(ক)
প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত একই পদমর্যাদা সম্পন্ন দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে যে যোগাযোগ সংঘটিত হয়, তাকে সমান্তরাল যোগাযোগ বলে।
(খ)
যে যোগাযোগ পদ্ধতিতে যোগাযোগকারী ও যোগাযোগগ্রহীতা একে অপরের সাথে কথা বলার পাশাপাশি একে অপরকে দেখার সুযোগ পায়, তাকে ভিডিও কনফারেন্সিং বলে।
বর্তমানে এটি একটি বহুল ব্যবহৃত ও জনপ্রিয় যোগাযোগ পদ্ধতি। যদিও এই ধরনের যোগাযোগ পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল, তথাপি বর্তমান বিশ্বের বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এই পদ্ধতির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করে। এই পদ্ধতির প্রধান সুবিধা হলো, ভৌগোলিকভাবে বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত ব্যক্তিবর্গ ইলেকট্রনিক উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন যন্ত্রপাতির সাহায্যে কথোপকথনের পাশাপাশি ভিডিওতে একে অপরকে দেখতে পায়, যা যোগাযোগের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।
(গ)
প্রদত্ত চিত্রটি ব্যবস্থাপনার যোগাযোগ প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ কার্য সম্পাদিত হয়, তাকে যোগাযোগ প্রক্রিয়া বলে। অর্থাৎ, একটি তথ্যের উৎপত্তি থেকে শুরু করে তা প্রেরণ ও গ্রহণ পর্যন্ত যে ধারাবাহিক ধাপগুলো অনুসৃত হয়, তাকেই যোগাযোগ প্রক্রিয়া বলা হয়। যোগাযোগ প্রক্রিয়ায় প্রধানত তিনটি উপাদান জড়িত থাকে: বার্তাপ্রেরক, সংবাদ এবং বার্তাগ্ৰাহক।
উদ্দীপকের চিত্রে যোগাযোগ প্রক্রিয়ার ধাপগুলো দেখানো হয়েছে। এখানে যোগাযোগ কার্যক্রমটি শুরু হয়েছে প্রেরকের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে, যেমন: ধারণার উন্নয়ন, এনকোডিং, মাধ্যম নির্বাচন এবং সংবাদ প্রেরণ। এরপর সংবাদটি প্রাপকের কাছে পৌঁছায় এবং প্রাপক সংবাদ গ্রহণ ও ডিকোডিং করার মাধ্যমে তা বুঝতে পারে। এই ধারাবাহিক প্রবাহটি যোগাযোগ প্রক্রিয়ার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের চিত্রটি ব্যবস্থাপনার যোগাযোগ প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
(ঘ)
পরিপূর্ণ ও কার্যকর যোগাযোগের ক্ষেত্রে 'ক' চিহ্নিত বিষয় অর্থাৎ ফলাবর্তনের গুরুত্ব অপরিসীম।
সংবাদ গ্রহণের পর প্রাপক তার প্রতিক্রিয়া বা প্রত্যুত্তর প্রেরকের নিকট পাঠানোকে ফলাবর্তন বা ফিডব্যাক বলে। ফলাবর্তন হলো যোগাযোগ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়। এটি প্রেরকের সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাপকের প্রদত্ত প্রত্যুত্তর বা মনোভাব।
উদ্দীপকের চিত্রে যোগাযোগ প্রক্রিয়ার একটি প্রবাহ দেখানো হয়েছে, যা প্রেরকের ধারণার উন্নয়ন দিয়ে শুরু হয়ে প্রাপকের ডিকোডিং পর্যন্ত পৌঁছেছে। তবে উক্ত চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান 'ক' নামক স্থানটি খালি রয়েছে, যেখানে ফলাবর্তন বসবে।
যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফলাবর্তনের গুরুত্ব নিম্নোক্ত কারণে অপরিসীম:
১. যোগাযোগ সম্পন্ন করা: প্রেরকের নিকট হতে প্রাপকের নিকট সংবাদ পৌঁছানোর পর উক্ত সংবাদের প্রত্যুত্তর প্রেরকের নিকট পৌঁছানোর মাধ্যমেই যোগাযোগ প্রক্রিয়াটি পূর্ণতা পায়।
২. সঠিকতা যাচাই: প্রেরক যে উদ্দেশ্য নিয়ে সংবাদটি পাঠিয়েছিলেন, প্রাপক তা সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছেন কি না, তা ফলাবর্তনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়।
৩. ভুল সংশোধন: যদি প্রাপক সংবাদটি ভুলভাবে বোঝেন, তবে ফলাবর্তনের মাধ্যমে প্রেরক তা জানতে পারেন এবং পুনরায় সঠিক তথ্য প্রদান করে ভুল সংশোধন করতে পারেন।
৪. লক্ষ্য অর্জন: কার্যকর ফলাবর্তন ছাড়া যোগাযোগ একমুখী থাকে, যা অনেক সময় লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে। দ্বিমুখী যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য দ্রুত ও সঠিকভাবে অর্জন করা সম্ভব হয়।
সুতরাং, বলা যায় যে, যোগাযোগ প্রক্রিয়াকে সার্থক, পরিপূর্ণ ও কার্যকর করতে 'ক' চিহ্নিত ফলাবর্তনের গুরুত্ব অপরিসীম।