Facebook Pixel

মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষা রূপে প্রতিষ্ঠা করতে বাংলার গণমানুষ এবং ছাত্রদের বুকের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস বিশ্বে নজিরবিহীন। ভাষা আন্দোলনে পূর্ব বাংলার ছাত্র সমাজের পাশাপাশি ছাত্রীদের ভূমিকাও ছিলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকেই পূর্ব - বাংলার সকল আন্দোলনের সূতিকাগৃহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ছাত্রদের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে ভাষা আন্দোলনকে গতিশীল ও তীব্রতর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ক. বর্ধমান হাউস বর্তমানে কী নামে পরিচিত ? খ. মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য কী ? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ব্যাখ্যা করো । ঘ. ভাষা আন্দোলনে নারী সমাজের ভূমিকা আলোচনা করো ।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ পাকিস্তানি আমলে বাংলা ভাষা আন্দোলন ও এর গতি প্রকৃতি

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বর্ধমান হাউস বর্তমানে বাংলা একাডেমি নামে পরিচিত খ. মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য অপরিসীম। কেননা এ দিবস পৃথিবীর সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মাতৃভাষার অধিকার ও মর্যাদার স্বীকৃতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয় । বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য ১৯৫২ সালে বাঙালিরা প্রাণ উৎসর্গ করেছিল। এর স্বীকৃতিস্বরূপ UNESCO ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মাধ্যমে মাতৃভাষার চিরন্তন আবেদনকে বিশ্ববাসী স্বীকার করে নেয় এবং বাংলাদেশের অহংকার বাঙালির ভাষা বিশ্বসভায় আসন করে নেয়। এ কারণেই মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য অপরিসীম। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনটি হলো ১৯৫২ ' র ভাষা আন্দোলন। এ আন্দোলনের একটা দীর্ঘ পটভূমি রয়েছে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী প্রশাসনিক , অর্থনৈতিক , রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিকসহ সব ক্ষেত্রে পূর্ব বাংলার জনগণের অধিকার হরণ করে আসছিল। পাকিস্তানের জনগোষ্ঠীর , ৫৬ . ৪০ শতাংশ মানুষের মুখের ভাষা ছিল বাংলা। তবুও মাত্র ৩ . ২৭ শতাংশ জনগোষ্ঠীর ভাষা উর্দুকে তারা একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ছাত্র - জনতার মধ্য থেকে এর বিরুদ্ধে তীব্র - প্রতিবাদ গড়ে ওঠে। ফলে সারা দেশে এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয় এবং সব ধরনের শোভাযাত্রা , মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ এক পর্যায়ে গুলিবর্ষণ করে। এতে শহিদ হন সালাম , বরকত , রফিক , জব্বার এবং শ্রমিক আওয়ালসহ নাম না জানা আরো অনেকে। এ আন্দোলনই ছিল বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার ভিত্তি। পরবর্তীতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যতই ষড়যন্ত্র - নির্যাতন বাড়াতে থাকে ততই এ জাতীয়তাবাদী চেতনা বৃদ্ধি পেতে থাকে , যা একপর্যায়ে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার স্বাদ এনে দেয় ৷ ঘ. ভাষা আন্দোলনে নারী সমাজের সক্রিয় ভূমিকা ছিল । ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে নারী সমাজের ভূমিকাও কম নয় । বিশেষ করে সেকালের রক্ষণশীল সমাজের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তারা যেভাবে মিছিল - সমাবেশ করেছিলেন তা ওই নারীদের অসাধারণ দেশপ্রেম ও সাহসেরই পরিচয় বহন করে। ভাষা আন্দোলনের সময় নারীরা শুধু মিছিলেই যোগ দেননি , আহত ছাত্রদের চিকিৎসার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তুলেছেন , ছাত্রদের পুলিশি গ্রেপ্তার - নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে তাদের নিজেদের বাসা - বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছেন। কেউবা কারাগারে বন্দি ছাত্রদের জন্য খাবার সংগ্রহ করেছেন। শহিদ মিনার গড়ার জন্য প্রায় সারারাত ধরে ইট বহন করেছিলেন মেয়েরা । ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নারীদের মধ্যে ছিলেন এদেশের নারী আন্দোলনের অগ্রপথিক কবি বেগম সুফিয়া কামাল। আন্দোলনের অনেক কর্মীর সঙ্গে তার ছিল নিবিড় যোগাযোগ। মুনীর চৌধুরীর বোন ‘ ভাষাকন্যা ' নাদেরা বেগম পুলিশের ঘেরাও থেকে আত্মগোপন করে সুফিয়া কামালের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেন। মেডিকেল ছাত্রী হালিমা খাতুন ছিলেন ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা রাখা আরেক মহীয়সী নারী। তার ওপর মুসলিম গার্লস স্কুল থেকে মেয়েদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় আসার দায়িত্ব ছিল। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৪৪ ধারা ভাঙতে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার দলই ছিল মেয়েদের প্রথম দল । বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে ঢাকার বাইরের যে নারীদের ভূমিকার কথা জানা যায় , তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মমতাজ বেগম। ভাষা আন্দোলনের মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের মর্গান হাইস্কুলের ৩০০ ছাত্রী নিয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি মিছিল বের করেছিলেন স্কুলটির প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ বেগম। অন্যদিকে খুলনার স্কুলছাত্রী হামিদা খাতুন নারীদের ঐক্যবদ্ধ করে ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হন। ভাষা আন্দোলনে আরো যেসব নারীর ভূমিকা ছিল তাদের অন্যতম সিলেটের যোবেদা খাতুন চৌধুরী। তাকে সহযোগিতা করেছিলেন শাহেরা বানু , সৈয়দা লুৎফুন্নেসা , সৈয়দা নজিবুন্নেসা খাতুন , প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন প্রমুখ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষা রূপে প্রতিষ্ঠা করতে বাংলার গণমানুষ এবং ছাত্রদের বুকের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস বিশ্বে নজিরবিহীন। ভাষা আন্দোলনে পূর্ব বাংলার ছাত্র সমাজের পাশাপাশি ছাত্রীদের ভূমিকাও ছিলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকেই পূর্ব-বাংলার সকল আন্দোলনের সূতিকাগৃহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ছাত্রদের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে ভাষা আন্দোলনকে গতিশীল ও তীব্রতর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ক.

বর্ধমান হাউস বর্তমানে কী নামে পরিচিত?

খ.

মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য কী?

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ব্যাখ্যা করো ।

ঘ.

ভাষা আন্দোলনে নারী সমাজের ভূমিকা আলোচনা করো ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Z ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের দুঃশাসনের প্রতিকারকল্পে জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে আরও কয়েকজন একত্রিত হয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউনি...

boxedmathbf~ক~ সংবিধান রচিত হয় ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে । boxedmathbf~খ~ তমদ্দুন মজলিস হলো ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গঠিত প...

ক. একুশ নিয়ে প্রথম কবিতার নাম কী? খ. তমদ্দুন মজলিস কী? গ. উদ্দীপকের ছবি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ...

ক. একুশ নিয়ে প্রথম কবিতার নাম কী? খ. তমদ্দুন মজলিশ কী? গ. উদ্দীপকের ছবি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনকে ইঙ্গিত করে? ব্য...

“এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার তলায়........ সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি।&...

“ওরা আমার মুখের কথা কাইড়া নিতে চায়। ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে পায়।” ক. বঙ্গভঙ্গ রদ হয় কত সালে?...

“ওরা আমার মুখের কথা কাইড়া নিতে চায়। ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে পায়।” ক. পাকিস্তানের সংবিধান রচি...

“ নানা দেশের নানা ভাষা ; বিনা স্বদেশি ভাষা পুরে কি আশা ? কত নদী সরোবর কি বা ফল চাতকীয় ধরাজল বিনে কভু ঘটে কী তৃষ্ণ...

উক্ত দিবসটি নিচের কোন সালের সাথে সম্পর্কিত?

নিচের কোন ভাষাশহিদের বাড়ি ফেনি জেলায়?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।