Facebook Pixel

ভারতীয় উপমহাদেশে অতীতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় যে নগরগুলো গড়ে ওঠেছিল তা ছিল সুপরিকল্পিত। নগরগুলোতে নাগরিক জীবনের প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ - সুবিধা বিদ্যমান ছিল । অথচ বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ঢাকা অবস্থিত। এখানে অতীতের নগরগুলোর মতো অবস্থান দেখা যায় না। ক. লাঙলের ব্যবহার কোন যুগে শুরু হয়েছিল ? খ. প্রত্নতত্ত্বের কোন স্তরকে আধুনিক যুগের ভিত্তি বলা হয় এবং কেন ? বুঝিয়ে লেখ। গ. উদ্দীপকে কোন সভ্যতার কথা বলা হয়েছে ? তার আর্থসামাজিক অবস্থা ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে অতীতের নগরগুলোর মতো অবস্থান দেখা যায় না বলে কী বুঝেছ ? বিশ্লেষণ কর ।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ প্রত্নতত্ত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সমাজ ও সভ্যতা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. লাঙলের ব্যবহার প্রথম শুরু হয়েছিল নব্য প্রস্তর যুগে। খ. প্রত্নতত্ত্বের অন্যতম স্তর লৌহ যুগকে আধুনিক যুগের ভিত্তি বলা হয়। বর্তমান যুগে হাতিয়ার ও যন্ত্রপাতি প্রধানত লৌহনির্মিত 1 যানবাহন তৈরিতে লৌহ ব্যবহারের ফলে যানবাহন ব্যবস্থার প্রভৃত উন্নতি ঘটে। ঘরবাড়ি , আসবাবপত্র , বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি , রাস্তাঘাট , পুল নির্মাণে লোহার ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। লৌহ দ্বারা নির্মিত প্রেস ও অক্ষর আবিষ্কৃত হওয়ায় ছাপাশিল্পের অভূতপূর্ণ অগ্রগতি দেখা দেয়। মানবসভ্যতার অভাবনীয় উন্নতিতে লোহার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। এজন্য লৌহকে আধুনিক যুগের ভিত্তি বলা হয় । গ. উদ্দীপকে সিন্ধু সভ্যতার কথা বলা হয়েছে। সিন্ধু সভ্যতা হলো এশিয়ার প্রাচীনতম সভ্যতাগুলোর প্রায় সমযুগের , যা সিন্ধু নদীকে কেন্দ্র করে বিকাশ ও সমৃদ্ধি লাভ করেছিল। এ সভ্যতায় নগর জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ - সুবিধা বিদ্যমান ছিল। যেমন — নগরের রাস্তাগুলো ছিল বেশ প্রশস্ত , যার পাশে সারিবদ্ধ ল্যাম্পপোস্টের ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া এখানে উন্নত পয়ঃপ্রণালি , সুশৃঙ্খল প্রশাসন , উন্নত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান , শক্তিশালী সরকার প্রভৃতি সুবিধা বিদ্যমান ছিল। উদ্দীপকের দ্বারা এ সভ্যতাকেই নির্দেশ করা হয়েছে। কেননা উদ্দীপকে ভারতীয় উপমহাদেশের এমন নগরের কথা বলা হয়েছে যেগুলো নদী তীরবর্তী এলাকায় গড়ে উঠেছিল , যা ছিল সুপরিকল্পিত। নগরগুলোত সিন্ধু সভ্যতার মতোই নাগরিক জীবনের সকল সুযোগ - সুবিধা বিদ্যমান ছিল। সিন্ধু সভ্যতার বেশিরভাগ ঘরবাড়িই শুকনো ইটের দ্বারা নির্মিত ছিল। এখানকার নারী ও পুরুষ উভয়ই সুন্দর ঝলমলে পোশাক এবং অলংকার ব্যবহার করত। সেখানে কার্পাস ও পশম বস্ত্রের ও প্রচলন ছিল। বৈদিক যুগের মতো বর্ণপ্রথা না থাকলেও সিন্ধু সভ্যতায় চার ধরনের শ্রেণি চোখে পড়ে। শাসক , পুরোহিত , চিকিৎসক ও জ্যোতিষী ছিল প্রথম শ্রেণি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ছিল যথাক্রমে যোদ্ধা ও ব্যবসায়ীরা। আর চতুর্থ শ্রেণিতে ছিল কৃষক , জেলে , তাঁতি ইত্যাদি। সিন্ধু সভ্যতার অধিকাংশ জনগণ ছিল কৃষিজীবী। তারা ধান , গম , বার্লি , যব , কার্পাস , খেজুর ইত্যাদি উৎপাদন করত। এছাড়া এখানকার ব্যবসায়ী শ্রেণি মিসর , মেসোপটেমিয়া , পারস্য ও এশিয়ার সমগ্র অঞ্চলের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কে গড়ে তুলেছিল। ঘ. উদ্দীপকে অতীতের নগরগুলোর মতো অবস্থান বর্তমানে দেখা না মাওয়ার কারণ হিসেবে সুষ্ঠু নগর পরিকল্পনার অভাব বলে আমি মনে করি। বর্তমান পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্তর্গত সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলার মহেঞ্জোদারো এবং পাঞ্জাবের মন্টাগোমারি জেলায় হরপ্পা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার হয়। সিন্ধু সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ থেকে যেসব প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন আকৃতির অট্টালিকা , সুপ্রশস্ত রাস্তা , হলঘর , বৃহৎ আকৃতির স্নানাগার , রাস্তার পাশে সারিবদ্ধ ল্যাম্পপোস্ট , বড় আকারের প্রাসাদ ইত্যাদি সিন্ধু সভ্যতার শাসকরা সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব নিদর্শন তৈরি করেছিল। অন্যদিকে , বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত ঢাকা নগরী। নদী তীরের বসতবাড়ি , দালান কিংবা ঐতিহাসিক স্থাপনা কোনো কিছুতেই খ্রিস্টপূর্ব পাঁচ হাজার বছর পূর্বের সিন্ধু সভ্যতার নগরগুলোর মতো কারুকার্য কিংবা নির্মাণশৈলী দেখা যায় না। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো ঢাকা নগরীর কোনো স্থাপনায় সিন্ধু সভ্যতার মতো নগর পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়নি । সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে , সুষ্ঠু নগর পরিকল্পনার অভাবের কারণেই বুড়িগঙ্গার তীরে ঢাকা নগরীতে সিন্ধু সভ্যতার নগরগুলোর মতো অবস্থান দেখা যায় না।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ভারতীয় উপমহাদেশে অতীতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় যে নগরগুলো গড়ে ওঠেছিল তা ছিল সুপরিকল্পিত। নগরগুলোতে নাগরিক জীবনের প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান ছিল । অথচ বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ঢাকা অবস্থিত। এখানে অতীতের নগরগুলোর মতো অবস্থান দেখা যায় না।

ক.

লাঙলের ব্যবহার কোন যুগে শুরু হয়েছিল?

খ.

প্রত্নতত্ত্বের কোন স্তরকে আধুনিক যুগের ভিত্তি বলা হয় এবং কেন? বুঝিয়ে লেখ।

গ.

উদ্দীপকে কোন সভ্যতার কথা বলা হয়েছে? তার আর্থসামাজিক অবস্থা ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে অতীতের নগরগুলোর মতো অবস্থান দেখা যায় না বলে কী বুঝেছ? বিশ্লেষণ কর ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A = সমাজের বৈশিষ্ট্য = i. যাযাবর জীবনযাপন করত ii. হস্তকুঠার, তীরধনুক ব্যবহার iii. আগুনের আবিষ্কার। B = সমাজের বৈশিষ্ট্য ...

Geographia গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

ক. ময়নামতি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কোথায় অবস্থিত? খ. "নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষেরা বিভিন্ন কুসংস্কার বিশ্বাস করত"-ব্যাখ্যা...

ক. উয়ারী-বটেশ্বর কোন জেলায় অবস্থিত? খ. শালবন বিহার সম্পর্কে যা জানো লেখো। গ. উদ্দীপকে কীসের স্তরবিন্যাস দেখানো হয়েছে? উক...

ক. উয়ারী-বটেশ্বর কোথায় অবস্থিত? খ. শালবন বিহার সম্পর্কে যা জানো লেখো। গ. উদ্দীপকের A যে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানকে নির্দেশ ...

ক. Culture শব্দটি সর্বপ্রথম কে ব্যবহার করেন? খ. আকাশ সংস্কৃতি বলতে কী বোঝায়? বুঝিয়ে লেখো। গ. ছক-২-এ বাংলাদেশের কোন প্রত্...

ক. লৌহের প্রথম ব্যবহার হয় কোথায়? খ. "সিন্ধু সভ্যতা ছিল নগরকেন্দ্রিক"- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের ছক-ক-এ নির্দেশিত যুগের ...

ক. প্রত্নতত্ত্বের প্রধান উদ্দেশ্য কী? খ. প্রাচীন প্রস্তর যুগের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ। গ. প্রদর্শিত ১নং চিত্রটি কোন যুগের ইঙ্...

ক. লৌহ সংস্কৃতির আদি উৎপত্তিস্থল বলা হয় কাকে? খ. উয়ারী-বটেশ্বরের অধিবাসীদের ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বরুপ ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্...

ক. ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতির আবিষ্কার হয় কোন সভ্যতায়? খ. প্রত্নতত্ত্ব বলতে কী বোঝ? গ. ছক-১: কোন প্রত্নতাত্ত্বিক যুগকে চিহ্নিত...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।