ক.
১৯৪২ সালে ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ স্যার উইলিয়াম বিভারিজ ইংল্যান্ডের আর্থসামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর জন্য এবং সমাজের ৫টি বৃহৎ সমস্যা দূর করে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে যে ঐতিহাসিক প্রতিবেদন পেশ করেন, তাকেই বিভারিজ রিপোর্ট বা $\text{Beveridge Report}$ বলা হয়।
খ.
সমাজকর্ম সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে কেবল সাময়িক ত্রাণ বা বস্তুগত সাহায্য দেয় না, বরং তার সুপ্ত ক্ষমতার বিকাশ ঘটিয়ে তাকে এমনভাবে সাহায্য করে যাতে সে নিজেই নিজের সমস্যা সমাধানে সক্ষম হয়। অর্থাৎ, এটি মানুষকে আত্মনির্ভরশীল বা স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে। এ কারণেই সমাজকর্মকে সাহায্যকারী বা সক্ষমকারী পেশা বা $\text{Enabling Profession}$ বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন ($\text{Elizabethan Poor Law of 1601}$)-কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ইংল্যান্ডের দরিদ্রদের সাহায্য করার জন্য রানী প্রথম এলিজাবেথের শাসনামলে ১৬০১ সালে যে ঐতিহাসিক আইন পাস হয়, তাকে ৪৩তম এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন বলা হয়। এই আইনে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো দরিদ্রদের শারীরিক সক্ষমতা ও বয়সের ভিত্তিতে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যেমনটি উদ্দীপকের ছকে দেখা যাচ্ছে:
১. সক্ষম দরিদ্র : যারা কাজ করতে সক্ষম কিন্তু দরিদ্র। এদের অলস দরিদ্রও বলা হতো এবং জোরপূর্বক 'ওয়ার্ক হাউজে' কাজ দেওয়া হতো।
২. অক্ষম দরিদ্র : বৃদ্ধ, অন্ধ, প্রতিবন্ধী বা অসুস্থ যারা কাজ করতে অক্ষম। তাদের সাহায্যালয়ে বা 'আল্মস হাউজে' রাখা হতো।
৩. নির্ভরশীল বালক-বালিকা : যেসব এতিম বা পরিত্যক্ত শিশুদের দেখভাল করার কেউ ছিল না, তাদের বিনা খরচে দত্তক বা শিক্ষানবিশ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতো।
সুতরাং, উদ্দীপকের ছকটি স্পষ্টতই ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের দরিদ্র শ্রেণিবিন্যাসের একটি রূপরেখা।
ঘ.
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানের প্রত্যয়টি হলো ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এই আইনের মূলনীতি—অর্থাৎ দরিদ্রদের অবস্থা অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস করে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ—অত্যন্ত কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
নিচে এর প্রয়োগ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সক্ষম দরিদ্রদের কর্মসংস্থান: বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক বেকার অথচ কর্মক্ষম দরিদ্র জনগোষ্ঠী রয়েছে। ১৬০১ সালের আইনের মতো এদেরকে কেবল ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল না করে আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রঋণ ও আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রকল্পের আওতায় এনে উৎপাদনশীল কাজে লাগানো যেতে পারে।
২. অক্ষমদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা: যারা বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থ, তাদের জন্য ১৬০১ সালের আইনের 'আল্মস হাউজ' নীতির আদলে বর্তমানের বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার আওতা আরও সম্প্রসারিত ও দুর্নীতিমুক্ত করা যায়। এতে প্রকৃত অক্ষমরা সামাজিক সুরক্ষা পাবে।
৩. সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পুনর্বাসন: পথশিশু ও এতিমদের জন্য এই আইনের 'নির্ভরশীল বালক-বালিকা' নীতির আলোকে সরকারি শিশু পরিবার বা উন্নত শিশু সদন তৈরি করে তাদের অবৈতনিক শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যাতে তারা ভবিষ্যতে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে ঢালাও কর্মসূচি গ্রহণ না করে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের মতো অভাবগ্রস্তদের বাস্তব অবস্থা অনুযায়ী শ্রেণিকরণ করে সুনির্দিষ্ট ও টার্গেটভিত্তিক কর্মসূচি প্রয়োগ করা গেলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।