Facebook Pixel

'M' ও 'N' নামক দুটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদ্যমান ছিল। 'M' প্রদেশের নেতৃবৃন্দরাই স্বাধীনতার শুরু থেকে শাসন ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিল। সে কারণে 'N' প্রদেশটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নানা বৈষম্যের শিকার হয়। 'N' অঞ্চলের একজন মহান নেতা বৈষম্য অবসানের লক্ষ্যে কয়েকটি দাবি পেশ করেন। উক্ত দাবিতে প্রাদেশিক রাজস্ব ব্যবস্থা, সুশাসন, বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা ও সরকারি চাকরিতে 'N' প্রদেশের জনগণের জন্য কোটা সিস্টেম রাখার কর্মসূচি পেশ করা হয়। ক. ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন কে জারি করেন? খ. ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল অখণ্ড পাকিস্তানের শেষ মৃত্যুবার্তা- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে 'N' প্রদেশের মহান নেতার উত্থাপিত দাবির সাথে তোমার পঠিত কোন কর্মসূচির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশ ও স্বাধীনতা অর্জনে উক্ত কর্মসূচির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ

উৎস: Board Exam Question DiB 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা সামরিক শাসন জারি করেন। (খ) ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল অখণ্ড পাকিস্তানের জন্য ছিল এক চূড়ান্ত রাজনৈতিক পরাজয় ও শেষ মৃত্যুবার্তা। এই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে, পশ্চিম পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) পশ্চিম পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। নির্বাচনের এই ফলাফল স্পষ্ট করে দেয় যে, পাকিস্তানের দুই অংশের জনমত সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এই গণতান্ত্রিক রায় মেনে নিতে ব্যর্থ হয় এবং ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। এই অগণতান্ত্রিক মনোভাব ও নির্বাচনের রায়কে অস্বীকার করার প্রবণতা অখণ্ড পাকিস্তানের অস্তিত্বকে সংকটের মুখে ঠেলে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ভাঙন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করে। (গ) উদ্দীপকে 'N' প্রদেশের মহান নেতার উত্থাপিত দাবির সাথে আমার পঠিত ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' কর্মসূচির হুবহু মিল রয়েছে। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত 'N' প্রদেশটি মূলত পূর্ব পাকিস্তান এবং 'M' প্রদেশটি পশ্চিম পাকিস্তানকে নির্দেশ করছে। উদ্দীপকে বর্ণিত প্রাদেশিক রাজস্ব ব্যবস্থা, সুশাসন, বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা এবং সরকারি চাকরিতে কোটা সিস্টেমের দাবিগুলো ছয় দফার মূল ভিত্তি। ছয় দফার ৩ নম্বর দফায় বৈদেশিক বাণিজ্য এবং ৪ নম্বর দফায় রাজস্ব ও কর সংক্রান্ত ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া, সরকারি চাকরিতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ন্যায্য অধিকার ও কোটা ব্যবস্থার দাবিও ছয় দফার সামগ্রিক স্বায়ত্তশাসনের দাবির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং, উদ্দীপকের 'N' অঞ্চলের নেতার দাবিগুলো মূলত বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফারই প্রতিফলন। (ঘ) বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ও স্বাধীনতা অর্জনে ছয় দফা কর্মসূচির গুরুত্ব অপরিসীম। ছয় দফা ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ, যা বাঙালিকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। প্রথমত, ছয় দফার মাধ্যমে বাঙালিরা প্রথমবারের মতো সুসংগঠিতভাবে স্বায়ত্তশাসনের দাবি পেশ করে। এটি ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে সূচিত বাঙালি জাতীয়তাবাদকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপ দেয়। ছয় দফার প্রচারণার ফলে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ তাদের ওপর চলা শোষণ ও বৈষম্যের স্বরূপ বুঝতে পারে এবং নিজেদের স্বকীয়তা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়। দ্বিতীয়ত, ছয় দফার আন্দোলনই ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনের ভিত্তি তৈরি করে। সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় ছিল ছয় দফার প্রতি জনগণের গণরায়। পাকিস্তানি শাসকরা এই রায় মেনে না নিয়ে যখন দমন-পীড়ন শুরু করে, তখন ছয় দফার স্বায়ত্তশাসনের দাবিই স্বাধীনতার দাবিতে রূপান্তরিত হয়। পরিশেষে বলা যায়, ছয় দফা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চালিকাশক্তি। এই কর্মসূচির মাধ্যমেই বাঙালি জাতি তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের চেতনা লাভ করে, যা শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনে চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDinajpur Board (2023)

'M' ও 'N' নামক দুটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদ্যমান ছিল। 'M' প্রদেশের নেতৃবৃন্দরাই স্বাধীনতার শুরু থেকে শাসন ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিল। সে কারণে 'N' প্রদেশটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নানা বৈষম্যের শিকার হয়। 'N' অঞ্চলের একজন মহান নেতা বৈষম্য অবসানের লক্ষ্যে কয়েকটি দাবি পেশ করেন। উক্ত দাবিতে প্রাদেশিক রাজস্ব ব্যবস্থা, সুশাসন, বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা ও সরকারি চাকরিতে 'N' প্রদেশের জনগণের জন্য কোটা সিস্টেম রাখার কর্মসূচি পেশ করা হয়।

ক. ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন কে জারি করেন?

খ. ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল অখণ্ড পাকিস্তানের শেষ মৃত্যুবার্তা- ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে 'N' প্রদেশের মহান নেতার উত্থাপিত দাবির সাথে তোমার পঠিত কোন কর্মসূচির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশ ও স্বাধীনতা অর্জনে উক্ত কর্মসূচির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হেরে যায় এবং ক্ষমতাসীন দলের চর...

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সময় একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হ্যা এবং ক্ষমতাসীন দলের চরম ভরাডু...

‘A’ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী স্বাধীনতা লাভের পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ অধ্যুষিত একটি অঞ্চলের মাতৃভাষার পরিবর্তে অপর একটি ভাষাকে ...

‘B’ নামক রাষ্ট্রে স্বাধীনতার দুই যুগ পর প্রথম একটি সাধার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল...

‘H’ রাষ্ট্রের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য শাসকগোষ্ঠী তাদের জনপ্রিয় নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মা...

‘H’ রাষ্ট্রের সামরিক শাসক রাষ্ট্রটির একটি অংশের জনগণের উপর ঔপনিবেশিক কায়দায় শাসন-শোষণ আরম্ভ করে। জনগণ এতে প্রতিবাদমুখর...

M' রাষ্ট্রটি দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। এর পরই রাষ্ট্রটির এক অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠী অন্য অঞ্চলের জনগণের উপ...

'S' নামক রাষ্ট্র দুটো অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। তন্মধ্যে শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাকে বাদ দিয়ে সংখ্যালঘিষ্ঠের ভাষাকে রাষ্ট্...

X ও Y দুটি অংশ নিয়ে Z রাষ্ট্র গঠিত। Z রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী X অংশের মাত্র ৩% লোকের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেয...

'X' নামক রাষ্ট্রটি প্রায় দুইশত বছর বিদেশি শাসকগোষ্ঠী দ্বারা শাসিত হয়েছে। প্রথম থেকে উক্ত রাষ্ট্রে টিকে থাকার জন্য বিদেশি...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।