Facebook Pixel

ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থার সাথে রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার মূল পার্থক্য ব্যক্তি আয় অনুসারে ব্যয় করে। অপরদিকে, রাষ্ট্র ব্যয় অনুসারে আয় নির্ধারণ করে। সরকার আয়কর, ফি, সম্পদ কর, মুনাফা, রেলওয়ে, তার ও টেলিফোন, Vat, লাইসেন্স ফি, জরিমানা, আমদানি শুল্ক, ডাক, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি উৎস হতে আয় করে। যদি এসব উৎসের আয় দ্বারা ব্যয় সংকুলান না হয়, তবে ঘাটতি অর্থায়নের অংশ হিসেবে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নেয়। যদিও এ দুটো উৎস হতে সংগৃহীত ঋণের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা ও অসুবিধা উভয়ই রয়েছে। ক. আবগারি শুল্ক কী? খ. প্রত্যক্ষ কর সামাজিক ন্যায়বিচারের সাথে সংগতিপূর্ণ ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের আলোকে সরকারের আয়ের উৎসগুলোর কর রাজস্ব ও অ-কর রাজস্ব চিহ্নিত কর। ঘ. ঘাটতি অর্থায়নের জন্য উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি উৎসের কোনটি দেশের জন্য অধিক কল্যাণকর তা বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৯ঃ সরকারি অর্থব্যবস্থা

উৎস: Test Exam Question ISCM 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কিছু দ্রব্যের ওপর সরকার যে কর ধার্য করে, তাকে আবগারি শুল্ক (Excise Duty) বলে। (খ) প্রত্যক্ষ কর সামাজিক ন্যায়বিচারের সাথে সংগতিপূর্ণ, কারণ এই করের ক্ষেত্রে করের ভার অন্যের ওপর স্থানান্তর করা যায় না। যে ব্যক্তির ওপর কর ধার্য করা হয়, তাকেই তা পরিশোধ করতে হয়। প্রত্যক্ষ করের (যেমন: আয়কর, সম্পদ কর) হার সাধারণত প্রগতিশীল হয়, অর্থাৎ যার আয় যত বেশি, তাকে তত উচ্চ হারে কর দিতে হয়। ফলে সমাজের উচ্চবিত্তরা বেশি কর দেয় এবং নিম্নবিত্তরা কম কর দেয় বা করের আওতামুক্ত থাকে। এই কর ব্যবস্থা ধনবৈষম্য কমিয়ে সমাজে অর্থনৈতিক সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারের আয়ের উৎসগুলোকে নিচে কর রাজস্ব ও অ-কর রাজস্ব হিসেবে চিহ্নিত করা হলো: ১. কর রাজস্ব (Tax Revenue): সরকার জনগণের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে যে অর্থ আদায় করে এবং যার বিনিময়ে দাতা সরাসরি কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করতে পারে না, তাকে কর রাজস্ব বলে। উদ্দীপকের আলোকে কর রাজস্বের উৎসগুলো হলো: - আয়কর - সম্পদ কর - VAT (মূল্য সংযোজন কর) - আমদানি শুল্ক ২. অ-কর রাজস্ব (Non-Tax Revenue): কর ব্যতীত সরকার বিভিন্ন সেবা প্রদান বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারের বিনিময়ে যে আয় করে, তাকে অ-কর রাজস্ব বলে। উদ্দীপকের আলোকে অ-কর রাজস্বের উৎসগুলো হলো: - ফি - মুনাফা - রেলওয়ে - তার ও টেলিফোন - লাইসেন্স ফি - জরিমানা - ডাক - রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান (ঘ) ঘাটতি অর্থায়নের জন্য উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি উৎসের মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করা দেশের জন্য অধিক কল্যাণকর। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো: ১. সম্পদের বহির্গমন রোধ: অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নিলে সরকার যে সুদ পরিশোধ করে, তা দেশের ভেতরেই থাকে। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ নিলে সুদসহ বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যায়, যা দেশের সম্পদের বহির্গমন ঘটায়। ২. রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: অভ্যন্তরীণ ঋণের ক্ষেত্রে কোনো বিদেশি শর্ত বা রাজনৈতিক চাপ থাকে না, ফলে সরকার স্বাধীনভাবে অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়ন করতে পারে। অন্যদিকে, বৈদেশিক ঋণের সাথে দাতা সংস্থা বা দেশগুলো অনেক সময় কঠিন শর্ত জুড়ে দেয়, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে। ৩. মুদ্রাস্ফীতি ও বিনিময় হার ঝুঁকি: বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামা বা আন্তর্জাতিক ঋণের ফাঁদ (Debt Trap) থেকে দেশকে রক্ষা করতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়া বেশি নিরাপদ। পরিশেষে বলা যায়, যদিও ঘাটতি অর্থায়নের জন্য উভয় উৎসেরই সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক স্বকীয়তা রক্ষা ও বুনিয়াদ মজবুত করার জন্য বৈদেশিক নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর নির্ভর করাই অধিক কল্যাণকর।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Ideal School & College, Motijheel, Dhaka (2026)

ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থার সাথে রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার মূল পার্থক্য ব্যক্তি আয় অনুসারে ব্যয় করে। অপরদিকে, রাষ্ট্র ব্যয় অনুসারে আয় নির্ধারণ করে। সরকার আয়কর, ফি, সম্পদ কর, মুনাফা, রেলওয়ে, তার ও টেলিফোন, Vat, লাইসেন্স ফি, জরিমানা, আমদানি শুল্ক, ডাক, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি উৎস হতে আয় করে। যদি এসব উৎসের আয় দ্বারা ব্যয় সংকুলান না হয়, তবে ঘাটতি অর্থায়নের অংশ হিসেবে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নেয়। যদিও এ দুটো উৎস হতে সংগৃহীত ঋণের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা ও অসুবিধা উভয়ই রয়েছে। ক. আবগারি শুল্ক কী? খ. প্রত্যক্ষ কর সামাজিক ন্যায়বিচারের সাথে সংগতিপূর্ণ ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের আলোকে সরকারের আয়ের উৎসগুলোর কর রাজস্ব ও অ-কর রাজস্ব চিহ্নিত কর। ঘ. ঘাটতি অর্থায়নের জন্য উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি উৎসের কোনটি দেশের জন্য অধিক কল্যাণকর তা বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশের একটি মেগা প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয়ের প্রায় ৪০% অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে JICA, ADB ও বিশ্বব্যাংক। অবশিষ্ট ব্য...

'A' দেশের সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণের জন্য অর্থ ব্যয় করে। সরকার এ সমস্ত ব্যয় কেন্দ্রীয়ভাবে এবং স্থানীয়...

'A' দেশের সরকার মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৫০% এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহা...

'A' ব্যক্তির ওপর ধার্যকৃত করের বোঝা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে। কিন্তু 'B' ব্যক্তির ওপর ধার্যকৃত...

'B' দেশের সরকারের আয়ের উৎসসমূহ: 'B' দেশের সরকার জাতীয় আয় বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর (১-৩০) নভেম্বর "জাতীয় আয়কর মেলা" আয়োজন ক...

beginarray|l|c| hline & hline textঅভ্যন্তরীণ উৎস & text১. কেন্দ্রীয় ব্যাংক২. বাণিজ্যিক ব্যাংক৩. বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠ...

'F' দেশে IT তে দক্ষ জনশক্তি গড়ার লক্ষ্যে বাস্তবমুখী শিক্ষা ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করে। অর্থসংস্থানের ...

'G' দেশে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, যুদ্ধের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম, বয়স্ক ভাতা, বিদ্যুৎ ও পরিবহণ, IT Sector সহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়ে...

NBR-এর পূর্ণরূপ কী?

NBR-এর পূর্ণরূপ কী?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।