ক.
$\text{COS}-$ এর পূর্ণরূপ হলো $\text{Charity Organization Society}$।
খ.
সমাজকর্ম পেশায় নিয়োজিত কর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত এবং কাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় সম্পর্কিত নির্দিষ্ট বিশ্বাস ও মানদণ্ডকেই সমাজকর্ম মূল্যবোধ বা $\text{Social Work Values}$ বলা হয়। সমাজকর্মীরা সাহায্যার্থীর সমস্যার সমাধান এবং তাদের সাথে পেশাগত সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে এই মূল্যবোধগুলো (যেমন: ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি, আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার, গোপনীয়তা ইত্যাদি) কঠোরভাবে মেনে চলেন।
গ.
উদ্দীপকে '$?$' চিহ্নিত প্রত্যয়টি দ্বারা 'শিল্পবিপ্লব' বা $\text{Industrial Revolution}$-কে বোঝানো হয়েছে।
$১৭৬০$ থেকে $১৮৫০$ সালের মধ্যবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডে উৎপাদন ব্যবস্থায় এবং আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির আবিষ্কারের ফলে যে যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়, তাকেই ইতিহাসে শিল্পবিপ্লব বলা হয়। উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত সময়কাল $(১৭৬০-১৮৫০),$ সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন এবং এর ফলে সুসংগঠিত সমাজকল্যাণ ধারার উদ্ভবের বিষয়টি সরাসরি শিল্পবিপ্লবের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে নির্দেশ করে। শিল্পবিপ্লবের ফলেই হস্তচালিত যন্ত্রের বদলে শক্তিচালিত যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয় এবং সমাজব্যবস্থা দ্রুত কৃষিভিত্তিক কাঠামো থেকে শিল্পভিত্তিক সমাজে রূপান্তরিত হয়।
ঘ.
উদ্দীপকের '$?$' চিহ্নিত প্রত্যয়টি হলো 'শিল্পবিপ্লব'। শিল্পবিপ্লবের ফলে সৃষ্ট আর্থসামাজিক পরিবর্তন ও জটিল সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে গিয়েই মূলত পরবর্তীতে আধুনিক পেশাদার সমাজকর্মের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটে।
নিচে এর সাপেক্ষে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জটিল সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি: শিল্পবিপ্লবের ফলে সমাজে অভাবনীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এলেও এর নেতিবাচক প্রভাবে বস্তি সমস্যা, বেকারত্ব, শিশুশ্রম, কিশোর অপরাধ, পতিতাবৃত্তি ও পারিবারিক বিশৃঙ্খলার মতো বহুমুখী ও জটিল সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
২. সনাতন সমাজকল্যাণের ব্যর্থতা: শিল্পবিপ্লব-পূর্ববর্তী সময়ে মানুষের সমস্যাগুলো ছিল সহজ ও সাধারণ, যা ধর্মীয় মূল্যবোধ ও স্বেচ্ছাসেবী দানের মাধ্যমে সমাধান করা যেত। কিন্তু শিল্পবিপ্লব সৃষ্ট এই জটিল ও বহুমাত্রিক সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সনাতন বা ঐতিহ্যবাহী সমাজকল্যাণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।
৩. বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা: জটিল সমস্যাগুলোর স্থায়ী ও বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানের জন্য এমন একদল কর্মীর প্রয়োজন দেখা দেয়, যাদের তাত্ত্বিক জ্ঞান ও বাস্তব দক্ষতা রয়েছে। ফলে মানুষের আচরণের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধানের জন্য সমাজকল্যাণ কার্যক্রমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের প্রয়োগ শুরু হয়।
৪. পেশাদারিত্বের বিকাশ: সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান, সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি এবং পেশাগত মূল্যবোধ যুক্ত হওয়ায় সাধারণ সমাজকল্যাণ কার্যক্রম ধীরে ধীরে একটি সুপরিকল্পিত, সুসংগঠিত এবং আধুনিক পেশাদার সমাজকর্মে রূপান্তরিত হয়, যা উদ্দীপকের ছকে নির্দেশ করা হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, শিল্পবিপ্লব যদি না হতো, তবে সমাজে এতো জটিল সমস্যার সৃষ্টি হতো না এবং সেসব সমস্যা সমাধানে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক পেশাদার সমাজকর্মেরও প্রয়োজন দেখা দিত না। তাই আধুনিক সমাজকর্মের বিকাশে শিল্পবিপ্লবের প্রভাব অনস্বীকার্য।