Facebook Pixel

ব্যাকুলতার আরেক নাম খান সাহেব আরমান। গাজী কলেজের শিক্ষক, সহপাঠী, বন্ধুমহলে আলী নামেই পরিচিত। এ ব্যাকুলতা নিজের কোনো স্বার্থ হাসিলের নয়। কাউকে কিছু শিক্ষাদানের মাধ্যমেই প্রতিবার শেষ হয় এ ব্যাকুলতার। গত শুক্রবার খালার বাড়িতে আলী ব্যাকুল হয়ে পড়ে কীভাবে সমাজকাঠামো, সামাজিক সম্পর্ক, সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিবর্তন ইত্যাদি খালাতো ভাই সারাফাতকে শেখানো যায় তা নিয়ে। টানা দুই ঘণ্টা শিক্ষাদানের মাধ্যমে সফল হয় আলী। সারাফাত জানতে পারে ভারতবর্ষে মুঘল, পাঠান, লোদী, খলজি প্রভৃতি বংশের শাসনামলের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের নানা বিষয়াবলি। ক. 'Utopia' গ্রন্থটি কার? খ. ফরাসি চিন্তাবিদ অগাস্ট কোঁৎ সমাজবিজ্ঞান বিকাশে কীভাবে অবদান রেখেছেন? গ. উদ্দীপকে খান সাহেব আরমান গাজী খালাতো ভাই সারাফাতকে কোন ধরনের বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু শিক্ষা দিয়েছেন? বাংলাদেশে এ বিজ্ঞানচর্চার পটভূমি ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিজ্ঞানের ব্যাপক চর্চা বাংলাদেশে শুরু হয় ১৭৫৭সালে পলাশী যুদ্ধের পর, যা আজও চলমান- বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. 'Utopia' গ্রন্থটি স্যার টমাস মোরের। খ. সমাজবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ভিত্তি রচনার মাধ্যমে ফরাসি দার্শনিক অগাস্ট কোঁৎ শাস্ত্রটির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। সামাজিক বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের পরিধি, পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুচিন্তিত এবং সুনির্দিষ্ট মতামত প্রদান করে অগাষ্ট কোঁৎ ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে আছেন। মানব জ্ঞানকে শ্রেণিবদ্ধ করে এর বিকাশ, উন্নতি ও অবনতির সূত্রাবলি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সমাজকে জানার জন্য একটি অনন্য সাধারণ বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা তিনি বিশেষভাবে উপলব্ধি করছিলেন। যা পরে 'Sociology' বা সমাজবিজ্ঞান শাস্ত্র হিসেবে আবির্ভাব হয়। তার এ অবদানের জন্য তাকে 'সমাজবিজ্ঞানের জনক' বলা হয়। গ. উদ্দীপকের খান সাহেব আরমান গাজী তাঁর খালাতো ভাই সারাফাতকে 'সমাজবিজ্ঞান' বিষয়ের বিষয়বস্তু শিক্ষা দিয়েছেন। সমাজবিজ্ঞান হলো সমাজের বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ, যা সমাজকাঠামো, সামাজিক সম্পর্ক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং এদের বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে। উদ্দীপকে দেখা যায়, আরমান গাজী সারাফাতকে সমাজকাঠামো, সামাজিক সম্পর্ক ও প্রতিষ্ঠানের বিবর্তন সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন। বিশেষ করে তিনি ভারতবর্ষে মুঘল, পাঠান, লোদী ও খলজি বংশের শাসনামলের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন, যা মূলত সমাজবিজ্ঞানেরই আলোচ্য বিষয়। ভারতীয় উপমহাদেশে সমাজচিন্তার ইতিহাস প্রায় দু'হাজার বছরের পুরোনো। কৌটিল্যের 'অর্থশাস্ত্র', বাৎসায়নের 'কামসূত্র', আল-বেরুনির 'ভারততত্ত্ব', আবুল ফজলের 'আইন-ই-আকবরি', 'আকবরনামা' ইত্যাদি গ্রন্থে উপমহাদেশের সমাজের চমৎকার বিবরণ পাওয়া যায়। ইংরেজ আমলে স্যার উইলিয়াম জোনসের উদ্যোগে ১৭৮৪ খ্রিষ্টাব্দে 'রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে সমাজ চর্চার প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সূচনা হয়। উনিশ শতকের শেষের দিকে স্কটিশ ইতিহাসবিদ উইলিয়াম উইলসন হান্টারের সম্পাদনায় সামাজিক স্কটিশ ইতিহাসবিদ উইলিয়াম উইলসন হান্টারের সম্পাদনায় সামাজিক তথ্যের আকর গ্রন্থ 'The Imperial Gazetteer' প্রকাশিত হলে উপমহাদেশের সমাজ সম্পর্কিত চিন্তাধারা নতুন গতি লাভ করে। এছাড়া হেনরি মেইন, হলিংবেরি, ও'মেলি প্রমুখ ইংরেজ লেখকের রচনায় বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস ও প্রথা-পদ্ধতির সম্যক পরিচয় পাওয়া যায়। ব্রিটিশদের পাশাপাশি বাঙালি বুদ্ধিজীবীরাও তাদের নানা রচনায় সমকালীন সমাজচিত্রের ছবি ফুটিয়ে তুলেছিলেন। ১৮৫৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক সমাজবিজ্ঞান চর্চার সূত্রপাত হয়। বিশের দশকে প্রতিষ্ঠিত শিখা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত লেখকদের রচনাও বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ঘ. উদ্দীপকে নির্দেশিত শাস্ত্র তথা সমাজবিজ্ঞানের চর্চা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বহুকাল আগে হলেও বাংলাদেশে এর পাঠ শুরু হয় ১৭৫৭ সালের পলাশি যুদ্ধের পর। ১৭৫৭ সালে পলাশি যুদ্ধের মাধ্যমে ইংরেজরা ভারতবর্ষের ক্ষমতা দখল করে। ইংরেজরা এদেশের মানুষকে শাসনের নামে সুদীর্ঘকাল শোষণ করে। তাদের শাসনের অনেক নেতিবাচক দিক থাকলেও ইতিবাচক দিকও কম নয়। বিশেষ করে ভারতবর্ষে আধুনিক চিন্তা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারে ব্রিটিশদের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। বিশেষ করে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ, বিধবা বিবাহ চালু, জমিদারি ব্যবস্থার পরিবর্তন ইত্যাদি সমাজকে বদলে দেয়। ইংরেজ শাসনের প্রভাবেই ভারতীয় উপমহাদেশে ১৮৫০-এর দশকে কলকাতা, মাদ্রাজ ও বোম্বে শহরে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাধ্যমেই বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার আনুষ্ঠানিক পথ উন্মুক্ত হয়। পাশাপাশি ইংরেজ প্রশাসকরা শাসনতান্ত্রিক প্রয়োজনে যেসব গেজেট এবং রিপোর্ট প্রকাশ করেন সেগুলোও ভারতীয় উপমহাদেশের সমাজ বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে ভূমিকা রেখেছিল। ইংরেজ শাসকদের পাশাপাশি ব্রিটিশ বুদ্ধিজীবীরাও উপমহাদেশের সমাজ বিশ্লেষণ সম্পর্কিত নানা গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। এসব গ্রন্থ নিঃসন্দেহে উপমহাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশকে ত্বরান্বিত করেছে। বস্তুত বর্তমানে সমাজবিজ্ঞানের যে চর্চা চলমান তার ভিত্তি স্থাপন হয়েছিল ব্রিটিশ আমলেই। উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, ১৭৫৭ সালে পলাশি যুদ্ধের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরই উপমহাদেশে সমাজবিজ্ঞানের চর্চা শুরু হয়, যা আজও চলমান।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ব্যাকুলতার আরেক নাম খান সাহেব আরমান। গাজী কলেজের শিক্ষক, সহপাঠী, বন্ধুমহলে আলী নামেই পরিচিত। এ ব্যাকুলতা নিজের কোনো স্বার্থ হাসিলের নয়। কাউকে কিছু শিক্ষাদানের মাধ্যমেই প্রতিবার শেষ হয় এ ব্যাকুলতার। গত শুক্রবার খালার বাড়িতে আলী ব্যাকুল হয়ে পড়ে কীভাবে সমাজকাঠামো, সামাজিক সম্পর্ক, সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিবর্তন ইত্যাদি খালাতো ভাই সারাফাতকে শেখানো যায় তা নিয়ে। টানা দুই ঘণ্টা শিক্ষাদানের মাধ্যমে সফল হয় আলী। সারাফাত জানতে পারে ভারতবর্ষে মুঘল, পাঠান, লোদী, খলজি প্রভৃতি বংশের শাসনামলের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের নানা বিষয়াবলি।

ক.

'Utopia' গ্রন্থটি কার?

খ.

ফরাসি চিন্তাবিদ অগাস্ট কোঁৎ সমাজবিজ্ঞান বিকাশে কীভাবে অবদান রেখেছেন?

গ.

উদ্দীপকে খান সাহেব আরমান গাজী খালাতো ভাই সারাফাতকে কোন ধরনের বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু শিক্ষা দিয়েছেন? বাংলাদেশে এ বিজ্ঞানচর্চার পটভূমি ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উদ্দীপকে বর্ণিত বিজ্ঞানের ব্যাপক চর্চা বাংলাদেশে শুরু হয় ১৭৫৭সালে পলাশী যুদ্ধের পর, যা আজও চলমান- বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।