Facebook Pixel

ফয়সালের বাসায় একটি ইয়াতিম মেয়ে কাজ করে। সে তাকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসে। তারা নিজেরা যা খায় ও পরে তাকেও তাই খেতে ও পরতে দেয়। কোনো খারাপ আচরণ করে না। অন্যদিকে , ফরিদ তার স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করে। স্ত্রীর কোনো অধিকার স্বীকার করতে চায় না । ক. কত হিজরিতে বিদায় হজ হয়েছিল ? খ. বিদায় হজকে কেন বিদায় হজ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে ? গ. ফয়সালের ব্যবহারে নবি করিম ( স )- এর বিদায় হজের ভাষণের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে ? ব্যাখ্যা করো । ঘ. “ ফরিদ স্ত্রীকে প্রহার করে আল্লাহ ও রাসুলের আদেশ লঙ্ঘন করেছে ”- বিদায় হজের ভাষণ ও নারীর মর্যাদা পাঠের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. দশম হিজরিতে বিদায় হজ হয়েছিল । খ. ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে পালন করা বিদায় হজ্জ ছিল মহানবি ( স ) এর জীবনের সর্বশেষ হজ। তাই এ হজকে বিদায় হজ বলা হয় । হিজরি দশম বছর যখন আরবের লোক দলে দলে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে থাকে তখন মহানবি ( স ) ভাবলেন তার জীবনের কাজ হয়ে গেছে । মৃত্যুর আর বেশি দিন বাকি নেই মনে করে ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে জীবনের শেষ হজব্রত পালন করলেন। হজ শেষে তিনি মদিনায় ফিরে গেল সেখানে তার শিরঃপীড়া দেখা দেয় এবং স্বাস্থ্য ভেঙে পড়তে থাকে। তারপর তিনি ক্রমশ দুর্বল হতে লাগলেন। অবশেষে একাদশ হিজরি , ১২ই রবিউল আউয়াল তিনি ইন্তেকাল করেন। অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্বে তিনি যে হজ করেন সেটি ছিল তার জীবনের সর্বশেষ হজ। তাই এ হজকে হুজ্জাতুল বিদা বা বিদায় হজ বলা হয় । গ. ফয়সালের ব্যবহারে মহানবি ( স )- এর বিদায় হজের ভাষণের অধীনস্তদের প্রতি সঠিক আচরণের দিকটি ফুটে উঠেছে। ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে হজের সময় মহানবি ( স )- এর জীবনের সর্বশেষ দেওয়া ভাষণ হলো বিদায় হজের ভাষণ। এ ভাষণে তিনি মানবতার প্রয়োজনীয় মূলনীতিগুলোর দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। দিকনির্দেশনা অন্ধকার ও অসাম্যের চির অবসান ঘটিয়ে দুনিয়ার বুকে শান্তির আদর্শ এবং এক নতুন আলোকময় যুগের সূচনা করেছে। মহানবি ( স ) এ ভাষণে অধীনস্তদের প্রতি যে আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন ফয়সাল তা বাস্তবায়ন করেছে। ফয়সালের বাসায় একটি এতিম মেয়ে কাজ করে। সে তাকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসে। তারা নিজেরা যা খায় পরে তাকেও তা খাওয়ায় পরায়। তার সাথে কোনো ধরনের খারাপ আচরণ করে না। বিদায় হজের ভাষণে মহানবি ( স ) দাস দাসীর সাথে এমন আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন , তোমাদের দাসদাসীদের প্রতি সদ্ব্যব্যবহার করো। তাদেরকে নির্যাতন করার কোনো অধিকার তোমাদের নেই। তোমরা নিজেরা যা খাও , যে পোশাক পরিধান কর , তাদেরকেও অনুরূপ খাদ্য ও বস্ত্র দান করবে। তারা অপরাধ করলে ক্ষমা করবে অথবা মুক্তি দেবে। স্মরণ রেখো — তারাও আল্লাহর সৃষ্টি এবং তোমাদের মতো মানুষ । মূলত আমাদের অধীনে যারা কাজ করে তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে। তাই রাসুল ( স ) তাদের সাথে সর্বোচ্চ মানবিক আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং দেখা যায় , ফয়সালের ব্যবহারে মহানবি ( স )- এর বিদায় হজের ভাষণের অধীনস্ত লোকদের প্রতি ব্যবহারের নির্দেশনার বাস্তবায়ন ঘটেছে । ঘ. ফরিদ স্ত্রীকে প্রহার করে আল্লাহ ও রাসুলের আদেশ লঙ্ঘন করেছে । ইসলামপূর্ব যুগে নারীরা এক শোচনীয় পরিস্থিতির মধ্যে জীবন অতিবাহিত করতো। তাদের কোনো অধিকার বা মান - সম্মান দেওয়া হতো না। কিন্তু ইসলাম নারীদের এ অপমানজনক অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছে। নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে ইহকালীন ও পরকালীন সফলতা লাভের নির্দেশ দিয়েছেন । ফরিদের কাজে এ নির্দেশ অমান্য করার দৃষ্টান্ত লক্ষণীয় । ফরিদ তার স্ত্রীকে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক মানসিক নির্যাতন করে। এমনকি স্ত্রীর অধিকার পর্যন্ত স্বীকার করতে চায় না। অথচ বিদায় হজের ভাষণে মহানবি ( স ) বলেছেন , স্ত্রীদের উপর তোমাদের যেরূপ অধিকার আছে , স্ত্রীদেরও তোমাদের উপর সেরূপ অধিকার আছে। আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তোমরা তাদেরকে গ্রহণ করেছ এবং তারই আদেশ মতো তাদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করে নিয়েছ। তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করবে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন , “ নারীদের তেমনই ন্যায়সঙ্গত অধিকার আছে। যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের। ( সূরা আল - বাকারাহ আয়াত ২২৮ ) । আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের এ নির্দেশ থেকে বোঝা যায়। নারী হলো পুরুষের ভূষণ। তাই তাদেরকে অন্তর থেকে সম্মান করতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে। স্ত্রী , মা , বোনসহ কোনো নারীকেই কোনোরূপ অত্যাচার করা যাবে না। ঠাট্টা - বিদ্রুপ , তুচ্ছ - তাচ্ছিল্য করা যাবে না। তারা মনে কষ্ট পায়। এমন কোনো কাজ করা যাবে না । মহানবি ( স ) আল্লাহর নির্দেশ মেনে স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন । পরিশেষে বলা যায় যে , স্ত্রীদের সাথে যেমন আচরণ করতে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল হুকুম দিয়েছেন ফরিদ তা লঙ্ঘন করেছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ফয়সালের বাসায় একটি ইয়াতিম মেয়ে কাজ করে। সে তাকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসে। তারা নিজেরা যা খায় ও পরে তাকেও তাই খেতে ও পরতে দেয়। কোনো খারাপ আচরণ করে না। অন্যদিকে, ফরিদ তার স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করে। স্ত্রীর কোনো অধিকার স্বীকার করতে চায় না ।

ক.

কত হিজরিতে বিদায় হজ হয়েছিল ?

খ.

বিদায় হজকে কেন বিদায় হজ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে ?

গ.

ফয়সালের ব্যবহারে নবি করিম (স)-এর বিদায় হজের ভাষণের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো ।

ঘ.

“ফরিদ স্ত্রীকে প্রহার করে আল্লাহ ও রাসুলের আদেশ লঙ্ঘন করেছে”- বিদায় হজের ভাষণ ও নারীর মর্যাদা পাঠের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদের উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রত...

ক. মদিনার পূর্বনাম কী ছিল? খ. মদিনা সনদকে বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান বলা হয় কেন? গ. উল্লিখিত ছকে মহানবি (স)-এর জীবনের ক...

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে আল-আমিন বলা হয়, কারণ তিনি-

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদে উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রতি...

অটোমান সুলতান বায়েজিদ অঙ্গোরার প্রান্তরে তৈমুর লঙ্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মোকাবিলা করেন। যুদ্ধে বায়েজিদ অনেক সৈন্য বিশ্বাস...

অমুসলিমদের থেকে প্রাপ্ত নিরাপত্তা করকে কী বলে

আকাবার প্রথম শপথ কত খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয়?

আকাবার প্রথম শপথে কত জন মদিনাবাসী ছিলেন?

আকাবার শপথ মোট কতবার অনুষ্ঠিত হয়?

আক্কাশ আলী তার এলাকার পথভ্রষ্টকারী মানুষের অত্যাচারের কারণে আপন লোকজন নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। বেশ কিছুদিন পরে প্রতিষ্ঠিত...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।