Facebook Pixel

মারুফ গ্রামের একজন মেধাবী ছাত্র। সে তার বন্ধু সালামের কাছে জানতে পারে চিরদিনই সত্যের জয় ও মিথ্যার পরাজয় ঘটে। যেমন হয়েছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে। সে সময় সত্যের ধারক ও বাহক। মহানবি (সা.) মাত্র ৩১৩ জন সৈন্যের একটি ক্ষুদ্র বাহিনী নিয়ে কুরাইশদের ১০০০ সৈন্যের বিশাল বাহিনীকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়। সালামের কাছ থেকে এ ঘটনা শুনে মারুফ সত্যের ওপর অবিচল থাকার সংকল্প করে। ক. খন্দকের যুদ্ধে নবি (সা.) কোন সাহাবির পরামর্শে পরিখা খনন করেন? খ. আনসার ও মুহাজেরিন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধের সাথে তোমার পঠিত কোন যুদ্ধের মিল পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত যুদ্ধে জয়লাভ করতে না পারলে ইসলাম দুনিয়ার বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. খন্দকের যুদ্ধে নবি (সা.) সালমান ফারসির পরামর্শে পরিখা খনন করেন। খ. জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে যারা হিজরত করেন তাদেরকে ইসলামী ‍মুহাজির এবং যারা হিজরতকারীদের সর্বত্তোভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করেন তাদেরকে আনসার বলা হয়। মক্কা ইসলাম প্রচারের কারণে মহানবী (সাঃ) এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারীদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। এই কারণে আল্লাহর নির্দেশে মহানবী (সা) সহ আরো অনেকে জন্মভূমি ও আত্মীয়-স্বজনের মায়া কাটিয়ে মদিনায় গিয়ে হিজরত পালন করেন। এভাবে মদিনায় আশ্রয় নেওয়ার কারণে মুসলমানদের মহানবী (সাঃ) মহারিজ হিজরতকারী নামে অভিহিত করেন। আর যারা আশ্রয় দেন তাদেরকে তিনি আনসার সাহায্যকারী বলে ঘোষণা করেন। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধের সাথে আমার পঠিত বদরের যুদ্ধের মিল পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকের মারুফ গ্রামের একজন মেধাবী ছাত্র। সে তার বন্ধু সালামের কাছে জানতে পারে চিরদিনই সত্যের জয় ও মিথ্যার পরাজয় ঘটে। যেমন হয়েছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে। সে সময় সত্যের ধারক ও বাহক মহানবি (সা.) মাত্র ৩১৩ জন সৈন্যের একটি ক্ষুদ্র বাহিনী নিয়ে কুরাইশদের ১০০০ সৈন্যের বিশাল বাহিনীকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়। যা মহানবি (সা.)-এর বদরের যুদ্ধের অনুরূপ। মহানবি (সা.) ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় হিজরত করে মদিনা রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন করেন। কিন্তু মক্কার কুরাইশ নেতারা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে মদিনা রাষ্ট্রকে ও মুসলমানদের ধ্বংস করার জন্য মদিনা আক্রমণ করে। কুরাইশরা ১০০০ সৈন্যের বিশাল বাহিনী নিয়ে মদিনার দিকে যাত্রা করে। মহানবি (সা.) কাফিরদের আক্রমণের সংবাদ পেয়ে মাত্র ৩১৩ জন সাহাবি নিয়ে বদর প্রান্তরের কাফিরদের মোকাবিলা করেন। যা ইতিহাসে বদরের যুদ্ধ নামে পরিচিত। ৬২৪ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মার্চ বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে কাফিররা পরাজিত হয় এবং মুসলমানগণ বিজয়ী হয়। এ যুদ্ধে কুরাইশদের ৭০ জন নিহত হয় এবং ১৪ জন মুসলমান শহিদ হন। সুতরাং উদ্দীপকের যুদ্ধের সাথে পাঠ্যবইয়ের বদরের যুদ্ধের সাদৃশ্য রয়েছে। উভয় যুদ্ধই নতুন রাষ্ট্র গঠনে অনবদ্য ভূমিকা পালন করে। ঘ. উক্ত যুদ্ধ তথা বদরের যুদ্ধে জয়লাভ করতে না পারলে ইসলাম দুনিয়ার বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। মন্তব্যটি যথার্থ। বদরের যুদ্ধ ছিল মুসলমান ও অমুসলমানদের মধ্যে অস্তিত্ব রক্ষার জন্য জীবন-মরণ যুদ্ধ। এ যুদ্ধে মুসলমানরা জয়লাভ না করলে ইসলাম পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে যেত। এজন্য একে মীমাংসার যুদ্ধ বলা হয়। বদরের যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিজয়। এ যুদ্ধে মুসলমানদের জয়লাভ ছিল অজ্ঞতার বিরুদ্ধে জ্ঞানের বিজয়, অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের বিজয়, বেইমানের বিরুদ্ধে ইমানের বিজয়। এ যুদ্ধে ইসলাম ও পৌত্তলিকতার চূড়ান্ত মীমাংসা হয়ে যায়। এতে মুসলমানরা জয়লাভ করে এবং তাদের শক্তি, সাহস ও উদ্দীপনা বৃদ্ধি পায়। ইসলামের মর্যাদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উন্নীত হয়। ফলে দলে দলে লোক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এর ফলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে আরব উপদ্বীপে ইসলাম সম্প্রসারিত হয়। এ যুদ্ধের মাধ্যমে মুহাম্মদ (সা.) তাঁর পার্থিব ক্ষমতার ভিত্তি স্থাপন করেন। এ যুদ্ধের পর মদিনায় মুসলমানদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। মুহাম্মদ (সা.) মদিনার রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে একক শক্তির অধিকার হন। বদরের যুদ্ধে জয়লাভের ফলে হযরত মুহাম্মদ (সা.) ৬২৭ খ্রি. খন্দকের যুদ্ধ, ৬২৮ খ্রি. হুদাইবিয়ার সন্ধি সন্ধি, ৬২৯ খ্রি. মৃত্যুর যুদ্ধ, ৬৩০ খ্রি. হুনায়েনের যুদ্ধ এবং মক্কা বিজয় ও ৬৩১. খ্রি. তাবুক অভিযানে সাফল্য লাভ করেন। এ যুদ্ধে জয়লাভ করায় মুসলমানদের জন্য পরবর্তী বিশ্বজয়ের পথ উন্মুক্ত হয়। পরিশেষে বলা যায়, বদরের যুদ্ধ মুসলমানদের সীমাংসাকারী বা ভাগ্য নির্ধারণী ছিল। এতে পরাজিত হলে মুসলমানরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মারুফ গ্রামের একজন মেধাবী ছাত্র। সে তার বন্ধু সালামের কাছে জানতে পারে চিরদিনই সত্যের জয় ও মিথ্যার পরাজয় ঘটে। যেমন হয়েছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে। সে সময় সত্যের ধারক ও বাহক। মহানবি (সা.) মাত্র ৩১৩ জন সৈন্যের একটি ক্ষুদ্র বাহিনী নিয়ে কুরাইশদের ১০০০ সৈন্যের বিশাল বাহিনীকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়। সালামের কাছ থেকে এ ঘটনা শুনে মারুফ সত্যের ওপর অবিচল থাকার সংকল্প করে।

ক.

খন্দকের যুদ্ধে নবি (সা.) কোন সাহাবির পরামর্শে পরিখা খনন করেন?

খ.

আনসার ও মুহাজেরিন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধের সাথে তোমার পঠিত কোন যুদ্ধের মিল পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উক্ত যুদ্ধে জয়লাভ করতে না পারলে ইসলাম দুনিয়ার বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদের উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রত...

ক. মদিনার পূর্বনাম কী ছিল? খ. মদিনা সনদকে বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান বলা হয় কেন? গ. উল্লিখিত ছকে মহানবি (স)-এর জীবনের ক...

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে আল-আমিন বলা হয়, কারণ তিনি-

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদে উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রতি...

অটোমান সুলতান বায়েজিদ অঙ্গোরার প্রান্তরে তৈমুর লঙ্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মোকাবিলা করেন। যুদ্ধে বায়েজিদ অনেক সৈন্য বিশ্বাস...

অমুসলিমদের থেকে প্রাপ্ত নিরাপত্তা করকে কী বলে

আকাবার প্রথম শপথ কত খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয়?

আকাবার প্রথম শপথে কত জন মদিনাবাসী ছিলেন?

আকাবার শপথ মোট কতবার অনুষ্ঠিত হয়?

আক্কাশ আলী তার এলাকার পথভ্রষ্টকারী মানুষের অত্যাচারের কারণে আপন লোকজন নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। বেশ কিছুদিন পরে প্রতিষ্ঠিত...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।