Facebook Pixel

‘H’ রাষ্ট্রের সামরিক শাসক রাষ্ট্রটির একটি অংশের জনগণের উপর ঔপনিবেশিক কায়দায় শাসন-শোষণ আরম্ভ করে। জনগণ এতে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। বিভিন্ন পন্থায় সরকার এ সকল আন্দোলন প্রতিহত করার চেষ্টা করে। সাধারণ জনগণ তাদের এক অবিসংবাদিত নেতার নেতৃত্বে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলে। গণআন্দোলনের চাপে নতি স্বীকার করে সামরিক সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ক. আগরতলা মামলার প্রধান আসামি কে ছিলেন? খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে তোমার পঠিত কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. পাকিস্তানের রাজনীতিতে উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনাটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ

উৎস: Board Exam Question BB 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। (খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে একটি ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় প্রদেশগুলোর নিজস্ব শাসন পরিচালনার ক্ষমতাকে বোঝায়। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তনের বিধান রাখা হয়েছিল। এর মূল ভিত্তি ছিল তিনটি: প্রথমত, সংবিধান অনুযায়ী প্রাদেশিক সরকারের ওপর ন্যস্ত বিষয়গুলোতে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। দ্বিতীয়ত, প্রদেশগুলোতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে দায়িত্বশীল সরকার গঠিত হবে। তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রদেশ নিজস্ব আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ বা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ পাবে। সংক্ষেপে, প্রদেশগুলোর সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রাপ্তি এবং প্রাদেশিক সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হলো প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন। (গ) উদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে আমার পঠিত ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সাদৃশ্য রয়েছে। ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। এর প্রতিবাদে এবং আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের অবসানের দাবিতে ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে এই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। এই গণআন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান আসাদ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন। ৬ দফা ও ১১ দফার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই গণঅভ্যুত্থানের চাপে শেষ পর্যন্ত ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘H’ রাষ্ট্রটি পাকিস্তান এবং এর সামরিক শাসক আইয়ুব খানের শাসন-শোষণের সাথে মিলে যায়। উদ্দীপকের সাধারণ জনগণ যেমন তাদের অবিসংবাদিত নেতার নেতৃত্বে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত সামরিক সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়, ঠিক একইভাবে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানেও বাঙালি জাতি তাদের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বৈরাচারী আইয়ুব শাহীর পতন ঘটিয়েছিল। সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনাটি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ। (ঘ) পাকিস্তানের রাজনীতিতে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী এবং বৈপ্লবিক। এই গণঅভ্যুত্থানের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করতে সরকার বাধ্য হয়। উদ্দীপকের ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ এই গণঅভ্যুত্থানের প্রভাবগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকাশ: এই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার জনগণের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। তিনি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত হন। ২. ভীতি দূরীকরণ: পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ও পুলিশের প্রতি বাঙালি জনসাধারণের যে দীর্ঘদিনের ভীতি ছিল, তা এই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথে সাহসিকতার সাথে লড়াই করার মাধ্যমে অনেকটা হ্রাস পায়। ৩. স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি: গণঅভ্যুত্থানের ফলে বাঙালির মনে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা তীব্রতর হয়। এটি ছিল মূলত ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি চূড়ান্ত প্রস্তুতির পর্যায়। ৪. ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রভাব: আইয়ুব সরকারের পতনের পর ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে এই গণঅভ্যুত্থানের প্রভাব স্পষ্ট ছিল। জনগণ ৬ দফার পক্ষে রায় দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে। ৫. চূড়ান্ত বিজয়: শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করলে এবং ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা শুরু করলে বাঙালি জাতি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানই বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিশেষে বলা যায়, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তানের রাজনীতিতে একটি টার্নিং পয়েন্ট, যা বাঙালি জাতীয়তাবাদকে সুসংহত করে এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্মপথ প্রশস্ত করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2021)

‘H’ রাষ্ট্রের সামরিক শাসক রাষ্ট্রটির একটি অংশের জনগণের উপর ঔপনিবেশিক কায়দায় শাসন-শোষণ আরম্ভ করে। জনগণ এতে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। বিভিন্ন পন্থায় সরকার এ সকল আন্দোলন প্রতিহত করার চেষ্টা করে। সাধারণ জনগণ তাদের এক অবিসংবাদিত নেতার নেতৃত্বে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলে। গণআন্দোলনের চাপে নতি স্বীকার করে সামরিক সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

ক. আগরতলা মামলার প্রধান আসামি কে ছিলেন?

খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে তোমার পঠিত কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. পাকিস্তানের রাজনীতিতে উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনাটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হেরে যায় এবং ক্ষমতাসীন দলের চর...

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সময় একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হ্যা এবং ক্ষমতাসীন দলের চরম ভরাডু...

‘A’ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী স্বাধীনতা লাভের পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ অধ্যুষিত একটি অঞ্চলের মাতৃভাষার পরিবর্তে অপর একটি ভাষাকে ...

‘B’ নামক রাষ্ট্রে স্বাধীনতার দুই যুগ পর প্রথম একটি সাধার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল...

‘H’ রাষ্ট্রের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য শাসকগোষ্ঠী তাদের জনপ্রিয় নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মা...

'M' ও 'N' নামক দুটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদ্যমান ছিল। 'M' প্রদেশের নেতৃবৃন্দরাই...

M' রাষ্ট্রটি দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। এর পরই রাষ্ট্রটির এক অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠী অন্য অঞ্চলের জনগণের উপ...

'S' নামক রাষ্ট্র দুটো অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। তন্মধ্যে শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাকে বাদ দিয়ে সংখ্যালঘিষ্ঠের ভাষাকে রাষ্ট্...

X ও Y দুটি অংশ নিয়ে Z রাষ্ট্র গঠিত। Z রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী X অংশের মাত্র ৩% লোকের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেয...

'X' নামক রাষ্ট্রটি প্রায় দুইশত বছর বিদেশি শাসকগোষ্ঠী দ্বারা শাসিত হয়েছে। প্রথম থেকে উক্ত রাষ্ট্রে টিকে থাকার জন্য বিদেশি...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।