Facebook Pixel

'A' দেশে ২০১৮ সালে ভোক্তার মূল্যসূচক ছিল ১৬০। ২০২০ সালে ঐ দেশের ভোক্তার মূল্যসূচক বেড়ে ১৮০ হয়। এর ফলে উৎপাদনকারীরা লাভবান হলেও গরিব ও সীমিত আয়ের লোক ভোগান্তির শিকার হয়। ক. মুদ্রা সংকোচন কী? খ. “মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থের মূল্য হ্রাস পায়”-ব্যাখ্যা করো। গ. 'A' দেশের ২০২০ সালে মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় করো। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে উৎপাদনকারী এবং গরিব ও সীমিত আয়ের লোকের ওপর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব আলোচনা করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ মুদ্রাস্ফীতি

উৎস: Board Exam Question SB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) অর্থনীতিতে সাধারণ দামস্তর ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ার প্রবণতাকে মুদ্রা সংকোচন (Deflation) বলা হয়। (খ) মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বা অর্থের মূল্য হ্রাস পায়। মুদ্রাস্ফীতি হলো এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে বাজারে পণ্যের দামস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়। অর্থের মূল্য বলতে অর্থের ক্রয়ক্ষমতাকে বোঝায়, অর্থাৎ এক একক মুদ্রা দিয়ে বাজারে কতটুকু পণ্য কেনা যায়। দামস্তর এবং অর্থের মূল্যের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান। যখন মুদ্রাস্ফীতির কারণে বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায়, তখন একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে আগের চেয়ে কম পরিমাণ পণ্য ক্রয় করা সম্ভব হয়। ফলে অর্থের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বা অর্থের মূল্য কমে যায়। (গ) মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয়ের সূত্রটি হলো: R = I_2 - I_1/I_1 × 100% এখানে, R হলো মুদ্রাস্ফীতির হার, I_1 হলো ভিত্তি বছরের সূচক এবং I_2 হলো বর্তমান বছরের সূচক। উদ্দীপক অনুযায়ী, 'A' দেশে ২০১৮ সালে ভোক্তার মূল্যসূচক I_1 = 160 এবং ২০২০ সালে তা বেড়ে I_2 = 180 হয়েছে। সুতরাং, মুদ্রাস্ফীতির হার: beginaligned R &= 180 - 160/160 × 100% &= 20/160 × 100% &= 0.125 × 100% &= 12.5% endaligned অতএব, 'A' দেশে ২০২০ সালে মুদ্রাস্ফীতির হার ১২.৫%। (ঘ) মুদ্রাস্ফীতি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ওপর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলে। উদ্দীপকের আলোকে উৎপাদনকারী এবং গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর এর প্রভাব নিচে আলোচনা করা হলো: উৎপাদনকারীর ওপর প্রভাব: মুদ্রাস্ফীতির ফলে উৎপাদনকারীরা সাধারণত লাভবান হন। মুদ্রাস্ফীতির সময় পণ্যের দাম যে হারে বৃদ্ধি পায়, উৎপাদন খরচ বা উপকরণের দাম সেই হারে বাড়ে না। ফলে উৎপাদনকারীদের মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, উৎপাদিত পণ্যের মজুদ মূল্যের ওপরও তারা বাড়তি মুনাফা অর্জন করতে পারেন। তাই 'A' দেশে মুদ্রাস্ফীতির ফলে উৎপাদনকারীরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর প্রভাব: মুদ্রাস্ফীতির ফলে গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুদ্রাস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে যায়, কিন্তু এই শ্রেণির মানুষের আয় সাধারণত স্থির থাকে বা দাম বাড়ার অনুপাতে বৃদ্ধি পায় না। ফলে তাদের প্রকৃত আয় কমে যায় এবং তারা আগের চেয়ে কম পরিমাণ পণ্য ভোগ করতে বাধ্য হয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' দেশে ১২.৫% মুদ্রাস্ফীতি হওয়ায় নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে এবং তাদের ভোগান্তির কারণ হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, মুদ্রাস্ফীতি উৎপাদনকারীদের জন্য ইতিবাচক হলেও গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenSylhet Board (2022)

'A' দেশে ২০১৮ সালে ভোক্তার মূল্যসূচক ছিল ১৬০। ২০২০ সালে ঐ দেশের ভোক্তার মূল্যসূচক বেড়ে ১৮০ হয়। এর ফলে উৎপাদনকারীরা লাভবান হলেও গরিব ও সীমিত আয়ের লোক ভোগান্তির শিকার হয়।

ক. মুদ্রা সংকোচন কী? খ. “মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থের মূল্য হ্রাস পায়”-ব্যাখ্যা করো। গ. 'A' দেশের ২০২০ সালে মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় করো। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে উৎপাদনকারী এবং গরিব ও সীমিত আয়ের লোকের ওপর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব আলোচনা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।