Facebook Pixel

মওলানা নূরুল ইসলাম সাহেবের সঙ্গে তার এলাকার বিধর্মী লোকদের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে তাদের জ্বালাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি শহরে চলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। কয়েক বছর পর তিনি তার এলাকায় ফিরে আসতে চাইলে এলাকার বিধর্মী লোকেরা তার গতিরোধ করে দাঁড়ায়। ফলে তাদের সঙ্গে 'একটি সন্ধি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সন্ধিমতে তিনি পরের বছর বিশাল গাড়িবহর নিয়ে জাতীয় নেতারূপে বীরদর্পে তার এলাকায় আসেন। ক. খন্দক যুদ্ধ কখন সংঘটিত হয়? খ. উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের বিপর্যের প্রধান কারণ কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের সন্ধির সাথে ইসলামের ইতিহাসের কোন সন্ধির মিল পাওয়া যায়? আলোচনা কর। ঘ. উদ্দীপকে যে সন্ধির নির্দেশনা পাওয়া যায়, তার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. খন্দক যুদ্ধ ৬২৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়। খ. উহুদের যুদ্ধে মুসলমানদের পরাজয়ের মূল কারণ ছিল নেতার আদেশ অমান্য করা। উহুদের যুদ্ধে মহানবি (সা.) ৫০ জনের তীরন্দাজ একটি দলকে আইনাইন পাহাড়ের মধ্যবর্তী গিরিপথে নিযুক্ত করেন। যুদ্ধের একপর্যায়ে কাফিররা পরাজিত হয়ে পলায়ন করতে থাকে। এমন সময় তীরন্দাজ দলটি তাদের অবস্থান ত্যাগ করে। ফলে কাফিররা পিছন থেকে পুনরায় আক্রমণ করে মুসলমানদের পরাজিত করে। তাই দেখা যায়, নেতার আদেশ অমান্য করে তারা যদি পাহাড় ত্যাগ না করত তাহলে মুসলমানরা পরাজিত হতো না। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত চুক্তির সাথে মহানবি (সা.)-এর গৃহীত হুদাইবিয়ার চুক্তির সাদৃশ্য রয়েছে। মহানবি (সা.) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরত করে ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত করার ৬ বছর পর উমরা হজ পালন ও মাতৃভূমি মক্কা পরিদর্শনের জন্য ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে ১৪০০ সাহাবি নিয়ে মক্কার দিকে রওয়ানা হন। কুরাইশ নেতারা এ সংবাদে ইকরামার নেতৃত্বে মুসলমানদের বার্তা প্রদান করলে মহানবি (সা.) হুদাইবিয়া নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন। অতঃপর বহু ঘটনা পরিক্রমা ও আলাপ আলোচনার পর মহানবি (সা.) কুরাইশদের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন যা ইতিহাসে হুদাইবিয়ার চুক্তি নামে পরিচিত। এ চুক্তির মাধ্যমে মদিনা ও মক্কার মধ্যে শান্তি স্থাপিত হয় এবং একে অপরের আক্রমণের হুমকি থেকে মুক্ত হয়। এ সন্ধির মাধ্যমে কুরাইশরা মহানবি (সা.)-কে রাষ্ট্রপ্রধান ও ইসলামকে ধর্ম হিসেবে মেনে নেয়। তাছাড়া এ চুক্তির মাধ্যমে মদিনা নিরাপত্তা লাভকরলে ইসলাম প্রচার ও প্রসারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। এ সন্ধির গুরুত্ব বর্ণনা করে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে একে ফাতহুম মুবিন বা প্রকাশ্য বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উদ্দীপকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিন ও জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী আবদেল সালামের মধ্যে সম্পাদিত শান্তি চুক্তির সাথে মহানবি (সা.)-এর হুদাইবিয়ার সন্ধির সাদৃশ্য লক্ষণীয়। কেননা এ চুক্তির মাধ্যমে যেমন উভয় দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপিত হয় এবং পরস্পর পরস্পরের আক্রমণের হুমকি থেকে নিরাপত্তা লাভ করে তেমনি মদিনা সনদের মাধ্যমে মক্কা ও মদিনার মধ্যে শত্রুতার অবসান হয়ে শান্তি স্থাপিত হয়। সুতরাং উদ্দীপকের ১৯৯৪ সালের সম্পাদিত ইসরাইল-জর্ডানের শান্তি চুক্তির সাথে ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা ও মদিনার মধ্যে সম্পাদিত শান্তি চুক্তির সাদৃশ্য রয়েছে। ঘ. উদ্দীপকের শান্তি চুক্তির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হুদাইবিয়ার চুক্তিকে পবিত্র কুরআনে মহাবিজয় বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে- যা যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত। ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে সম্পাদিত হুদাইবিয়ার সন্ধির গুরুত্ব সুদূরপ্রসারী। এ সন্ধির মাধ্যমেই মক্কার কুরাইশরা ইসলামকে ধর্ম এবং মহানবি (সা.) কে মুসলমানদের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। হুদাইবিয়ার সন্ধির ফলে সমগ্র আরবের মানুষ 'মুসলমানদের সাথে মেলামেশার সুযোগ পেলে ইসলাম দ্রুত প্রসার লাভ করে। এ সন্ধির পরই দুজন বীরশ্রেষ্ঠ সেনাপতি আমর আল আস ও খালিদ বিন ওয়ালিদ ইসলাম গ্রহণ করেন। ঐতিহাসিক ইবনে হিশাম বলেন মুহাম্মদ (সা.) যেখানে ১৪০০ সাহাবি নিয়ে হুদাইবিয়া গিয়েছিলেন। সেখানে দুই বছর ১০ হাজার সাহাবি নিয়ে মক্কা বিজয় করেন। হুদাইবিয়া থেকে ফিরে এসে মহানবি (সা.) পারস্যা, মিশর, আবিসিনিয়া, ইয়ামেন, ওমানসহ বিভিন্ন দেশের রাজাদের নিকট ইসলামের দাওয়াতপত্র প্রেরণ করে। ফলে ইসলামের পরিচিত বিশ্বময়তা লাভ করে। হযরত আবু বকর (রা.) বলেন, "হুদাইবিয়া সন্ধির ফলে আমরা যেরূপ জয়ী হয়েছিলাম, সেরূপ কখনই হয়নি।” সৈয়দ আমীর আলী বলেন, বিশ্বাসীদের গভীর আত্মসংযম ও সন্ধির প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন ইসলামের শত্রুদের মনে গভীর রেখাপাত করে। তাই আল্লাহ এ সন্ধির গুরুত্ব ও তাৎপর্য এবং সুদূরপ্রসারী ফলাফল বর্ণনা করে পবিত্র কুরআনে একে ফাতহুম মুবিন বা মহাবিজয় বলে আখ্যায়িত করেছেন। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ইসলাম প্রচার ও প্রসারে হুদাইবিয়ার সন্ধির কার্যকারিতায় একে মহাবিজয় বলে অভিহিত করা হয়েছে যা যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত হয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মওলানা নূরুল ইসলাম সাহেবের সঙ্গে তার এলাকার বিধর্মী লোকদের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে তাদের জ্বালাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি শহরে চলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। কয়েক বছর পর তিনি তার এলাকায় ফিরে আসতে চাইলে এলাকার বিধর্মী লোকেরা তার গতিরোধ করে দাঁড়ায়। ফলে তাদের সঙ্গে 'একটি সন্ধি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সন্ধিমতে তিনি পরের বছর বিশাল গাড়িবহর নিয়ে জাতীয় নেতারূপে বীরদর্পে তার এলাকায় আসেন।

ক.

খন্দক যুদ্ধ কখন সংঘটিত হয়?

খ.

উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের বিপর্যের প্রধান কারণ কী? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকের সন্ধির সাথে ইসলামের ইতিহাসের কোন সন্ধির মিল পাওয়া যায়? আলোচনা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে যে সন্ধির নির্দেশনা পাওয়া যায়, তার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদের উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রত...

ক. মদিনার পূর্বনাম কী ছিল? খ. মদিনা সনদকে বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান বলা হয় কেন? গ. উল্লিখিত ছকে মহানবি (স)-এর জীবনের ক...

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে আল-আমিন বলা হয়, কারণ তিনি-

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদে উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রতি...

অটোমান সুলতান বায়েজিদ অঙ্গোরার প্রান্তরে তৈমুর লঙ্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মোকাবিলা করেন। যুদ্ধে বায়েজিদ অনেক সৈন্য বিশ্বাস...

অমুসলিমদের থেকে প্রাপ্ত নিরাপত্তা করকে কী বলে

আকাবার প্রথম শপথ কত খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয়?

আকাবার প্রথম শপথে কত জন মদিনাবাসী ছিলেন?

আকাবার শপথ মোট কতবার অনুষ্ঠিত হয়?

আক্কাশ আলী তার এলাকার পথভ্রষ্টকারী মানুষের অত্যাচারের কারণে আপন লোকজন নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। বেশ কিছুদিন পরে প্রতিষ্ঠিত...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।