Facebook Pixel

'X' নামক রাষ্ট্রটি প্রায় দুইশত বছর বিদেশি শাসকগোষ্ঠী দ্বারা শাসিত হয়েছে। প্রথম থেকে উক্ত রাষ্ট্রে টিকে থাকার জন্য বিদেশি শাসকগোষ্ঠী নানাবিধ কটকৌশল অবলম্বন করতে থাকে। জনগণকে খুশি করার জন্য বিভিন্ন সময় শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন আইন তৈরি করে। কিন্তু কোনো আইনই উক্ত রাষ্ট্রের জনগণকে খুশি করতে পারেনি। অবশেষে বিদেশি শাসকগোষ্ঠী একটি আইন তৈরি করে 'X' নামক রাষ্ট্রটিকে বিভক্ত করে দুটি পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দিয়ে নিজ দেশে চলে যায়। ক. দ্বিজাতি তত্ত্ব কী? খ তাগ কর ও শাসন কর' নীতি ব্যাখ্যা কর। গ উম্মীপকের ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনারমিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ

উৎস: Board Exam Question SB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) দ্বিজাতি তত্ত্ব হলো মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক প্রবর্তিত একটি রাজনৈতিক মতবাদ, যার মূল কথা ছিল হিন্দু ও মুসলিম এই দুটি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী জাতি নিয়ে ভারত গঠিত এবং তাদের সংস্কৃতি, ধর্ম ও জীবনধারা সম্পূর্ণ আলাদা। (খ) 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতি হলো ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ভারতীয় উপমহাদেশে তাদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার একটি কৌশল। ব্রিটিশ শাসকরা এ অঞ্চলের বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদের পারস্পরিক ঐক্যের শক্তিকে দুর্বল করে দিত। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের শাসনকার্য নির্বিঘ্নে পরিচালনা করত। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ছিল এই নীতির একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ, যেখানে ব্রিটিশরা প্রশাসনিক উন্নয়নের দোহাই দিয়ে মূলত হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করে নিজেদের শাসন সুসংহত করতে চেয়েছিল। (গ) উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের প্রেক্ষাপটের মিল রয়েছে। উদ্দীপকে 'X' নামক রাষ্ট্র বলতে ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষকে বোঝানো হয়েছে, যা প্রায় দুইশত বছর বিদেশি শাসনে ছিল। ব্রিটিশরা তাদের শাসন টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সময় নানা কৌশল অবলম্বন করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত 'আইন'টি হলো ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন। ব্রিটিশ সরকার যখন বুঝতে পারে যে ভারতীয়দের স্বাধীনতা আন্দোলন দমানো সম্ভব নয় এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চরম আকার ধারণ করেছে, তখন তারা ক্ষমতা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। লর্ড মাউন্টব্যাটেনের পরিকল্পনার ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত স্বাধীনতা আইন পাস হয়, যার মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। উদ্দীপকের 'X' রাষ্ট্রকে বিভক্ত করে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দেওয়ার বিষয়টি ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে হুবহু মিলে যায়। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনটি উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. ব্রিটিশ শাসনের অবসান: এই আইনের মাধ্যমে প্রায় দুইশ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। এটি উপমহাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেয়। ২. দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম: এই আইনের ফলে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। এর মাধ্যমে উপমহাদেশের মানচিত্রে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়। ৩. ক্ষমতা হস্তান্তর: আইনটি ব্রিটিশদের হাত থেকে স্থানীয় নেতাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি বৈধ ও সাংবিধানিক ভিত্তি প্রদান করে। এর ফলে গভর্নর জেনারেল ও গভর্নরদের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার বিলুপ্তি ঘটে এবং দায়িত্বশীল সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হয়। ৪. সাংবিধানিক ভিত্তি: এই আইনটি উভয় রাষ্ট্রের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন শাসনতন্ত্র হিসেবে কাজ করে, যা পরবর্তীকালে নিজস্ব সংবিধান প্রণয়নের ভিত্তি তৈরি করে। পরিশেষে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন কেবল দুটি রাষ্ট্রের জন্মই দেয়নি, বরং এটি উপমহাদেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি মাইলফলক। এটি ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে এ অঞ্চলে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও সার্বভৌমত্বের নতুন যুগের সূচনা করেছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenSylhet Board (2025)

'X' নামক রাষ্ট্রটি প্রায় দুইশত বছর বিদেশি শাসকগোষ্ঠী দ্বারা শাসিত হয়েছে। প্রথম থেকে উক্ত রাষ্ট্রে টিকে থাকার জন্য বিদেশি শাসকগোষ্ঠী নানাবিধ কটকৌশল অবলম্বন করতে থাকে। জনগণকে খুশি করার জন্য বিভিন্ন সময় শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন আইন তৈরি করে। কিন্তু কোনো আইনই উক্ত রাষ্ট্রের জনগণকে খুশি করতে পারেনি। অবশেষে বিদেশি শাসকগোষ্ঠী একটি আইন তৈরি করে 'X' নামক রাষ্ট্রটিকে বিভক্ত করে দুটি পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দিয়ে নিজ দেশে চলে যায়।

ক. দ্বিজাতি তত্ত্ব কী?

খ তাগ কর ও শাসন কর' নীতি ব্যাখ্যা কর।

গ উম্মীপকের ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনারমিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হেরে যায় এবং ক্ষমতাসীন দলের চর...

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সময় একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হ্যা এবং ক্ষমতাসীন দলের চরম ভরাডু...

‘A’ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী স্বাধীনতা লাভের পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ অধ্যুষিত একটি অঞ্চলের মাতৃভাষার পরিবর্তে অপর একটি ভাষাকে ...

‘B’ নামক রাষ্ট্রে স্বাধীনতার দুই যুগ পর প্রথম একটি সাধার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল...

‘H’ রাষ্ট্রের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য শাসকগোষ্ঠী তাদের জনপ্রিয় নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মা...

‘H’ রাষ্ট্রের সামরিক শাসক রাষ্ট্রটির একটি অংশের জনগণের উপর ঔপনিবেশিক কায়দায় শাসন-শোষণ আরম্ভ করে। জনগণ এতে প্রতিবাদমুখর...

'M' ও 'N' নামক দুটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদ্যমান ছিল। 'M' প্রদেশের নেতৃবৃন্দরাই...

M' রাষ্ট্রটি দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। এর পরই রাষ্ট্রটির এক অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠী অন্য অঞ্চলের জনগণের উপ...

'S' নামক রাষ্ট্র দুটো অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। তন্মধ্যে শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাকে বাদ দিয়ে সংখ্যালঘিষ্ঠের ভাষাকে রাষ্ট্...

X ও Y দুটি অংশ নিয়ে Z রাষ্ট্র গঠিত। Z রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী X অংশের মাত্র ৩% লোকের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেয...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।