Facebook Pixel

আদিবা ইসলামের ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক চুক্তি অধ্যয়ন করে জানতে পারে একজন আদর্শ মহাপুরুষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করার জন্য তার মাতৃভূমির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে তিনি অমুসলিমদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে যাত্রাপথে শিবির স্থাপন করতে বাধ্য হন। সেখানে অনেক আলাপ আলোচনার পর বিধর্মীদের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির কারণে আদর্শ মহাপুরুষের জীবনে মহাবিজয় সংঘটিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী তিনি সে বছর ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন না করে নিজ অবস্থানে ফিরে যান। ক. হিজরতের সময় হযরত মুহাম্মদ (সা.) কোন গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন? খ. মুসলমানরা আবিসিনিয়ায় হিজরত করেছিলেন কেন? গ. উদ্দীপকে আদিবার পঠিত চুক্তির সাথে তোমার পঠিত কোন চুক্তির সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত চুক্তিটি কীভাবে মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ বিজয় হয়েছিল পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. হিজরতের সময় হযরত মুহাম্মদ (সা.) সাওর গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। খ. মহানবি (সা.) ইসলাম প্রচার শুরু করলে কুরাইশরা অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অনেক নওমুসলিমকে পুড়িয়েও মারা হয়। নব মুসলিমদের উপর নির্যাতনের মাত্রা চরম আকার ধারণ-করলে মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর নির্দেশে মুসলমানদের অবিসিনিয়ায় হিজরতের পরামর্শ দেন। ফলে মুসলমানরা হযরত ওসমান (রা.) এর নেতৃত্বে মদিনায় হিজরত করবে। এসময় আবিসিনিয়ার রাজা নাজ্জাসি মুসলমানদের সাদরে গ্রহণ করেন। গ. উদ্দীপকে আদিবার পঠিত চুক্তির সাথে ইসলামের ইতিহাসের হুদাইবিয়ার চুক্তির সাদৃশ্য রয়েছে। ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় হিজরতের পর হযরত মুহাম্মদ (সা.) একটি নতুন ইসলামি রাষ্ট্র গঠন করেন। তিনি মদিনায় ৬ বছর অতিবাহিত করার পর ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে মাতৃভূমি দর্শন ও ওমরা হজ পালনের জন্য মক্কাভিমুখে রওয়ানা হন। মহানবি (সা.)-এর আগমনের সংবাদ পেয়ে মক্কার কুরাইশরা খালিদ ও ইকরামার নেতৃত্বে একদল সেনা প্রেরণ করে তাঁকে বাধা প্রদান করে। মহানবি (সা.) বাধাপ্রাপ্ত হয়ে মক্কা থেকে ৯ মাইল দূরে অবস্থিত হুদাইবিয়া নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন। মহানবি (সা.) হযরত উসমান (রা.)-কে প্রতিনিধি প্রেরণ করে কুরাইশদের নিকট তাঁর আগমনের হেতু জানান এবং কুরাইশরা হোলায়েসকে প্রেরণ করে মুসলমানদের মদিনায় ফিরে যাবার অনুরোধ করে। ইতিমধ্যে হযরত উসমান (রা.)-কে হত্যার গুজব রটলে মহানবি (সা.) সকল মুসলমানকে নিয়ে বাইয়াতুর রিজওয়ান গ্রহণ করেন। এ সংবাদ কুরাইশদের নিকট পৌছালে তারা হযরত উসমান (রা.)-কে ছেড়ে দেয় এবং আলাপ আলোচনার পর মহানবি (সা.)-এর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে যা হুদাইবিয়ার সন্ধি নামে পরিচিত। উদ্দীপকে আদিবা জানতে পারে একজন আদর্শ মহাপুরুষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করার জন্য তার মাতৃভূমির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে তিনি অমুসলিমদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে যাত্রাপথে শিবির স্থাপন করতে বাধ্য হন। সেখানে অনেক আলাপ আলোচনার পর বিধর্মীদের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির কারণে আদর্শ মহাপুরুষের জীবনে মহাবিজয় সংঘটিত হয়। অতএব উদ্দীপকের আদিবার জানা চুক্তির সাথে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হুদাইবিয়ার সন্ধি সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘ. ইসলামের প্রচার ও প্রসার এবং সকল দিক বিবেচনায় উল্লিখিত চুক্তি তথা হুদাইবিয়ার সন্ধি মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ বিজয় হয়েছিল। ইসলামের ইতিহাসে হুদাইবিয়ার সন্ধির গুরুত্ব অপরিসীম। মহানবি (সা.) অনেক সাহাবির মতামত অগ্রাহ্য করে এ চুক্তি সম্পাদন করলেও আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এ চুক্তিকে 'ফাতহুম মুবিন' বা প্রকাশ্য বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। হুদাইবিয়ার চুক্তির মাধ্যমেই কুরাইশরা মহানবি (সা.)-কে রাষ্ট্রপ্রধান ও ইসলামকে ধর্ম হিসেবে মেনে নেয়। যার ফলে মুসলমান ও কুরাইশদের ব্যবসা বৃদ্ধি পায় এবং একে অপরের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ লাভ করলে অনেক বিবেকবান কুরাইশ ইসলাম গ্রহণ করে যাদের মধ্যে বিখ্যাত সেনাপতি আমর আল আস ও খালিদ-বিন-ওয়ালিদও ছিলেন। মক্কার থেকে নিরাপত্তার শর্ত লাভ করে মহানবি (সা.) আবিসিনিয়া, মিশর, পারস্যসহ অনেক রাজ্যে ইসলামের মহান বাণী নিয়ে পত্রবাহক প্রেরণ করেন। হযরত আবুবকর (রা) বলেন, "হুদাইবিয়ার সন্ধির ফলে আমরা যেরূপ জয়ী হয়েছিলাম, সেরূপ কখনোই হয়নি।" ঐতিহাসিক ইবনে হিশাম বলেন, "মুহাম্মদ (সা) যেখানে ১৪০০ লোক নিয়ে হুদাইবিয়া গিয়েছিলেন, সেখানে ২ বছর পর ১০,০০০ লোক নিয়ে মক্কা বিজয় করেন।" পরিশেষে বলা যায়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় দিক থেকে হুদাইবিয়ার চুক্তি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম প্রচার ও প্রসারে এ চুক্তির ভূমিকা উল্লেখ করে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে একে যথার্থই ফাতহুম মুবিন বা প্রকাশ্য বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। আর এভাবে এটি মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ বিজয় হয়েছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

আদিবা ইসলামের ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক চুক্তি অধ্যয়ন করে জানতে পারে একজন আদর্শ মহাপুরুষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করার জন্য তার মাতৃভূমির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে তিনি অমুসলিমদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে যাত্রাপথে শিবির স্থাপন করতে বাধ্য হন। সেখানে অনেক আলাপ আলোচনার পর বিধর্মীদের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির কারণে আদর্শ মহাপুরুষের জীবনে মহাবিজয় সংঘটিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী তিনি সে বছর ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন না করে নিজ অবস্থানে ফিরে যান।

ক.

হিজরতের সময় হযরত মুহাম্মদ (সা.) কোন গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন?

খ.

মুসলমানরা আবিসিনিয়ায় হিজরত করেছিলেন কেন?

গ.

উদ্দীপকে আদিবার পঠিত চুক্তির সাথে তোমার পঠিত কোন চুক্তির সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত চুক্তিটি কীভাবে মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ বিজয় হয়েছিল পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদের উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রত...

ক. মদিনার পূর্বনাম কী ছিল? খ. মদিনা সনদকে বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান বলা হয় কেন? গ. উল্লিখিত ছকে মহানবি (স)-এর জীবনের ক...

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে আল-আমিন বলা হয়, কারণ তিনি-

United Nations General Assembly ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এ সনদে উল্লিখিত ধারাসমূহে বিশ্বের প্রতি...

অটোমান সুলতান বায়েজিদ অঙ্গোরার প্রান্তরে তৈমুর লঙ্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মোকাবিলা করেন। যুদ্ধে বায়েজিদ অনেক সৈন্য বিশ্বাস...

অমুসলিমদের থেকে প্রাপ্ত নিরাপত্তা করকে কী বলে

আকাবার প্রথম শপথ কত খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত হয়?

আকাবার প্রথম শপথে কত জন মদিনাবাসী ছিলেন?

আকাবার শপথ মোট কতবার অনুষ্ঠিত হয়?

আক্কাশ আলী তার এলাকার পথভ্রষ্টকারী মানুষের অত্যাচারের কারণে আপন লোকজন নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। বেশ কিছুদিন পরে প্রতিষ্ঠিত...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।