ক.
কোনো একটি পদের পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখের মাধ্যমে পদটিকে সহজ, সরল, স্পষ্ট ও বোধগম্য ভাষায় প্রকাশ করাই হলো যৌক্তিক সংজ্ঞা।
খ.
কোনো পদের পূর্ণ জাত্যর্থের সুষ্পষ্টভাবে প্রকাশ করাই হচ্ছে সংজ্ঞা। যখন কোনো পদের পূর্ণ জাতার্থ উল্লেখের মাধ্যমে পদটিকে সহজ-সরল ও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয় তখন তাকে সংজ্ঞা বলে। আর বর্ণনা হচ্ছে কোনো পদের উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণ অথবা জাত্যর্থের অংশবিশেষ উল্লেখ করে পদটিকে প্রকাশ করা হয় তখন তাকে বর্ণনা বলে। বর্ণনার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তাই কোনো বিষয়ের বর্ণনা বিভিন্নভাবে দেওয়া যায়। কিন্তু সংজ্ঞার ক্ষেত্রে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে পদের সংজ্ঞা প্রদান করতে হয়, তা না হলে সংজ্ঞাটি ত্রুটিপূর্ণ হয়। তাই সংজ্ঞা ও বর্ণনা এক নয়।
গ.
উদ্দীপকে বেলালের বক্তব্যে অতিব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে কেননা এখানে মানুষ পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তিবিদ্যায় পদের সংজ্ঞা প্রদানের মূল উদ্দেশ্য হলো পদের অর্থকে সুস্পষ্ট ও সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করা। এজন্য সংজ্ঞায় পদের আসন্নতম জাতি ও. বিভেদক লক্ষণ উল্লেখ করা হয়। সংজ্ঞায় আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণের ব্যক্ত্যর্থের পরিমাণ সমান হলে সংজ্ঞা যথার্থ হয় নতুবা সংজ্ঞাটি ত্রুটিপূর্ণ হয়। সঠিক বা যথার্থ সংজ্ঞা প্রদানের সুবিধার্থে যুক্তিবিদ্যায় যৌক্তিক সংজ্ঞার কয়েকটি নিয়ম আবশ্যিকভাবে অনুসরণ করতে হয়। সে যৌক্তিক সংজ্ঞার ৫ম নিয়ম অনুযায়ী সংজ্ঞায় সংজ্ঞার্থ পদের ব্যক্ত্যর্থ সংজ্ঞেয় পদের ব্যক্ত্যর্থের সমান হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কম বা বেশি হতে পারবে না। এ নিয়ম লঙ্ঘন করে সংজ্ঞায় যদি জাত্যর্থের অংশবিশেষ উল্লেখ করা হয় তাহলে সংজ্ঞার্থ পদের ব্য্যর্থ সংজ্ঞেয় পদের ব্যক্ত্যর্থের চেয়ে বেশি হয়। যার কারণে অতিব্যাপক সংজ্ঞা নামক অনুপপত্তি ঘটে। উদ্দীপকে বেলালের বক্তব্যটি হলো 'মানুষ হয় জীব'- এ বাক্যে মানুষ পদের আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ হলো জীববৃত্তি। কিন্তু সংজ্ঞায় বুদ্ধিবৃত্তি গুণটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে মানুষের সাথে অন্যান্য জীবের কোনো পার্থক্য থাকছে না। তাই বেলালের বক্তব্যে অতিব্যাপক সংজ্ঞানামক অনুপপত্তি ঘটেছে।
ঘ.
উদ্দীপকে হেলালের বক্তব্যে চক্রক সংজ্ঞা এবং রাফির বক্তব্যে বাহুল্য সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে। কেননা এখানে উভয় বক্তব্যেই যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে।
উদ্দীপকে হেলালের বক্তব্যটি হলো "মানুষ হয় মনুষ্য জাতীয় জীব" এখানে চক্রক সংজ্ঞা নামক অনুপপত্তি ঘটেছে। কেননা সংজ্ঞাটিতে মানুষ পদের সমার্থক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যৌক্তিক সংজ্ঞার তৃতীয় নিয়ম অনুযায়ী যে পদের সংজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে সেই পদ বা তার সমার্থক কোনো শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। যৌক্তিক সংজ্ঞার এ নিয়ম লঙ্ঘন করে সংজ্ঞায় যদি পদের সমার্থক শব্দ ব্যবহার করা হয় তাহলে সংজ্ঞায় পদ সম্পর্কে নতুন কিছুই বলা হয় না। পরবর্তীতে আবার এই সংজ্ঞাই প্রদান করতে হয়। এরূপ সংজ্ঞাকে চক্রক সংজ্ঞা নামক অনুপপত্তি বলে। উদ্দীপকে মানুষকে মনুষ্য জাতীয় জীব বলায় মানুষ। পদের সাথে তার সমার্থক হয়ে গেছে তাই উদ্দীপকে হেলালের বক্তব্যে চক্রক সংজ্ঞা নামক অনুপপত্তি ঘটেছে।
অপরদিকে, রাফির বক্তব্যে 'মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন মরণশীল জীব।' এ সংজ্ঞাটিতে বাহুল্য সংজ্ঞাজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। কারণ মানুষের সংজ্ঞায় এখানে মরণশীল গুণটি মানুষের জাত্যর্থের অতিরিক্ত উপলক্ষণ উল্লেখ করা হয়েছে। যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম অনুযায়ী সংজ্ঞায় অবশ্যই একটি পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থের উল্লেখ করতে হবে। এর অধিক হলে চলবে না। যৌক্তিক সংজ্ঞার এ নিয়ম লঙ্ঘন করে সংজ্ঞায় যদি জাত্যর্থের অতিরিক্ত কোনো গুণের উল্লেখ করা হয় এবং এ অতিরিক্ত গুণটি যদি উপলক্ষণ হয় তাহলে যে অনুপপত্তি ঘটে তাকে বাহুল্য সংজ্ঞা অনুপপত্তি বলে। উদ্দীপকেও মানুষ পদের জাত্যর্থের অতিরিক্ত 'মরণশীল' গুণটি উল্লেখ করায় সংজ্ঞাটিতে বাহুল্য সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে হেলাল ও রাফির বক্তব্যে যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘনজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। হেলালের বক্তব্যে চক্রক সংজ্ঞা ও রাফির বক্তব্যে বাহুল্য সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে।