Facebook Pixel

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দারা তাদের গ্রামের রাস্তা খুড়ে বড় বড় গর্ত তৈরি করে এবং বিভিন্ন স্থানের সংযোগ সেতু ও কালভাট ভেঙে দেয়। ফলে তারা পাকিস্তান বাহিনীর আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। এভাবে বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধারাও একই কৌশল প্রয়োগ করে শক্তিশালী পাকিস্তান বাহিনীকে হার মানতে বা পিছু হটতে বাধ্য করে। যুদ্ধ কৌশল ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের সাফল্যের চাবিকাঠি। ক. মদিনার পূর্ব নাম কী? খ. আকাবার শপথ বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত কোন যুদ্ধের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।. ঘ. জয় লাভের জন্য "যুদ্ধ কৌশল মুখ্য ভূমিকা পালন করে" পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মদিনার পূর্ব নাম ইয়াসরিব। খ. মদিনা হতে মক্কায় হজ পালনের জন্য আগত লোকজন মহানবি (সা.)-এর নিকট ইসলাম গ্রহণ করে এবং আকাবা নামক স্থানে যে শপথ গ্রহণ করে তাকে আকাবা শপথ বলা হয়। আকাবা একটি উপত্যকার নাম। মহানবি (সা.) মক্কায় হজ পালনের জন্য আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ইসলাম প্রচার করতেন। এসময় মদিনার একদল লোক তাঁর হাতে ইসলাম গ্রহণ করে এবং ইসলামের প্রসারে ভূমিকা রাখার * শপথ গ্রহণ করে। যা আকাবার শপথ নামে পরিচিত। ৬২০ খ্রিষ্টাব্দে ১ম, ৬২১ খ্রিষ্টাব্দে ২য় ও ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে ৩য় শপথ অনুষ্ঠিত হয়। গ. উদ্দীপকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত খন্দকের যুদ্ধের মিল পাওয়া যায়। বদরের যুদ্ধে মক্কার কাফিররা চরমভাবে পরাজিত হয়ে তার প্রতিশোধ। গ্রহণের জন্য উহুদের যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। সেখানে সুবিধা করতে না পেরে তারা ইসলাম ও মুসলমানদের চিরতরে শেষ করে দেওয়ার জন্য খন্দকের যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ৬২৭ সালের ৩১ মার্চ মুশরিক, কুরাইশ, ইহুদি ও বেদুইনরা সর্বাধিনায়ক আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে মদিনা। আক্রমণ করে। মহানবি (সা.) হযরত সালমান ফারসির পরামর্শে মদিনার উন্মুক্ত দিকে একই পরিখা খনন করেন। তিনি তিন হাজার মর্দে মুজাহিদের এক বাহিনী নিয়ে পরিখার প্রহরায় নিযুক্ত ছিলেন। পরিখা খননের মাধ্যমে মদিনাকে রক্ষা করায় কুরাইশ বাহিনী বিস্মিত হয়। পরিখা পেরিয়ে হামলা করতে ব্যর্থ হয়ে তারা মদিনাকে ২৭ দিন পর্যন্ত অবরোধ করে রাখে। কিন্তু দীর্ঘ অবরোধের ফলে শত্রু বাহিনীতে খাদ্য পানীয়ের অভাব দেখা দেয় ও ঝড়ো হাওয়ায় তাদের তাঁবু উড়ে যায়। পরিশেষে তারা ব্যর্থ মনোবল নিয়ে ফিরে যান। উদ্দীপকেও অনুরূপ চিত্র দেখা যায়। যেখানে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করতে গ্রামের রাস্তায় বড় বড় গর্ত তৈরি করে, বিভিন্ন সংযোগ সেতু ভেঙ্গে দেয় এবং কার্লভার্ট ভেঙ্গে দেয়। এতে হানাদার পাকিস্তানি আর্মি গ্রামে প্রবেশ করতে সাহস পাননি। এ ঘটনা খন্দক যুদ্ধের ঘটনার অনুরূপ। সুতরাং উদ্দীপকের সাথে মহানবি (সা.) খন্দকের যুদ্ধের সাদৃশ্য রয়েছে। ঘ. জয় লাভের জন্য যুদ্ধ কৌশল মুখ্য পালন করে- মন্তব্যটি যথার্থ। কেননা সব সময় শক্তি দিয়ে যুদ্ধে জেতা যায় না বরং নানা কৌশল অবলম্বন করতে হয়। যেমন উদ্দীপকের মতো অভিনব রণকৌশল আমরা খন্দকের যুদ্ধে দেখতে পাই। এ কৌশলের জন্য মুস্লমানরা জয়ী হয়। খন্দক যুদ্ধে কুরাইশদের সম্মিলিত বাহিনীর মোকাবিলা করা ছিল দুঃসাধ্য। এতে প্রচুর রক্তপাত হতো এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হতো। খন্দক বা পরিখা তৈরির মাধ্যমে রক্তপাত এড়ানো সম্ভব হয় এবং জানমালের ক্ষতি হতে রক্ষা পায়। পরিখা তৈরির মাধ্যমে। শত্রুর মোকাবিলা করায় কৌশলটি ছিল তৎকালীন আরবদের নিকট সম্পূর্ণ নতুন এক কৌশল। ফলে আক্রমণকারী কাফিররা পরিখা অতিক্রম করার মতো বুদ্ধি ও সাহস হারিয়ে ফেলে। তাদের মনোবল নষ্ট হয়ে। তারা যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও স্বপ্ন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মদিনায় আসে পরিখা দেখে তাদেরকে সে উৎসাহ-উদ্দীপনা চুপসে যায় এবং স্বপ্ন জয়ের আকাঙ্ক্ষা শুরুতেই হোঁচট খায়। পরিখা খননের কারণে মক্কার কাফিরদের সম্মিলিত বাহিনী ২৭ দিন অবরোধ শেষে ব্যর্থ মনোবল হারিয়ে ফিরে যায়। এজন্য তাদের ঐক্যজোটে ভাঙন সৃষ্টি হয় এবং কুরাইশদের সামরিক শক্তি হ্রাস পায়। খন্দকের যুদ্ধের পর মুহাম্মদ (সা.)-এর পদমর্যাদা বৃদ্ধি পায়। কেননা মদিনাকে রক্ষা করায় মদিনাবাসী একে একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে সম্মান প্রদর্শন করেছিল। তাই সবসময় শক্তি আর অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধে জয় লাভের নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না বরং নতুন এবং শত্রুর অজানা রণকৌশল গ্রহণ করে যুদ্ধে জয়ী হওয়া যায়। পরিশেষে বলা যায়, রণকৌশল যুদ্ধ জয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন আমরা খন্দকের যুদ্ধে দেখতে পাই।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দারা তাদের গ্রামের রাস্তা খুড়ে বড় বড় গর্ত তৈরি করে এবং বিভিন্ন স্থানের সংযোগ সেতু ও কালভাট ভেঙে দেয়। ফলে তারা পাকিস্তান বাহিনীর আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। এভাবে বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধারাও একই কৌশল প্রয়োগ করে শক্তিশালী পাকিস্তান বাহিনীকে হার মানতে বা পিছু হটতে বাধ্য করে। যুদ্ধ কৌশল ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের সাফল্যের চাবিকাঠি।

ক.

মদিনার পূর্ব নাম কী?

খ.

আকাবার শপথ বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত কোন যুদ্ধের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।.

ঘ.

জয় লাভের জন্য "যুদ্ধ কৌশল মুখ্য ভূমিকা পালন করে" পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদের উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রত...

ক. মদিনার পূর্বনাম কী ছিল? খ. মদিনা সনদকে বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান বলা হয় কেন? গ. উল্লিখিত ছকে মহানবি (স)-এর জীবনের ক...

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে আল-আমিন বলা হয়, কারণ তিনি-

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদে উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রতি...

অটোমান সুলতান বায়েজিদ অঙ্গোরার প্রান্তরে তৈমুর লঙ্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মোকাবিলা করেন। যুদ্ধে বায়েজিদ অনেক সৈন্য বিশ্বাস...

অমুসলিমদের থেকে প্রাপ্ত নিরাপত্তা করকে কী বলে

আকাবার প্রথম শপথ কত খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয়?

আকাবার প্রথম শপথে কত জন মদিনাবাসী ছিলেন?

আকাবার শপথ মোট কতবার অনুষ্ঠিত হয়?

আক্কাশ আলী তার এলাকার পথভ্রষ্টকারী মানুষের অত্যাচারের কারণে আপন লোকজন নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। বেশ কিছুদিন পরে প্রতিষ্ঠিত...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।