Facebook Pixel

পৃথিবীর দীর্ঘ সময় ঘটা ভাষা আন্দোলনের মধ্যে মানভূমের বাংলা ভাষা আন্দোলন একটি। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে এই আন্দোলন তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ে মানভূমের বাঙালিদের মধ্যে। ১৯৫৬ সালের আগে পুরুলিয়া জেলা বিহারের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই সময় রাজনৈতিকভাবে স্কুল- কলেজ ও সরকারি দপ্তরে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। জাতীয় কংগ্রেসের বাংলাভাষী সদস্যদের দ্বারা হিন্দির বিরুদ্ধে আন্দোলনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। গঠিত হয় 'লোকসেবক সংঘ' নামে জাতীয়তাবাদী দল। ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি এতে যোগদান করে। আন্দোলনে হাজার হাজার বাংলাভাষী কারাবরণ করে। ফলে ১৯৫৬ সালে ভারত সরকার মানভূম জেলা ভেঙে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে পুরুলিয়া নামে একটি নতুন জেলা সংযুক্ত করতে বাধ্য হয়। ক. একজন ভাষা শহিদের নাম লেখো। খ. শহিদ মিনার নির্মাণের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত মানভূমের ভাষা আন্দোলনের সাথে তোমার পঠিত কোন আন্দোলনের সাদৃশ্য খুঁজে পাও? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উক্ত আন্দোলনে 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল'- পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ বাংলার ইতিহাস (পাকিস্তান আমল)

উৎস: Board Exam Question RB 2021, Board Exam Question MSB 2021, Board Exam Question DB 2021, Board Exam Question DiB 2021, Board Exam Question CB 2021, Board Exam Question ChB 2021, Board Exam Question JB 2021, Board Exam Question Combined 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) রফিক উদ্দিন আহমদ একজন ভাষা শহিদ। (খ) শহিদ মিনার নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। ১৯৫২ সালের ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে এদেশের ছাত্র ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমেছিল। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাজপথে মিছিলরত শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালায়। এতে রফিক, শফিক, বরকত, জব্বারসহ বেশ কয়েকজন শহিদ হন। এই শহিদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য এবং তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের লক্ষ্যে শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়। (গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত মানভূমের ভাষা আন্দোলনের সাথে ১৯৫২ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের গভীর সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন একটি অনন্য ঘটনা। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার বাঙালিদের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে। বিশেষ করে ভাষার ক্ষেত্রে এই বৈষম্য বাঙালিদের তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং তাঁদের আন্দোলনে বাধ্য করে। উদ্দীপকে বর্ণিত মানভূমের ক্ষেত্রেও অনুরূপ পরিস্থিতি দেখা যায়। উদ্দীপক অনুযায়ী, ১৯৫৬ সালের আগে পুরুলিয়া জেলা বিহারের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তখন রাজনৈতিকভাবে স্কুল, কলেজ ও সরকারি দপ্তরে হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর প্রতিবাদে লোকসেবক সংঘের নেতৃত্বে বাঙালিরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ফলে শেষ পর্যন্ত বাংলা ভাষাভাষী মানুষের দাবি মেনে নিয়ে পুরুলিয়াকে আলাদা জেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং তা পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানিদের হাতে। তারা পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। বাঙালিরা বুঝতে পারে যে, ভাষার এই আঘাত আসলে তাদের সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র। তাই তারা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে, যা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত রূপ নেয়। এই আন্দোলনে রফিক, শফিক, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। সুতরাং বলা যায়, মানভূমের ভাষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন উভয়ই ছিল নিজ নিজ মাতৃভাষার অধিকার রক্ষা এবং সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই, তাই এই দুই আন্দোলনের মধ্যে স্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান। (ঘ) উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্যেই বাঙালির স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতিকে প্রথমবারের মতো ঐক্যবদ্ধ করেছিল। এই আন্দোলন সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে জাগ্রত করে। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালি জাতি বুঝতে পারে যে, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সাথে তাদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মেলবন্ধন অসম্ভব। ভাষা আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট জাতীয়তাবাদী চেতনা পরবর্তী সকল রাজনৈতিক সংগ্রামের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। এই চেতনার প্রভাবেই ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে এক ব্যালট বিপ্লব ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়, যা আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন ঘটায়। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় এবং পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয় এবং জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার লড়াই ছিল না, বরং এটি ছিল বাঙালির জাতীয়তাবোধের জাগরণ। এই জাতীয়তাবাদী চেতনা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল। সুতরাং বলা যায়, ভাষা আন্দোলনের মধ্যেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2021)Mymensingh Board (2021)Dhaka Board (2021)Dinajpur Board (2021)Cumilla Board (2021)Chattogram Board (2021)Jessore Board (2021)Combined Board (2021)

পৃথিবীর দীর্ঘ সময় ঘটা ভাষা আন্দোলনের মধ্যে মানভূমের বাংলা ভাষা আন্দোলন একটি। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে এই আন্দোলন তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ে মানভূমের বাঙালিদের মধ্যে। ১৯৫৬ সালের আগে পুরুলিয়া জেলা বিহারের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই সময় রাজনৈতিকভাবে স্কুল- কলেজ ও সরকারি দপ্তরে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। জাতীয় কংগ্রেসের বাংলাভাষী সদস্যদের দ্বারা হিন্দির বিরুদ্ধে আন্দোলনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। গঠিত হয় 'লোকসেবক সংঘ' নামে জাতীয়তাবাদী দল। ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি এতে যোগদান করে। আন্দোলনে হাজার হাজার বাংলাভাষী কারাবরণ করে। ফলে ১৯৫৬ সালে ভারত সরকার মানভূম জেলা ভেঙে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে পুরুলিয়া নামে একটি নতুন জেলা সংযুক্ত করতে বাধ্য হয়।

ক. একজন ভাষা শহিদের নাম লেখো।

খ. শহিদ মিনার নির্মাণের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত মানভূমের ভাষা আন্দোলনের সাথে তোমার পঠিত কোন আন্দোলনের সাদৃশ্য খুঁজে পাও? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উক্ত আন্দোলনে 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল'- পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসরত বাঙালিরা প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের একটি বিশেষ দিন উদযাপন করেন। তারা দিনের শুরুতে 'আমার ভা...

আগরতলা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি কে ছিলেন?

আগরতলা মামলায় কতজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়?

'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' কত তারিখে পালিত হয়?

আফ্রিকার একটি দেশে এক সামরিক কর্মকর্তা ক্ষমতায় আসীন হন। ক্ষমতায় আসার পর তিনি গণতন্ত্র প্রবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দল গঠন কর...

“আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা, কলুষ আর লজ্জা সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখন্ড বস্ত্র মানবিক ; আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।”...

'আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা, কলুষ আর লজ্জা সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক; আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।' ক...

"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে-ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি?" ক. আবুল বরকত কে ছিলেন? খ. 'তমদ্দুন মজলিশ' কী? ব্যাখ্যা ...

একটি রাষ্ট্রের পাঁচটি প্রদেশের মধ্যে জনবহুল প্রদেশটি কেন্দ্রের নিকট থেকে নানা অগণতান্ত্রিক আচরণের শিকার হয়। উক্ত প্রদেশে...

এশিয়া মহাদেশের দেশটি উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল এ দু'অংশে বিভক্ত ছিল। উত্তরাঞ্চল ছিল প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। নেতৃত্বে ও ক...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।