Facebook Pixel

বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতিতে একক কোনো শক্তির আধিপত্যের বদলে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও সামরিক জোটের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউক্রেন সংকট বা দক্ষিণ চীন সাগরের অস্থিরতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়েও প্রক্সি যুদ্ধ (Proxy War), অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক জোটের (যেমন : NATO) সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়েও বিশ্ব ঠিক একইভাবে দুটি আদর্শিক শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল, যেখানে পারমাণবিক যুদ্ধের আতঙ্ক থাকলেও সরাসরি বড় কোনো সংঘাত না হয়ে ছায়াযুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনা বিরাজমান ছিল। ক. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব মূলত কোন দুটি প্রধান শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে? খ. স্নায়ুযুদ্ধের প্রধান কারণ হিসেবে কোন আদর্শিক দ্বন্দ্বকে দায়ী করা হয়? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত 'স্নায়ুযুদ্ধ' বা সামরিক উত্তেজনার সাথে তোমার পঠিতবইয়ের আলোচিত কোরিয়া ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের সাদৃশ্য বিশ্লেষণ কর। ঘ. "স্নায়ুযুদ্ধের আদর্শিক দ্বন্দ্ব ও সামরিক জোটের রাজনীতিই বর্তমান বিশ্বের নতুন মেরুকরণের মূলভিত্তি"- উদ্দীপকের আলোকে তোমার সুচিন্তিত মতামত দাও।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ স্নায়ুযুদ্ধঃ পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব

উৎস: Test Exam Question HCCD

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পুঁজিবাদী শিবির এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। (খ) স্নায়ুযুদ্ধের প্রধান কারণ হিসেবে পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের মধ্যকার আদর্শিক দ্বন্দ্বকে দায়ী করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুঁজিবাদী আদর্শ এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতান্ত্রিক আদর্শের অনুসারী ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এই দুই পরাশক্তি নিজ নিজ আদর্শ বিশ্বব্যাপী প্রচার ও প্রসারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলে তাদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও আদর্শিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়, যা স্নায়ুযুদ্ধের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত স্নায়ুযুদ্ধ বা সামরিক উত্তেজনার সাথে কোরিয়া ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। স্নায়ুযুদ্ধ হলো এমন এক পরিস্থিতি যেখানে পরাশক্তিগুলো সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে পরোক্ষভাবে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করে। কোরিয়া ও ভিয়েতনাম যুদ্ধ ছিল স্নায়ুযুদ্ধেরই জ্বলন্ত উদাহরণ। কোরিয়া যুদ্ধে উত্তর কোরিয়া সমাজতান্ত্রিক ব্লকের এবং দক্ষিণ কোরিয়া পুঁজিবাদী ব্লকের সমর্থন ও সহায়তা লাভ করেছিল। একইভাবে ভিয়েতনাম যুদ্ধেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে পরোক্ষভাবে পক্ষাবলম্বন করে নিজেদের আদর্শিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়েছিল। উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্সি যুদ্ধের ধারণার সাথে এই যুদ্ধগুলোর কৌশলগত মিল রয়েছে, যেখানে পরাশক্তিগুলো সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে ছায়াযুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বজায় রেখেছে। (ঘ) হ্যাঁ, আমার মতে স্নায়ুযুদ্ধের আদর্শিক দ্বন্দ্ব ও সামরিক জোটের রাজনীতিই বর্তমান বিশ্বের নতুন মেরুকরণের মূলভিত্তি। স্নায়ুযুদ্ধের সময় পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের আদর্শিক লড়াই বিশ্বকে দুটি মেরুতে বিভক্ত করেছিল। সেই সময়ে NATO এবং ওয়ারশ চুক্তির মতো সামরিক জোটগুলো বিশ্ব রাজনীতিতে এক ধরনের ভারসাম্য ও উত্তেজনা বজায় রেখেছিল। বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে ইউক্রেন সংকট বা দক্ষিণ চীন সাগরের অস্থিরতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো সরাসরি বড় কোনো যুদ্ধে না জড়িয়েও সামরিক জোটের সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং প্রক্সি যুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। স্নায়ুযুদ্ধের সেই আদর্শিক লড়াইয়ের রূপ পরিবর্তিত হলেও এর কৌশলগুলো আজও বিদ্যমান। বর্তমান বিশ্বের নতুন মেরুকরণ মূলত সেই পুরনো স্নায়ুযুদ্ধের সামরিক জোটভিত্তিক রাজনীতিরই একটি আধুনিক সংস্করণ, যা বিশ্ব রাজনীতিকে পুনরায় বিভিন্ন আঞ্চলিক ও সামরিক জোটে বিভক্ত করে তুলছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Holy Cross College, Dhaka

বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতিতে একক কোনো শক্তির আধিপত্যের বদলে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও সামরিক জোটের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউক্রেন সংকট বা দক্ষিণ চীন সাগরের অস্থিরতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়েও প্রক্সি যুদ্ধ (Proxy War), অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক জোটের (যেমন : NATO) সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়েও বিশ্ব ঠিক একইভাবে দুটি আদর্শিক শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল, যেখানে পারমাণবিক যুদ্ধের আতঙ্ক থাকলেও সরাসরি বড় কোনো সংঘাত না হয়ে ছায়াযুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনা বিরাজমান ছিল। ক. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব মূলত কোন দুটি প্রধান শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে? খ. স্নায়ুযুদ্ধের প্রধান কারণ হিসেবে কোন আদর্শিক দ্বন্দ্বকে দায়ী করা হয়? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত 'স্নায়ুযুদ্ধ' বা সামরিক উত্তেজনার সাথে তোমার পঠিতবইয়ের আলোচিত কোরিয়া ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের সাদৃশ্য বিশ্লেষণ কর। ঘ. "স্নায়ুযুদ্ধের আদর্শিক দ্বন্দ্ব ও সামরিক জোটের রাজনীতিই বর্তমান বিশ্বের নতুন মেরুকরণের মূলভিত্তি"- উদ্দীপকের আলোকে তোমার সুচিন্তিত মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

beginarray|l|c| hline textbf'ক' রাষ্ট্র & textbf'খ' রাষ্ট্র hline textপুঁজিবাদী আদর্শে বিশ্বাসী & textকমিউনিজম আদর্শে ব...

‘NATO’ এর পূর্ণরূপ কী ?

NATO সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

SEATO কত খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয় ?

আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে বন্ধুর দ্বন্দ্ব। লেগে যায়। স্বপন ও সুদীপ্তর ক্ষেত্রে সেটিই ঘটেছিল। স্বপন সাম্...

আদর্শগত বিরোধ থাকলে অনেক সময় বন্ধুর সাথে বন্ধুর দ্বন্দ্ব লেগে যায়। স্বপন সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের অনুসারী। অপরদিকে, স...

আধিপত্য বিস্তার ও কিছু আদর্শগত বিরোধকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ী ইউনিয়নের দুটি গ্রামের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও সাংঘর্ষিত পরিস্...

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি দেশের মধ্যে প্রবল যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দেয়। আগে থেকেই তাদের মধ্যে মতাদর্শগত দ্বন্দ্...

ইনকিলাব একটি দেশের রাজনৈতিক সংগঠন। এ সংগঠনের আদর্শ বিশ্বাসীরা তাদের দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও দর্শন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে...

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি বিবদমান রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্রের সংঘাত আরব-ইসরায়েল সংঘাত নামে পরিচিত। এ সংঘাতে দেশি-বিদেশি অ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।