Facebook Pixel

'M' দেশে সরকারের বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক চাহিদা বেড়েছে ও মুদ্রাস্ফীতি ঘটেছে। অপরদিকে, 'N' দেশে হরতাল, ধর্মঘট, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং উপকরণ খরচ বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক জোগান হ্রাস পেয়ে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে। ক. GNP ডিফ্লেটর কী? খ. মুদ্রাস্ফীতি সবসময় খারাপ নয় কেন? ব্যাখ্যা কর। গ. 'M' ও 'N' দেশের মুদ্রাস্ফীতির ধরন ব্যাখ্যা কর। ঘ. 'N' দেশে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপসমূহ বর্ণনা কর।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ মুদ্রাস্ফীতি

উৎস: Board Exam Question BB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন বা GNP-এর নামিক মূল্য (Nominal GNP) এবং প্রকৃত মূল্যের (Real GNP) অনুপাতকে GNP ডিফ্লেটর বলা হয়। (খ) অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি সবসময় ক্ষতিকর নয়। সহনীয় মাত্রায় মুদ্রাস্ফীতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যখন দামস্তর ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়, তখন উৎপাদকদের মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা তাদের নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত করে। এর ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা বেকারত্ব হ্রাসে সহায়তা করে। তাই অর্থনীতিতে ভারসাম্য বজায় রেখে সহনীয় মাত্রার মুদ্রাস্ফীতি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করে। (গ) উদ্দীপকের 'M' ও 'N' দেশের মুদ্রাস্ফীতির ধরন নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: 'M' দেশের মুদ্রাস্ফীতি: উদ্দীপক অনুযায়ী, 'M' দেশে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক চাহিদা বেড়েছে। অর্থনীতিতে যখন সামগ্রিক চাহিদা সামগ্রিক জোগানের তুলনায় বৃদ্ধি পায়, তখন যে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয় তাকে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Demand-pull inflation) বলা হয়। এখানে চাহিদার আধিক্যই মুদ্রাস্ফীতির মূল কারণ। 'N' দেশের মুদ্রাস্ফীতি: 'N' দেশে হরতাল, ধর্মঘট, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং উপকরণ খরচ বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক জোগান হ্রাস পেয়েছে। যখন উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি বা সরবরাহের ঘাটতির কারণে সামগ্রিক জোগান কমে যায় এবং দামস্তর বৃদ্ধি পায়, তখন তাকে ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Cost-push inflation) বলা হয়। 'N' দেশের ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ফলে এই ধরনের মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়েছে। (ঘ) 'N' দেশে ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো: ১. উৎপাদন বৃদ্ধি: কৃষি ও শিল্প খাতে উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে পণ্যের জোগান বৃদ্ধি করতে হবে। জোগান বাড়লে ঘাটতি কমে এবং দামস্তর স্থিতিশীল থাকে। ২. উৎপাদন খরচ হ্রাস: কাঁচামাল ও উপকরণের দাম কমিয়ে উৎপাদন খরচ কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এতে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং বাজারে দামের ওপর চাপ হ্রাস পাবে। ৩. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ: হরতাল ও ধর্মঘটের মতো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মুদ্রাস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করে। তাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি, যাতে উৎপাদন প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন থাকে। ৪. রেশনিং ও বাজার তদারকি: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ন্যায্যমূল্যের দোকান বা রেশনিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। এছাড়া অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি রোধে কঠোর বাজার তদারকি প্রয়োজন। ৫. প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা: প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে দ্রুত পুনর্বাসনের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে হবে। উপরে উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে 'N' দেশের ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2025)

'M' দেশে সরকারের বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক চাহিদা বেড়েছে ও মুদ্রাস্ফীতি ঘটেছে। অপরদিকে, 'N' দেশে হরতাল, ধর্মঘট, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং উপকরণ খরচ বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক জোগান হ্রাস পেয়ে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে।

ক. GNP ডিফ্লেটর কী?

খ. মুদ্রাস্ফীতি সবসময় খারাপ নয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

গ. 'M' ও 'N' দেশের মুদ্রাস্ফীতির ধরন ব্যাখ্যা কর।

ঘ. 'N' দেশে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপসমূহ বর্ণনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।