ক.
জলবায়ু হচ্ছে কোনো ভৌগোলিক অঞ্চলের দীর্ঘদিনের তথা ৩০-৩৫ বছরের গড় আবহাওয়া ।
খ.
মাদকাসক্তির অন্যতম কারণ হিসেবে বেকারত্ব ভূমিকা রাখে । সীমিত কর্মসংস্থানের কারণে কাজ করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এ দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকার জীবনযাপন করছে। বেকারত্ব তাদের মনে সৃষ্টি করছে হতাশা ও নৈরাশ্য। এ হতাশা ও নৈরাশ্য ভুলে থাকার জন্য অনেকেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এছাড়া অনেক বেকার যুবক বেকারত্ব ঘুচাতে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি নিজেও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। বস্তুত কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এটা দেখা যায় না যে, উপার্জনমূলক কাজে জড়িত ব্যক্তি মাদক গ্রহণ করছে। এজন্য সমাজবিজ্ঞানীরা মাদকাসক্তির অন্যতম কারণ হিসেবে বেকারত্বকে চিহ্নিত করেন ।
গ.
উদ্দীপকে বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমি (BARD)-এর কথা বলা হয়েছে।
পল্লি অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ১৯৫৯ সালে কুমিল্লায় পল্লি উন্নয়ন একাডেমি স্থাপন করেন। এ একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন কুমিল্লা মডেলের রূপকার বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ড. আখতার হামিদ খান। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এ সংস্থা ‘বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমি' নামে পরিচিতি লাভ করে। সামাজিক উন্নয়নে' এ সংস্থার গৃহীত কর্মসূচিগুলো হলো— কৃষি উন্নয়ন, বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন বোর্ড এবং পল্লি কর্মসূচিসহ পল্লি উন্নয়নে নিয়োজিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দান। এছাড়া পল্লি অঞ্চলে বিভিন্ন সমস্যা দূরীকরণ এবং উন্নয়নের জন্য ব্যাপক গবেষণা ও জরিপ কাজ চালানো ছাড়াও পল্লি জনগণকে সুসংগঠিত করে, যাতে তারা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে সক্ষম হয়। পল্লি উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার জন্য এ সংস্থাটি ১৯৮৬ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পল্লি অঞ্চলের অধিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কুমিল্লায় একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এটি কৃষি উন্নয়নে ব্যাপক উন্নতি সাধনের মাধ্যমে পল্লির জীবনমানের উন্নয়ন ঘটায়। পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের এসব তথ্য বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমিকে নির্দেশ করেছে।
ঘ.
বাংলাদেশের পল্লি অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উদ্দীপক দ্বারা নির্দেশিত প্রতিষ্ঠান তথা বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমির কর্মসূচিগুলো হলো— কৃষি উন্নয়ন, বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন বোর্ড এবং পল্লি কর্মসূচিসহ পল্লি উন্নয়নে নিয়োজিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দান। পল্লি অঞ্চলে বিভিন্ন সমস্যা দূরীকরণ এবং উন্নয়নের জন্য ব্যাপক গবেষণা ও জরিপ কাজ চালানো। পল্লির জনগণকে সুসংগঠিত করা যাতে নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে সক্ষম হয় ।
প্রাথমিক সাফল্য অর্জনের পর পল্লি উন্নয়ন একাডেমির পরিচালনায় ১৯৬০ সালে 'কুমিল্লা সমবায় সমিতি' চালু করা হয়। কুমিল্লা সমবায় সমিতির অন্যতম কর্মসূচি ছিল, কৃষকদের নিজস্ব সংগঠন গড়ে তোলা, মূলধন গঠন এবং ঋণদান করা। স্বাধীনতার পর কুমিল্লা সমবায় সমিতির কর্মসূচি সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ১৯৭২ সালে গঠন করা হয় ‘বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন বোর্ড'। এ প্রতিষ্ঠানের আওতায় পরবর্তী সময়ে দেশব্যাপী নানা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। পল্লি উন্নয়ন একাডেমির সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একে একে বেসরাকরি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। এসব সংস্থার মধ্যে ব্র্যাক ১৯৭২ সালে, আশা ১৯৭৮ সালে, প্রশিকা ১৯৭৬ সালে এবং গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এসব সংস্থা ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি প্রবর্তনের ক্ষেত্রে পল্লি উন্নয়ন একাডেমি অনুসৃত নীতি ও পদ্ধতি অনুসরণ করে। শুধু তাই নয়, অন্যান্য সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানগুলো পল্লি উন্নয়ন একাডেমিকে অনুসরণ করে।
উপরের আলোচনার পরিসমাপ্তিতে বলা যায়, পল্লি অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে 'বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমি' নিজে কাজ করার পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থার পথপ্রদর্শক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।