত্রশক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে। সোভিয়েত ইউনিয়ন পশ্চিম বার্লিনকে নিজেদের প্রভাববলয়ে আনার লক্ষ্যে এই অবরোধ আরোপ করে। এর ফলে অবরুদ্ধ বার্লিনবাসীদের জন্য আকাশপথে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের মাধ্যমে মিত্রশক্তি সোভিয়েত অবরোধ মোকাবিলা করে, যা স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির একটি অন্যতম উদাহরণ। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত মির্জা বংশ ও সিকদার গোষ্ঠীর মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক লড়াই পাঠ্যবইয়ের 'স্নায়ুযুদ্ধ' (Cold War) ধারণাকে ইঙ্গিত করে। স্নায়ুযুদ্ধ হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার এক ধরনের আদর্শিক ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব। এই লড়াইয়ে সরাসরি কোনো সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে প্রচারযুদ্ধ, অর্থনৈতিক অবরোধ, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং প্রভাববলয় বিস্তারের প্রতিযোগিতা প্রধান হয়ে ওঠে। উদ্দীপকে যেমন দুটি গোষ্ঠী সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে নিজেদের প্রভাব ও শক্তি বৃদ্ধির জন্য চক্রান্ত ও মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে, ঠিক তেমনি স্নায়ুযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে বিশ্বব্যাপী নিজেদের পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল। ১৯৪৭ সালে মার্কিন অর্থনীতিবিদ বার্নার্ড বারুচ সর্বপ্রথম এই অবস্থাকে 'স্নায়ুযুদ্ধ' হিসেবে অভিহিত করেন। (ঘ) উদ্দীপকের উক্তিটি যথার্থ। দুটি বৃহৎ শক্তির মতাদর্শগত দ্বন্দ্বই স্নায়ুযুদ্ধ সৃষ্টির মূল কারণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন দুটি প্রধান পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুঁজিবাদী ও গণতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী ছিল, অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল সমাজতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী আদর্শের অনুসারী। এই বিপরীতমুখী আদর্শগত অবস্থানের কারণে তারা একে অপরের প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়ে। উদ্দীপকের দুটি গোষ্ঠী যেমন নিজ নিজ প্রভাববলয় বিস্তারের জন্য চক্রান্তে লিপ্ত ছিল, তেমনি স্নায়ুযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বকে নিজ নিজ ব্লকে বিভক্ত করার চেষ্টা করে। পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের বিস্তার রোধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 'ট্রুম্যান ডকট্রিন' ও 'মার্শাল প্ল্যান' গ্রহণ করে, যার বিপরীতে সোভিয়েত ইউনিয়নও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট, ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং আফগান সংকটের মতো ঘটনাগুলো এই মতাদর্শগত দ্বন্দ্বেরই বহিঃপ্রকাশ। পরিশেষে বলা যায়, এই দুই পরাশক্তির পারস্পরিক অবিশ্বাস, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং নিজ নিজ মতাদর্শের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের তীব্র আকাঙ্ক্ষাই স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম দিয়েছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের আগ পর্যন্ত এই দ্বন্দ্ব বিশ্ব রাজনীতিকে এক অস্থির ও আতঙ্কিত পরিস্থিতির মধ্যে রেখেছিল, যা উদ্দীপকের আতঙ্কের সাথে তুলনীয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Sirajganj Govt. College

মির্জা বংশের তালুকদার গোষ্ঠী ও সিকদার গোষ্ঠীর মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে। নিজ গ্রাম ও আশেপাশের গ্রামগুলো নিজেদের প্রভাববলয়ে নিয়ে আসার জন্য তারা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। নিজেদের প্রভাব ও শক্তি বৃদ্ধির জন্য নানা ধরনের চক্রান্ত অব্যাহত রাখলে অত্র অঞ্চলের মানুষ এক ধরনের আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করতে থাকে। ক. চীনে কত সালে কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়? খ. বার্লিন অবরোধ বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের দুটি বংশের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই পাঠ্যবইয়ের যে বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে তার ধারণা ব্যাখ্যা কর। ৩ ঘ. “দুটি বৃহৎ শক্তির মতাদর্শগত দ্বন্দ্বই উক্ত বিষয়টি সৃষ্টির মূল কারণ” পঠিত বিষয়ের আলোকে তোমার মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

beginarray|l|c| hline textbf'ক' রাষ্ট্র & textbf'খ' রাষ্ট্র hline textপুঁজিবাদী আদর্শে বিশ্বাসী & textকমিউনিজম আদর্শে ব...

‘NATO’ এর পূর্ণরূপ কী ?

NATO সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

SEATO কত খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয় ?

আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে বন্ধুর দ্বন্দ্ব। লেগে যায়। স্বপন ও সুদীপ্তর ক্ষেত্রে সেটিই ঘটেছিল। স্বপন সাম্...

আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে বন্ধুর দ্বন্দ্ব লেগে যায়। স্বপন সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের অনুসারী। অপরদিকে, স...

আধিপত্য বিস্তার ও কিছু আদর্শগত বিরোধকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ী ইউনিয়নের দুটি গ্রামের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও সাংঘর্ষিত পরিস্...

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি দেশের মধ্যে প্রবল যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দেয়। আগে থেকেই তাদের মধ্যে মতাদর্শগত দ্বন্দ্...

ইনকিলাব একটি দেশের রাজনৈতিক সংগঠন। এ সংগঠনের আদর্শ বিশ্বাসীরা তাদের দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও দর্শন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে...

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি বিবদমান রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্রের সংঘাত আরব-ইসরায়েল সংঘাত নামে পরিচিত। এ সংঘাতে দেশি-বিদেশি অ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।