Facebook Pixel

ভারতের জাতীয় নির্বাচনে জোটবদ্ধ রাজনীতির সূচনা হয় ১৯৭৭ সালে ষষ্ঠ সাধারণ নির্বাচনে। এ নির্বাচনে ভারতীয় জনসংঘ, ভারতীয় লোকদল, সংগঠন কংগ্রেস ও সংযুক্ত সোশ্যালিস্ট পার্টিকে নিয়ে জনতা পার্টি গঠিত হয়েছিল। উক্ত নির্বাচনে মোরারজি দেশাইয়ের নেতৃত্বে, সংযুক্ত জোট 'জনতা পার্টি' ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসকে পরাজিত করে। কংগ্রেসের জনবিচ্ছিন্নতা ও জনতা পার্টির গ্রামীণ উন্নয়ন নীতি নির্বাচনে তাদের বিজয়ের প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হয়। ক. যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক কী ছিল? খ. ১৪ ডিসেম্বর বিখ্যাত কেন? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের ভারতের জোটবদ্ধ নির্বাচন পাকিস্তান আমলের কোন নির্বাচনকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. জাতীয় নির্বাচনে জনতা পার্টির বিজয়ের কারণ ও উক্ত জোটের বিজয়ের কারণ ছিল ভিন্ন- বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ বাংলার ইতিহাস (পাকিস্তান আমল)

উৎস: Board Exam Question BB 2021, Board Exam Question Combined 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিল নৌকা। (খ) ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকবাহিনী অনেক বুদ্ধিজীবীকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ কারণে ১৪ ডিসেম্বর বিখ্যাত। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাক-হানাদার বাহিনী বুঝতে পারে যে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। তখন তারা বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার এক নির্মম ধ্বংস খেলায় মেতে ওঠে। তারা লেখক, শিল্পী, অধ্যাপক, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও সংস্কৃতিকর্মীসহ অনেক খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং নির্মম অত্যাচার করে হত্যা করে। ঢাকার রায়ের বাজারসহ বিভিন্ন বধ্যভূমিতে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। এ কারণে ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে বিশেষ পরিচিত। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত ভারতের জোটবদ্ধ নির্বাচন পাকিস্তান আমলের ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনকে নির্দেশ করে। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে মুসলিম লীগ সরকার পূর্ব বাংলার জনগণের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করে। তাই পূর্ব বাংলার নেতৃবৃন্দ ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করে নিজেদের অধিকার আদায় করতে চায়। এজন্য তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। উদ্দীপকে ১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত ভারতের ষষ্ঠ সাধারণ নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে, যেখানে মোরারজি দেশাইয়ের নেতৃত্বে কয়েকটি দল মিলে 'জনতা পার্টি' গঠন করে এবং ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসকে পরাজিত করে। একইভাবে ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে একটি জোট গঠিত হয়েছিল, যার নাম ছিল যুক্তফ্রন্ট। এই জোটের শরিক দলগুলো ছিল: ১. মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, ২. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি, ৩. মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই-ইসলাম, ৪. হাজি মোহাম্মদ দানেশের বামপন্থি গণতন্ত্রী দল এবং ৫. আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন খিলাফত-ই-রাব্বানি। এই জোট ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে এবং আওয়ামী মুসলিম লীগের দলীয় প্রতীক নৌকাকে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ২৩৭টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসনে জয়লাভ করে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের নির্বাচনের মাধ্যমে ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনকেই তুলে ধরা হয়েছে। (ঘ) জাতীয় নির্বাচনে জনতা পার্টির বিজয়ের কারণ ও উক্ত জোট অর্থাৎ যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের কারণ ছিল ভিন্ন। মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের বেশিরভাগই ছিলেন ধর্মান্ধ ও এলিট শ্রেণিভুক্ত। তারা ছিলেন মূলত শহুরে এবং গ্রামাঞ্চলে জনবিচ্ছিন্ন। এই জনবিচ্ছিন্নতা মুসলিম লীগের পরাজয় ও যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের একটি বড় কারণ। উদ্দীপকের জনতা পার্টির জয়ের ক্ষেত্রেও কংগ্রেসের জনবিচ্ছিন্নতা একটি কারণ ছিল, তবে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পেছনে আরও অনেক গভীর ও মৌলিক কারণ ছিল। প্রথমত, মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে মধ্য, বাম ও ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলসমূহের ঐক্যজোট গঠিত হওয়ায় যুক্তফ্রন্টের শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয়ত, যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ছিল পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকারের দলিল, যা সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও প্রয়োজনীয় ছিল। ফলে মানুষ এই দফার প্রতি প্রবল সমর্থন জানায়। তৃতীয়ত, যুক্তফ্রন্টের নেতাদের অসামান্য যোগ্যতা ও দূরদৃষ্টি এবং ছাত্র-যুব সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। তারা মুসলিম লীগের শোষণের চিত্র এবং যুক্তফ্রন্টের কল্যাণকামী কর্মসূচি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। এছাড়া পাকিস্তান সৃষ্টির পর মুসলিম লীগ কিছু নেতার ব্যক্তিগত সংগঠনে পরিণত হয়, ফলে সাংগঠনিক দুর্বলতা, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ বেড়ে যায়। যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে সরকার পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় গণঅসন্তোষ সৃষ্টি হয়, যা যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পথ সুগম করে। পরিশেষে বলা যায়, জনতা পার্টির বিজয় মূলত একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির ফল হলেও যুক্তফ্রন্টের বিজয় ছিল দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে একটি গণঅভ্যুত্থানের প্রতিফলন। সুতরাং উভয় জোটের বিজয়ের কারণের মধ্যে স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2021)Combined Board (2021)

ভারতের জাতীয় নির্বাচনে জোটবদ্ধ রাজনীতির সূচনা হয় ১৯৭৭ সালে ষষ্ঠ সাধারণ নির্বাচনে। এ নির্বাচনে ভারতীয় জনসংঘ, ভারতীয় লোকদল, সংগঠন কংগ্রেস ও সংযুক্ত সোশ্যালিস্ট পার্টিকে নিয়ে জনতা পার্টি গঠিত হয়েছিল। উক্ত নির্বাচনে মোরারজি দেশাইয়ের নেতৃত্বে, সংযুক্ত জোট 'জনতা পার্টি' ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসকে পরাজিত করে। কংগ্রেসের জনবিচ্ছিন্নতা ও জনতা পার্টির গ্রামীণ উন্নয়ন নীতি নির্বাচনে তাদের বিজয়ের প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হয়।

ক. যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক কী ছিল?

খ. ১৪ ডিসেম্বর বিখ্যাত কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের ভারতের জোটবদ্ধ নির্বাচন পাকিস্তান আমলের কোন নির্বাচনকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. জাতীয় নির্বাচনে জনতা পার্টির বিজয়ের কারণ ও উক্ত জোটের বিজয়ের কারণ ছিল ভিন্ন- বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসরত বাঙালিরা প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের একটি বিশেষ দিন উদযাপন করেন। তারা দিনের শুরুতে 'আমার ভা...

আগরতলা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি কে ছিলেন?

আগরতলা মামলায় কতজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়?

'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' কত তারিখে পালিত হয়?

আফ্রিকার একটি দেশে এক সামরিক কর্মকর্তা ক্ষমতায় আসীন হন। ক্ষমতায় আসার পর তিনি গণতন্ত্র প্রবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দল গঠন কর...

“আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা, কলুষ আর লজ্জা সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখন্ড বস্ত্র মানবিক ; আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।”...

'আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা, কলুষ আর লজ্জা সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক; আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।' ক...

"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে-ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি?" ক. আবুল বরকত কে ছিলেন? খ. 'তমদ্দুন মজলিশ' কী? ব্যাখ্যা ...

একটি রাষ্ট্রের পাঁচটি প্রদেশের মধ্যে জনবহুল প্রদেশটি কেন্দ্রের নিকট থেকে নানা অগণতান্ত্রিক আচরণের শিকার হয়। উক্ত প্রদেশে...

এশিয়া মহাদেশের দেশটি উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল এ দু'অংশে বিভক্ত ছিল। উত্তরাঞ্চল ছিল প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। নেতৃত্বে ও ক...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।