Facebook Pixel

মায়ানমারের জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের শত বছরের সংস্কৃতিকে অস্বীকার করে জাতিগতভাবে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা করছে। রোহিঙ্গারা মাতৃভাষা ও বর্ণমালা ব্যবহার করে যাতে শিক্ষা গ্রহণ ও মনের ভাব প্রকাশ করতে না পারে সে জন্য রাষ্ট্র এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্যকে যেনো বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে না পারে তাই তাদের জোরপূর্বক নিজভূমি থেকে উচ্ছেদ করে বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত জাতিতে পরিণত করেছে। ক. যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন কত সালে হয়েছিল? খ. শহিদ মিনার নির্মাণের উদ্দেশ্য কী ছিল? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি তোমার পঠিত কোন বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে উক্ত আন্দোলনের প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ বাংলার ইতিহাস (পাকিস্তান আমল)

উৎস: Board Exam Question MSB 2023, Board Exam Question Combined 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন হয়েছিল। (খ) ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁদের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে এদেশের ভাষাসৈনিকেরা বাংলা ভাষার মর্যাদা লাভের দাবিতে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে ঢাকার রাজপথে মিছিল বের করেন। পুলিশ ওই মিছিলের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছোড়ে, যার ফলে রফিক, বরকত, শফিক, জব্বার, সালাম প্রমুখ শহিদ হন। তাঁদের এই মহান আত্মত্যাগের স্মরণে ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রথম শহিদ মিনারের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালে বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর ১৯৫৭ সালে শিল্পী হামিদুর রহমানের নকশায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৯৬৩ সালের শুরুর দিকে এর কাজ শেষ হয়। প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি এ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে এদেশের লাখো মানুষ ভাষাশহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। (গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে এবং বাঙালির হাজার বছরের সাহিত্য ও সংস্কৃতি নির্মূল করার অপপ্রয়াস চালায়। বিশেষ করে ভাষার ক্ষেত্রে এই বৈষম্য এদেশবাসীকে তীব্র আন্দোলন করতে বাধ্য করে, যার ফলে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়। উদ্দীপকেও অনুরূপ একটি পরিস্থিতির ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের শত বছরের সংস্কৃতিকে অস্বীকার করে জাতিগতভাবে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা করছে। রোহিঙ্গারা যাতে মাতৃভাষা ও বর্ণমালা ব্যবহার করে শিক্ষা গ্রহণ ও মনের ভাব প্রকাশ করতে না পারে, সেজন্য রাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে বাধা দিয়ে তাদের নিজভূমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ১৯৪৭ সালের পর একই চিত্র দেখা গিয়েছিল। পাকিস্তানের শাসনক্ষমতা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানিদের হাতে এবং তারা পূর্ব বাংলার বাঙালিদের সাথে অমানবিক আচরণ করে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করে। এই লক্ষ্যে তারা পাকিস্তানের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দিতে চায়। বাঙালিরা বুঝতে পারে যে, মাতৃভাষা হারিয়ে গেলে তাদের সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। তাই তারা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে, যা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত রূপ নেয়। এই আন্দোলনে রফিক, শফিক, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন এবং শেষ পর্যন্ত বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত রোহিঙ্গাদের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি ধ্বংসের চেষ্টা বাঙালি জাতির ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয়। (ঘ) বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে ভাষা আন্দোলনের প্রভাব অপরিসীম। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন একটি অনন্য ঐতিহাসিক ঘটনা। জাতিসত্তার মৌলিক উপাদান রক্ষায় এমন ব্যাপক ও তাৎপর্যপূর্ণ আন্দোলনের নজির ইতিহাসে বিরল। এই আন্দোলনের উদ্দীপনাই বাংলার পরবর্তী সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল। ভাষা আন্দোলন পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটায়। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি সর্বপ্রথম নিজেদের স্বতন্ত্র সত্তা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। পূর্ব বাংলায় স্বাধিকারের চিন্তা-চেতনার আত্মপ্রকাশ ঘটে, যা পরবর্তীকালে প্রতিটি গণ-আন্দোলনে প্রেরণা যোগায় এবং মানুষের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির পথকে সুগম করে। বাঙালি জাতীয়তাবাদের এই প্রেরণায় উদ্দীপ্ত হয়ে বাঙালি জাতি ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক নির্বাচনে শাসক দল মুসলিম লীগের বৈষম্যমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রথম সফল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে পূর্ব বাংলার মানুষ এরপর ১৯৬২ সালের ছাত্র আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে স্বাধিকারের প্রশ্নে পশ্চিম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। এই ধারাবাহিকতা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে, যার ফলে বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ফলে বাঙালির মধ্যে যে অদম্য জাতীয়তাবোধ তৈরি হয়, তা পরবর্তী সকল আন্দোলন পরিচালনায় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenMymensingh Board (2023)Combined Board (2023)

মায়ানমারের জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের শত বছরের সংস্কৃতিকে অস্বীকার করে জাতিগতভাবে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা করছে। রোহিঙ্গারা মাতৃভাষা ও বর্ণমালা ব্যবহার করে যাতে শিক্ষা গ্রহণ ও মনের ভাব প্রকাশ করতে না পারে সে জন্য রাষ্ট্র এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্যকে যেনো বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে না পারে তাই তাদের জোরপূর্বক নিজভূমি থেকে উচ্ছেদ করে বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত জাতিতে পরিণত করেছে।

ক. যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন কত সালে হয়েছিল?

খ. শহিদ মিনার নির্মাণের উদ্দেশ্য কী ছিল? ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি তোমার পঠিত কোন বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকের আলোকে বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে উক্ত আন্দোলনের প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসরত বাঙালিরা প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের একটি বিশেষ দিন উদযাপন করেন। তারা দিনের শুরুতে 'আমার ভা...

আগরতলা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি কে ছিলেন?

আগরতলা মামলায় কতজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়?

'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' কত তারিখে পালিত হয়?

আফ্রিকার একটি দেশে এক সামরিক কর্মকর্তা ক্ষমতায় আসীন হন। ক্ষমতায় আসার পর তিনি গণতন্ত্র প্রবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দল গঠন কর...

“আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা, কলুষ আর লজ্জা সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখন্ড বস্ত্র মানবিক ; আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।”...

'আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা, কলুষ আর লজ্জা সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক; আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।' ক...

"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে-ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি?" ক. আবুল বরকত কে ছিলেন? খ. 'তমদ্দুন মজলিশ' কী? ব্যাখ্যা ...

একটি রাষ্ট্রের পাঁচটি প্রদেশের মধ্যে জনবহুল প্রদেশটি কেন্দ্রের নিকট থেকে নানা অগণতান্ত্রিক আচরণের শিকার হয়। উক্ত প্রদেশে...

এশিয়া মহাদেশের দেশটি উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল এ দু'অংশে বিভক্ত ছিল। উত্তরাঞ্চল ছিল প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। নেতৃত্বে ও ক...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।