Facebook Pixel

বিশ্বব্যাংক, জাইকা প্রভৃতি বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক সংস্থা। এদের প্রধান কাজ হলো বিশ্বের অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমে ঋণ সহায়তা দেওয়া। এসব দেশগুলোতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হওয়ার পাশাপাশি কাজের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, উন্নত দেশগুলোও বিশ্বব্যাপী পণ্য রপ্তানির সুযোগ পায় । ক. NATO কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ? খ. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চুক্তি সংস্থা (SEATO) গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল? গ. উদ্দীপকের সংস্থাসমূহের ন্যায় স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময় গড়ে ওঠা কোন অর্থনৈতিক সংস্থার সাদৃশ্য রয়েছে? বর্ণনা দাও। ঘ. উক্ত সংস্থা পাশ্চাত্য অর্থনীতির বিকাশে কীভাবে ভূমিকা রেখেছে? আলোচনা কর।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ স্নায়ুযুদ্ধঃ পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব

উৎস: Board Exam Question Combined 2015

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল NATO (North Atlantic Treaty Organization) প্রতিষ্ঠিত হয়। (খ) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চুক্তি সংস্থা বা SEATO (South-East Asia Treaty Organization) গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাম্যবাদী বা সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ও চীনা প্রভাব বিস্তার রোধ করা। ১৯৫৪ সালে ম্যানিলা চুক্তির মাধ্যমে এই সামরিক জোট গঠিত হয়। এর মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই অঞ্চলে তাদের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে চেয়েছিল যাতে সমাজতান্ত্রিক আদর্শের প্রসার না ঘটে এবং ওই অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর পাশ্চাত্য প্রভাব বজায় থাকে। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশ্বব্যাংক ও জাইকার মতো উন্নয়নমূলক ও অর্থনৈতিক সহায়তাকারী সংস্থার সাথে স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহীত ‘মার্শাল পরিকল্পনা’ (Marshall Plan)-এর সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, অর্থনৈতিক সংস্থাগুলো অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ঋণ সহায়তা দেয়, যার ফলে ওই দেশগুলোতে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং উন্নত দেশগুলো পণ্য রপ্তানির বাজার পায়। একইভাবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ইউরোপের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ১৯৪৭ সালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ মার্শাল এই পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এই পরিকল্পনার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের ১৬টি দেশকে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার (তৎকালীন মূল্যে) আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। উদ্দীপকের সংস্থাগুলোর মতো মার্শাল পরিকল্পনাও সাহায্য গ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সংহতি তৈরি করেছিল এবং ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা (OEEC) গঠনের পথ প্রশস্ত করেছিল। ফলে উভয় ক্ষেত্রেই অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে পারস্পরিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একটি কৌশল লক্ষ্য করা যায়। (ঘ) মার্শাল পরিকল্পনা পাশ্চাত্য অর্থনীতির বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করেছিল। এর প্রভাবগুলো নিচে আলোচনা করা হলো: ১. অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে ইউরোপের অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। মার্শাল পরিকল্পনার আওতায় প্রাপ্ত মার্কিন আর্থিক সহায়তা ইউরোপের শিল্পকারখানা পুনর্গঠন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখে। ২. অর্থনৈতিক সংহতি ও সহযোগিতা: এই পরিকল্পনার শর্ত অনুযায়ী সাহায্য গ্রহণকারী দেশগুলো পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য ১৯৪৮ সালে ‘ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা’ (OEEC) গঠন করে। এটি পরবর্তীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ৩. বাজার সম্প্রসারণ: মার্শাল পরিকল্পনার ফলে ইউরোপের দেশগুলোর ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা মার্কিন পণ্যের জন্য একটি বিশাল বাজার তৈরি করে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি পায় এবং পাশ্চাত্য পুঁজিবাদী অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী হয়। ৪. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোতে সাম্যবাদী আদর্শের প্রভাব হ্রাস পায় এবং গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা সুসংহত হয়। পরিশেষে বলা যায়, মার্শাল পরিকল্পনা কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপকে ধ্বংসস্তূপ থেকে তুলে আনেনি, বরং এটি পাশ্চাত্য দেশগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট গঠনের পথ প্রশস্ত করে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতিতে পাশ্চাত্য আধিপত্য বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2015)

বিশ্বব্যাংক, জাইকা প্রভৃতি বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক সংস্থা। এদের প্রধান কাজ হলো বিশ্বের অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমে ঋণ সহায়তা দেওয়া। এসব দেশগুলোতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হওয়ার পাশাপাশি কাজের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, উন্নত দেশগুলোও বিশ্বব্যাপী পণ্য রপ্তানির সুযোগ পায় ।

ক. NATO কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ?

খ. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চুক্তি সংস্থা (SEATO) গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?

গ. উদ্দীপকের সংস্থাসমূহের ন্যায় স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময় গড়ে ওঠা কোন অর্থনৈতিক সংস্থার সাদৃশ্য রয়েছে? বর্ণনা দাও।

ঘ. উক্ত সংস্থা পাশ্চাত্য অর্থনীতির বিকাশে কীভাবে ভূমিকা রেখেছে? আলোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

beginarray|l|c| hline textbf'ক' রাষ্ট্র & textbf'খ' রাষ্ট্র hline textপুঁজিবাদী আদর্শে বিশ্বাসী & textকমিউনিজম আদর্শে ব...

‘NATO’ এর পূর্ণরূপ কী ?

NATO সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

SEATO কত খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয় ?

আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে বন্ধুর দ্বন্দ্ব। লেগে যায়। স্বপন ও সুদীপ্তর ক্ষেত্রে সেটিই ঘটেছিল। স্বপন সাম্...

আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে বন্ধুর দ্বন্দ্ব লেগে যায়। স্বপন সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের অনুসারী। অপরদিকে, স...

আধিপত্য বিস্তার ও কিছু আদর্শগত বিরোধকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ী ইউনিয়নের দুটি গ্রামের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও সাংঘর্ষিত পরিস্...

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি দেশের মধ্যে প্রবল যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দেয়। আগে থেকেই তাদের মধ্যে মতাদর্শগত দ্বন্দ্...

ইনকিলাব একটি দেশের রাজনৈতিক সংগঠন। এ সংগঠনের আদর্শ বিশ্বাসীরা তাদের দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও দর্শন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে...

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি বিবদমান রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্রের সংঘাত আরব-ইসরায়েল সংঘাত নামে পরিচিত। এ সংঘাতে দেশি-বিদেশি অ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।