Facebook Pixel

'A' দেশের দামস্তর ক্রমাগত বাড়ছে। দেশটিতে ২০১৯ ও ২০২০ সালের ভোক্তার দাম সূচক যথাক্রমে ১২৫ ও ১৫০। ফলস্বরূপ দেশটির কৃষক, সীমিত আয়ের জনগণ, উৎপাদক, ব্যবসায়ী, ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার ওপর বিভিন্ন প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। ক. ভোক্তার দাম সূচক কী? খ. সরকারি ব্যয় কীভাবে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করে? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের আলোকে 'A' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার পরিমাপ করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভিন্ন শ্রেণিতে ব্যক্তির ওপর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব আলোচনা করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ মুদ্রাস্ফীতি

উৎস: Board Exam Question MSB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ভোক্তার দাম সূচক বা কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) হলো এমন একটি সূচক যা নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়কৃত নির্দিষ্ট কিছু পণ্য ও সেবার দামের গড় পরিবর্তনের হার পরিমাপ করে। (খ) সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির একটি অন্যতম প্রধান কারণ। সরকার যখন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও অনুন্নয়নমূলক কাজের জন্য তার আয়ের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয় করে, তখন অর্থনীতিতে অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এই অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে সরকার অনেক সময় নতুন নোট ছাপায় অথবা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে। এর ফলে জনগণের হাতে অর্থের পরিমাণ বেড়ে যায়, কিন্তু স্বল্পকালে বাজারে পণ্য ও সেবার উৎপাদন সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায় না। ফলে সামগ্রিক চাহিদার তুলনায় সামগ্রিক জোগান কম হওয়ায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায় এবং মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। (গ) উদ্দীপকে 'A' দেশের ২০১৯ সালের দামসূচককে ভিত্তি বছর এবং ২০২০ সালের দামসূচককে চলতি বছর হিসেবে বিবেচনা করা হলো। এখানে, ভিত্তি বছরের দামসূচক, P_0 = 125 চলতি বছরের দামসূচক, P_1 = 150 মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয়ের সূত্রটি হলো: textRate = P_1 - P_0/P_0 × 100% মান বসিয়ে পাই, beginaligned textRate &= 150 - 125/125 × 100% &= 25/125 × 100% &= 0.2 × 100% &= 20% endaligned অতএব, 'A' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার ২০%। (ঘ) মুদ্রাস্ফীতি সমাজে আয় ও সম্পদ বণ্টনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। উদ্দীপকের 'A' দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার ২০%, যা অর্থনীতিতে বিভিন্ন শ্রেণির ওপর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলে: ১. কৃষক, উৎপাদক ও ব্যবসায়ী: মুদ্রাস্ফীতির সময় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই শ্রেণির মানুষ লাভবান হয়। কারণ দামস্তর বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের উৎপাদন খরচ তাৎক্ষণিকভাবে বৃদ্ধি পায় না, ফলে তারা অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারে। ২. ঋণগ্রহীতা: মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। ফলে ঋণগ্রহীতারা যে পরিমাণ অর্থ ঋণ নিয়েছিল, তার প্রকৃত মূল্য কমে যায়। এতে ঋণগ্রহীতারা লাভবান হয়। ৩. সীমিত আয়ের জনগণ: মুদ্রাস্ফীতির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। সীমিত আয়ের মানুষের আয় স্থির থাকায় তারা আগের চেয়ে কম পরিমাণ পণ্য ক্রয় করতে বাধ্য হয়, ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান হ্রাস পায় এবং তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৪. ঋণদাতা: ঋণদাতারা মুদ্রাস্ফীতির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ তারা যে পরিমাণ অর্থ ঋণ দিয়েছিল, মুদ্রাস্ফীতির কারণে ফেরত পাওয়া অর্থের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। পরিশেষে বলা যায়, মুদ্রাস্ফীতি সমাজে আয় ও সম্পদ বণ্টনে বৈষম্য সৃষ্টি করে, যেখানে এক পক্ষ লাভবান হলেও অন্য পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenMymensingh Board (2022)

'A' দেশের দামস্তর ক্রমাগত বাড়ছে। দেশটিতে ২০১৯ ও ২০২০ সালের ভোক্তার দাম সূচক যথাক্রমে ১২৫ ও ১৫০। ফলস্বরূপ দেশটির কৃষক, সীমিত আয়ের জনগণ, উৎপাদক, ব্যবসায়ী, ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার ওপর বিভিন্ন প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। ক. ভোক্তার দাম সূচক কী? খ. সরকারি ব্যয় কীভাবে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করে? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের আলোকে 'A' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার পরিমাপ করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভিন্ন শ্রেণিতে ব্যক্তির ওপর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব আলোচনা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।