ক.
সমাজকর্ম এক ধরনের সামাজিক বিজ্ঞান।
খ.
সমাজকর্ম একটি সক্ষমকারী প্রক্রিয়া। সমাজকর্ম সমাজের অসুবিধাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টিকে এমনভাবে সাহায্য করে যাতে তারা নিজেদের সম্পদ ও সামর্থ্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে সামাজিক ভূমিকা পালনের মাধ্যমে নিজেরাই নিজেদের সাহায্য করতে পারে। সমাজকর্মের সাহায্য মানে আর্থিক বা নগদ কোনোকিছু প্রদান নয় বরং ব্যক্তি ও দলকে তার কর্মপ্রচেষ্টার উন্নয়ন, সমস্যার সমাধান বা কাজের ব্যাপারে স্বাবলম্বী করে তোলা হতো। অর্থাৎ সমাজকর্মে মানুষকে কাজে সক্ষম করে তোলা হয় বলেই একে সক্ষমকারী প্রক্রিয়া বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত মিনা সমাজকর্ম বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।
সমাজকর্ম একটি পেশাদার সেবাকর্ম। মানবসেবা প্রদানকারী পেশা হিসেবে সমাজকর্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বহুমুখী এবং সূদূরপ্রসারী। লক্ষ্য হচ্ছে কোনোকিছু অর্জনের আশা, আর উদ্দেশ্য হচ্ছে অর্জনের জন্য চেষ্টা। সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সামাজিক ভূমিকা পালনের জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরের জনগণকে সক্রিয় ও সক্ষম করে তোলা এবং সমাজ হতে নানা অবাঞ্ছিত সমস্যা দূর করে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের ক্ষেত্র প্রস্তুতের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা। এ উদ্দেশ্যে সমাজকর্ম জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি নির্বিশেষে সব মানুষের ব্যক্তিগত দলীয় ও সমষ্টিগত সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে পরিকল্পিত উপায়ে কাঙ্ক্ষিত ও গঠনমূলক সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টিতে বদ্ধপরিকর। আধুনিক জটিল সমাজে জনগণকে সকল পরিবর্তিত অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য বিধান ও মানুষের সুপ্ত ক্ষমতার বিকাশ সাধনে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সমাজকর্ম বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে থাকে। সমাজকর্ম নিজস্ব সম্পদের ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে। তাই সম্পদের অপচয় রোধ করে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমাজকর্মের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। সমাজকর্ম জনগণের মধ্যে তাদের দায়িত্ব, কর্তব্য ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কাজ করে। ফলে প্রত্যেক মানুষ তার অধিকার সম্পর্কে সজাগ থাকে। সেই সাথে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি তার ভূমিকা কী হওয়া উচিত সে সম্পর্কে করণীয় কর্তব্য নির্ধারণ করতে পারে। সার্বিক বিশ্লেষণে বলা যায়, সমাজের সার্বিক কল্যাণই সমাজকর্মের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে সমাজকর্ম তার স্বতন্ত্র পদ্ধতি প্রয়োগ করে সামাগ্রিক কল্যাণ সাধনে চেষ্টা করে। আর এ কার্যক্রমে স্বতন্ত্র নীতিমালা ও মূল্যবোধের প্রতি যথার্থ দৃষ্টি দেওয়া হয়। তাই দেখা যায়, সমাজকর্ম উপর্যুক্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে সচেষ্ট থাকে।
ঘ.
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি সমাজকর্ম। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
আধুনিক সমাজের বিভিন্ন জটিল আর্থ-মনোসামাজিক সমস্যার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানের লক্ষ্যেই সমাজকর্মের অভ্যুদয়। বহুমুখী সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজকর্ম সমাজ ও মানুষের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মনীষী ফ্রিডল্যান্ডার ও এপট সমাজকর্মের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, “জনগণের সাহায্যার্থে আইন বা কর্মসূচি জানার চেয়ে সমাজকর্ম অধ্যয়ন অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তি, পরিবার, দল ও প্রতিষ্ঠান এবং সমষ্টি কীভাবে কাজ করে, তা জানার মধ্যে সমাজকর্ম পাঠের তাৎপর্য নিহিত।” সমাজকর্ম সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের ব্যক্তিগত, দলীয় ও সমষ্টির সমস্যাসহ নানা ধরনের সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য সম্ভাব্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রচেষ্টা চালায়। বিশেষ করে সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা, যেমন- দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, অজ্ঞতা, জনসংখ্যা স্ফীতি, বেকারত্ব, অপরাধ, কিশোর অপরাধ, মাদকাসক্তি, বস্তি সমস্যা, সন্ত্রাস প্রভৃতি মোকাবিলাতে সমাজকর্ম প্রতিকার, প্রতিরোধ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে, যা সমাজের অগ্রগতি সাধন এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি সমাজকর্ম সকল স্তরের জনগোষ্ঠীর বিশেষ করে পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য চাহিদাভিত্তিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে । তাই সংগত কারণে মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমাজকর্মের গুরত্ব অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি এবং সমস্যামুক্ত সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সকল মানুষের স্বনির্ভরতা অর্জন অত্যাবশ্যক। এ লক্ষ্যে সমাজকর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ সাধনে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে। ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা ছাড়া সমাজের সার্বিক কল্যাণ অসম্ভব। সমাজে ন্যায়বিচার থাকলে সামাজিক অসন্তোষ ও বৈষম্য হ্রাস পায় । এক্ষেত্রে সমাজকর্ম মানুষের অন্তর্নিহিত মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ, সম্পদের সুষম বন্টন ও মানবাধিকার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে একটি সুখী, সমৃদ্ধ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালায়। তাছাড়া জনগণের সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে বাস্তবমুখী সামাজিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার যথাযথ বাস্তবায়নে সমাজকর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।