Facebook Pixel

মমতাকে “সমাজবিজ্ঞান সমিক্ষণ” গ্রন্থটি পড়তে দেখে তার পিতা বললেন, তুমি কি জানো? এই গ্রন্থের লেখক এর আক্রান্ত অক্লান্ত পরিশ্রমে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের সরব পথচলা শুরু হয়েছিল। মমতা বলল, বাবা এ কথা মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের বিদ্বান ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টায় সমাজবিজ্ঞান সমৃদ্ধ হয়েছে। ক. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম অধ্যক্ষ কে ছিলেন? খ. সমাজবিজ্ঞান একটি মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান - বুঝিয়ে লেখো। গ. বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রন্থের লেখকের ভূমিকা ও অবদান বর্ণনা কর। ঘ. তুমি কি মমতার মতামতের সাথে একমত? উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনদহ বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার বিকাশ

উৎস: Board Exam Question RB 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন ফরাসী সামাজিক নৃবিজ্ঞানি ড. পিয়েরি বেসাইনি। খ. সমাজ বিশ্লেষণে নিরপেক্ষতা অবলম্বন করে বলে সমাজবিজ্ঞানকে মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান বলে। বিজ্ঞানের প্রধান ধর্ম হল নৈতিকতার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা অবলম্বন করা। সমাজবিজ্ঞানও সামাজিক ঘটনা বিচার বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে। তাই সমাজবিজ্ঞানকে মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান বলা হয়। গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত গ্রন্থের লেখক অধ্যাপক ড. এ. কে. নাজমুল করিম। বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে তার ভূমিকা ও অবদান নিম্নে বর্ণনা করা হলো : উদ্দীপকের মমতা সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ গ্রন্থটি পড়ছিল। এই গ্রন্থটির লেখক অধ্যাপক ড. এ. কে. নাজমুল করিম। তার প্রচেষ্টার ফলেই বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন শুরু হয়। ১৯৫৪ সালে ইউনেস্কো বিশেষজ্ঞ ও সামাজিক নৃবিজ্ঞানী অধ্যাপক বাংলাদেশ ক্লদ লেভি স্ট্রস বাংলাদেশে সফরে আসলে অধ্যাপক ডক্টর এ কে নাজমুল করিম এবং অধ্যাপক অজিত কুমার সেন তার সাথে দেখা করেন। এ সময় তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইউনেস্কোর সহযোগিতা কামনা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান নামে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠায় এ. কে. নাজমুল করিমের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। অধ্যাপক নাজমুল করিম প্রথম বাঙালি চিন্তাবিদ হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের উপর একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনা করেন। তার লিখিত Changing Society in India, Pakistan, Bangladesh গ্রন্থটি এখনো সমাজবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক পুস্তক হিসেবে সবার কাছে সমাদৃত। এছাড়াও তিনি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ক The Dynamics of Bangladesh, সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করেন। অধ্যাপক নাজমুল করিমে নিজের এবং তার ছাত্র-ছাত্রীদের ঐকান্তিক সাধনার ফলেই এদেশে সমাজবিজ্ঞানের পঠন পাঠন ও আলোচনা বিস্তৃতি লাভ করেছে। সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে বিভাগীয় জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, মনোগ্রাফ লেখার ব্যবস্থা, গ্রামীণ প্রশ্নমালা পূরণের কার্যক্রম সবই তার অবদান। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের সমাজ বিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে অধ্যাপক নাজমুল করিমের অবদান অপরিসীম। ঘ. “বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের বিদ্বান ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টায় সমাজবিজ্ঞান সমৃদ্ধ হয়েছে।” মমতার এই মতামতের সাথে আমি একমত। নিম্নে এর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনসহ বাংলাদেশের সমাজ বিজ্ঞানের বিকাশধারা বিশ্লেষণ করা হলো: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন শুরু হয়। এর পটভূমিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা বিভাগের শিক্ষক ও অন্যান্য বিজ্ঞান ব্যক্তির লেখা সমাজচিন্তা মূলক নিবন্ধ, গ্রন্থ এবং বিভাগীয় সেমিনারগুলোতে পাঠ করা মননশীল প্রবন্ধ ও বক্তৃতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশ ধারা ১৯৫৭ সালের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভের ফলে ত্বরান্বিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা হলে এ শাস্ত্রটি চর্চার পথ আরো প্রশস্ত হয়। ধীরে ধীরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান চর্চা লাভ করে। বর্তমানে এনসিটিবির অধীনে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদেরও সমাজবিজ্ঞান পড়ানো হয়। সমাজবিজ্ঞানের এই সাবলীল বিকাশ ধারায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকবৃন্দের গবেষণা ও অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত বিদ্বান ব্যক্তির রচনা প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের বিদ্বান ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টায় সমাজবিজ্ঞান সমৃদ্ধ হয়েছে - মন্তব্যটি যথার্থ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2021)

মমতাকে “সমাজবিজ্ঞান সমিক্ষণ” গ্রন্থটি পড়তে দেখে তার পিতা বললেন, তুমি কি জানো? এই গ্রন্থের লেখক এর আক্রান্ত অক্লান্ত পরিশ্রমে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের সরব পথচলা শুরু হয়েছিল। মমতা বলল, বাবা এ কথা মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের বিদ্বান ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টায় সমাজবিজ্ঞান সমৃদ্ধ হয়েছে।

ক.

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম অধ্যক্ষ কে ছিলেন?

খ.

সমাজবিজ্ঞান একটি মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান - বুঝিয়ে লেখো।

গ.

বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রন্থের লেখকের ভূমিকা ও অবদান বর্ণনা কর।

ঘ.

তুমি কি মমতার মতামতের সাথে একমত? উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনদহ বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।