(ক)
যেসব রাসায়নিক পদার্থ ইমালশনের দুটি অমিশ্রণীয় তরল পদার্থের আন্তঃপৃষ্ঠীয় টান কমিয়ে ইমালশনকে স্থিতিশীল ও স্থায়ী করে, তাদের ইমালসিফায়ার বলে। যেমন: সাবান, ডিটারজেন্ট, প্রোটিন ইত্যাদি।
(খ)
কলয়েডের সুস্থিতির প্রধান কারণ হলো কলয়েড কণাগুলোর আধান এবং ব্রাউনীয় গতি। কলয়েড কণার পৃষ্ঠে নির্দিষ্ট ধরনের আধান থাকে, যার ফলে সমধর্মী আধানযুক্ত কণাগুলো একে অপরকে বিকর্ষণ করে। এই বিকর্ষণ বলের কারণে কণাগুলো একত্রিত হয়ে বড় দলা বা অধঃক্ষেপ তৈরি করতে পারে না। এছাড়া, কলয়েড কণাগুলো অবিরাম ও এলোমেলোভাবে যে ব্রাউনীয় গতি প্রদর্শন করে, তা অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে কণাগুলোর নিচে জমা হওয়া বা থিতিয়ে পড়া রোধ করে। এই দুই শক্তির সম্মিলিত প্রভাবে কলয়েড দ্রবণ দীর্ঘকাল সুস্থিত থাকে।
(গ)
খাদ্য নিরাপত্তায় রসায়নের ভূমিকা অপরিসীম। নিচে এর প্রধান দিকগুলো আলোচনা করা হলো:
১. কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি: উদ্ভিদের পুষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার এবং ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমনে কীটনাশক ও বালাইনাশক তৈরিতে রসায়ন ব্যবহৃত হয়, যা খাদ্য উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
২. খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ: পচনশীল খাদ্যদ্রব্যকে দীর্ঘকাল ভালো রাখার জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক পদ্ধতি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কৌশল রসায়নের ওপর নির্ভরশীল।
৩. খাদ্য সংরক্ষণ: খাদ্যকে অণুজীবের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এবং এর গুণমান বজায় রাখতে বিভিন্ন ফুড প্রিজারভেটিভ বা সংরক্ষণকারী রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়।
৪. পুষ্টিমান নিশ্চিতকরণ: খাদ্যের মান যাচাই এবং ভেজাল শনাক্তকরণে বিভিন্ন রাসায়নিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, যা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করে।
(ঘ)

খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম ফুড প্রিজারভেটিভের মধ্যে প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ স্বাস্থ্যের জন্য অধিক নিরাপদ। নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো:
প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ যেমন: ভিনেগার (এসিটিক এসিড), লবণ, চিনি, সরিষার তেল ইত্যাদি মানবদেহের জন্য সাধারণত ক্ষতিকর নয়। ভিনেগার খাবারের রুচি বাড়ায় এবং হজমে সহায়তা করে। এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে।
অন্যদিকে, কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ যেমন: সোডিয়াম বেনজয়েট, পটাশিয়াম মেটাবাইসালফাইট, সোডিয়াম নাইট্রেট ইত্যাদি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ফলে মানবদেহে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন:
১. সোডিয়াম নাইট্রেট ও নাইট্রাইটের অতিরিক্ত ব্যবহার পাকস্থলীতে ক্ষত ও খাদ্যনালিতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
২. সালফাইট জাতীয় প্রিজারভেটিভ মাইগ্রেন, ত্বকের অ্যালার্জি এবং শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে।
৩. বিএইচটি (BHT) বা বিএইচএ (BHA)-এর মতো কৃত্রিম অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অতিরিক্ত গ্রহণ করলে লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে এগুলো ক্যান্সার সৃষ্টিকারী হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরিশেষে, কৃত্রিম প্রিজারভেটিভের তুলনায় প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। তাই জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে কৃত্রিম প্রিজারভেটিভের ব্যবহার সীমিত রেখে প্রাকৃতিক উপায়ে খাদ্য সংরক্ষণ করাই শ্রেয়।