Facebook Pixel

মধ্যযুগে ধর্মাশ্রিত ইউরোপের চার্চগুলো পুরোহিতদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হতো। চার্চের প্রধানরা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ক্ষমতাশীল হওয়ায় সাধারণ জনগণ তাদের কষ্টার্জিত সম্পদ চার্চের ভিতর গচ্ছিত রাখত। চার্চগুলো জমাকৃত সম্পদের কারণে বহিঃশত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হতো। ক. কিতাব-আল-হিন্দ গ্রন্থটির রচয়িতা কে? খ. ভিনসেন্ট স্মিথ ভারতবর্ষকে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' বলেছেন কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত চার্চগুলো বহিঃশত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাটির সাথে তোমার পঠিত কোন মন্দির অভিযানের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে উক্ত মন্দির অভিযানের কারণ ও ফলাফল বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) কিতাব-আল-হিন্দ গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন আল-বিরুনি। (খ) ভারতবর্ষে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, ধর্ম ও বর্ণের মানুষ বসবাস করার কারণে ব্রিটিশ ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ ভারতবর্ষকে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' বলেছেন। আদিবাসীদের পাশাপাশি প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আধুনিক যুগ পর্যন্ত বহু জাতিগোষ্ঠীর মানুষ ভারতে প্রবেশ করেছে। প্রাচীনকালে আর্য, দ্রাবিড়, পারসিক, গ্রিক, শক, কুষাণ, হুন এবং মধ্যযুগে আরব, তুর্কি, আফগান, মুঘল প্রভৃতি জাতি এদেশে এসেছে। এছাড়া আধুনিক যুগে পর্তুগিজ, ইংরেজ, ফরাসি প্রভৃতি ইউরোপীয় বণিকগোষ্ঠীর আগমনের ফলে ভারতবর্ষ বহু জাতিগোষ্ঠীর মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই বৈচিত্র্যময় মানবগোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণেই ভিনসেন্ট স্মিথ ভারতবর্ষকে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' বলে অভিহিত করেছেন। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত চার্চগুলো বহিঃশত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাটির সাথে সুলতান মাহমুদের সোমনাথ মন্দির অভিযানের মিল রয়েছে। গজনির সুলতান মাহমুদ ভারতের বিপুল ধন-ঐশ্বর্যে প্রলুব্ধ হয়ে ১০০০-১০২৭ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে মোট ১৭ বার সেখানে অভিযান চালান। তার অভিযানসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য হলো সোমনাথ মন্দির বিজয়। গুজরাটের চালুক্য রাজ্যের কাথিওয়াড়ের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত সোমনাথ মন্দির ছিল প্রভূত ধনৈশ্বর্যে পরিপূর্ণ। এই বিপুল ধনরাজির সংবাদ পেয়ে ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান মাহমুদ সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত চার্চগুলোও অনুরূপভাবে সম্পদের কারণে বহিঃশত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হতো। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মধ্যযুগে ধর্মাশ্রিত ইউরোপের চার্চগুলো পুরোহিতদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হতো এবং চার্চের প্রধানরা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ক্ষমতাশালী হওয়ায় সাধারণ জনগণ তাদের কষ্টার্জিত সম্পদ চার্চের ভিতর গচ্ছিত রাখত। এই জমাকৃত সম্পদের কারণে চার্চগুলো বহিঃশত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হতো। একই উদ্দেশ্যে সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করা হয়। পুরোহিতদের দ্বারা পরিচালিত সোমনাথ মন্দিরটি বিপুল ধনসম্পদে পরিপূর্ণ ছিল। ধনসম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সুলতান মাহমুদ সোমনাথ মন্দিরে অভিযান প্রেরণ করেন। পুরোহিতদের ধারণা ছিল যে, এই মন্দির বিজয় মাহমুদের সাধ্যের বাইরে। কিন্তু তিনি তাদের বিশ্বাস ভেঙে দিয়ে মন্দিরে স্থাপিত ৩০০ দেব-দেবীর মূর্তি চূর্ণ-বিচূর্ণ করেন। গুজরাটের রাজা ভীম দেবের নেতৃত্বে হিন্দুরা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তারা পরাজিত হয়। গজনির সুলতান মাহমুদ সোমনাথ মন্দির বিজয়ের পর দুই কোটিরও বেশি স্বর্ণমুদ্রা ও দুইশ মণ মূল্যবান মণি-মুক্তা নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যান। সুতরাং দেখা যায়, সুলতান মাহমুদের সোমনাথ মন্দির অভিযানের সাথে উদ্দীপকের চার্চ আক্রমণের সাদৃশ্য রয়েছে। (ঘ) উদ্দীপকের আলোকে উক্ত মন্দির অর্থাৎ সোমনাথ মন্দির অভিযানের প্রধান কারণ ছিল অর্থনৈতিক এবং এর ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। সুলতান মাহমুদ ছিলেন একজন সাহসী ও সমরপ্রিয় বীর। তিনি ১০০০ থেকে ১০২৭ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ঐশ্বর্যপূর্ণ ভারতে মোট সতেরো বার অভিযান চালিয়ে বিস্ময়করভাবে প্রত্যেকবারই জয়লাভ করেন। এগুলোর মধ্যে সোমনাথ মন্দির বিজয় (তার ১৬তম অভিযান) ছিল সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। মাহমুদ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রভৃতি কারণে ভারতে এই অভিযান পরিচালনা করেন। তবে অনেক ঐতিহাসিক তার এই অভিযানের প্রধান কারণ হিসেবে সম্পদের প্রতি মোহকে দায়ী করেন। ভারতের তৎকালীন চালুক্য রাজ্যের (বর্তমান গুজরাট অঞ্চল) কাথিওয়াড় উপকূলে অবস্থিত সোমনাথ মন্দির প্রচুর ধনরত্ন আর মূর্তি-বিগ্রহাদিতে পরিপূর্ণ ছিল। ঐতিহাসিক বিবরণ মতে, এই মন্দির বিজয় সুলতান মাহমুদের সাধ্যের বাইরে ছিল বলে পুরোহিতরা মনে করতেন। তবে মাহমুদ ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে সোমনাথের দ্বারে পৌঁছে সফলভাবে মন্দিরটি জয় করেন। রাজা ভীমদেবের নেতৃত্বে স্থানীয় জনসাধারণ ও মন্দিরের পুরোহিতরা প্রবল বাধা দিলেও তারা সুলতানের বাহিনীর কাছে পরাজিত হন। এই মন্দির থেকে সুলতান মাহমুদ দু'কোটি স্বর্ণমুদ্রা এবং দু'শ মণ অলংকার সংগ্রহ করেন। ঐতিহাসিক ড. ঈশ্বরী প্রসাদ বলেন, 'সোমনাথ বিজয় মাহমুদের ললাটে নতুন বিজয়ের গৌরবচিহ্ন সংযুক্ত করে।' এই বিজয় তাকে মুসলমানদের অনেকের কাছে একজন মহানায়করূপে চিহ্নিত করে। পরিশেষে বলা যায়, অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত সোমনাথ মন্দির অভিযানের ফলে সুলতান মাহমুদ অগণিত ধনরত্ন ও ঐশ্বর্য-বৈভব লাভ করেন এবং তা দ্বারা তিনি স্বীয় গজনি সাম্রাজ্যকে সমৃদ্ধিশালী ও গৌরবান্বিত করে গড়ে তোলেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মধ্যযুগে ধর্মাশ্রিত ইউরোপের চার্চগুলো পুরোহিতদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হতো। চার্চের প্রধানরা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ক্ষমতাশীল হওয়ায় সাধারণ জনগণ তাদের কষ্টার্জিত সম্পদ চার্চের ভিতর গচ্ছিত রাখত। চার্চগুলো জমাকৃত সম্পদের কারণে বহিঃশত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হতো।

ক. কিতাব-আল-হিন্দ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?

খ. ভিনসেন্ট স্মিথ ভারতবর্ষকে 'নৃতত্ত্বের জাদুঘর' বলেছেন কেন?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত চার্চগুলো বহিঃশত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাটির সাথে তোমার পঠিত কোন মন্দির অভিযানের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকের আলোকে উক্ত মন্দির অভিযানের কারণ ও ফলাফল বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অটোমান সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুলতান উসমানের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এশিয়া মাইনরে বিদ...

অটোমান সিংহাসনে আরোহণ করে সুলতান সুলেমান সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী গঠন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধি ও সীমান্ত অঞ্চলের নির...

অটোমান সুলতান অরখান জেনিসারি বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব রাজ্য থেকে অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করে তি...

অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ইউরোপীয় রাষ্ট্রবর্গের সম্মিলিত শক্তির নেতৃত্বদানকারী হাঙ্গেরির বিখ্যাত সেনাপতি হুনিয়াদির কাছ...

আফ্রিকার একটি উপজাতি সূর্য দেবতার মন্দিরকে সবচেয়ে নিরাপদ ও শক্তির আধার মনে করে তাদের সকল ধন-সম্পদ যেখানে গচ্ছিত রাখে। তা...

আরব কর্তৃক সিন্ধু বিজিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?

আরবদের সিন্ধু আক্রমণের পরোক্ষ কারণ ছিল- i. দেবল বন্দরে জলদস্যুদের জাহাজ লুণ্ঠন ii. সীমান্তের নিরাপত্তা বিধান iii. পারস্য...

'আরবদের সিন্ধু বিজয় একটি নিষ্ফল উপাখ্যান'- উক্তিটি কার?

আলাউদ্দিন হোসেনকে 'জাহানসুজ' বলার কারণ- i. গজনি অধিকার ii. হিরাত অধিকার iii. উক্ত নগরী ধ্বংস সাধন নিচের কোনটি সঠিক?

আহমদ শাহ ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে সিরহিন্দ আক্রমণ করেন। কিন্তু সিরহিন্দের শাসক মইন-উল-মুলক মানপুরের প্রথম যুদ্ধে তাকে পরাজিত কর...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।