ক.
যুক্তরাজ্যের প্রশাসনিক বিভাগের অন্তর্গত স্থানীয় প্রশাসনভিত্তিক কাউন্টি অঞ্চল হলো প্যারিশ।
খ.
রুগ্ন, বৃদ্ধ, পঙ্গু, বধির, অন্ধ এবং সন্তানাদিসহ বিধবা প্রমুখ যারা কাজ করতে সক্ষম নয়, তারাই অক্ষম দরিদ্রদের পর্যায়ভুক্ত।
১৬০১ খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে প্রণীত এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনে দরিদ্রদের শ্রেণিবিভাগ করে সাহায্য দানের ব্যবস্থা করা হয়। এ আইন অনুযায়ী যারা অক্ষম দরিদ্র ছিল, তাঁদেরকে দরিদ্রাগারে রেখে সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কারও যদি আশ্রয়ের ব্যবস্থা থাকত এবং সেখানে ভরণপোষণের খরচ কম হতো তবে তাদেরকে সেখানে রেখে ওভারসিয়ারের (Overseer) মাধ্যমে সাহায্যদানের ব্যবস্থা করা হতো।
গ.
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে ১৯৪২ সালের বিভারিজ রিপোর্ট এর ইঙ্গিত রয়েছে।
১৯৪২ সালে প্রণীত বিভারিজ রিপোর্টে মানবসমাজের অগ্রগতিতে বাধাদানকারী প্রধান, পাঁচটি অন্তরায় দেখানো হয়। এই অন্তরায়গুলো হলো-অভাব (দারিদ্র্য- Poverty); রোগ-ব্যাধি (অসুস্থতা- Diseases); মলিনতা (আবাসন সংকট- Squalor); অলসতা (বেকারত্ব- Unemployment); অজ্ঞতা (শিক্ষার অভাব- Ignorance)। এগুলো শুধু তৎকালীন ইংল্যান্ডের সামাজিক অগ্রগতিতে দুষ্টচক্রের মতো বাধার সৃষ্টি করেনি; বরং সমগ্র বিশ্বের সমাজকাঠামোতে এর নেতিবাচক প্রতিফলন দেখা যায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিভারিজ রিপোর্টে পাঁচটি সুপারিশ পেশ করা হয়েছিল।
বিভারিজ রিপোর্টে প্রাথমিকভাবে একটি একীভূত বা সমন্বিত ও পর্যাপ্ত সামাজিক বিমা কর্মসূচি প্রবর্তন করার সুপারিশ করা হয়। সেইসাথে সামাজিক বিমার আওতাবহির্ভূত জনগণের জন্য জাতীয় কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি সাহায্যের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছিল। কোনো পরিবারে প্রথম শিশু জন্মের পর পরিবারের অন্য শিশুর জন্য সাপ্তাহিক শিশু ভাতার ব্যবস্থার সুপারিশও এতে রাখা হয়। সর্বস্তরের জনগণের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সময় ব্যাপক বেকারত্ব রোধে সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে পূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার সুপারিশ বিভারিজ রিপোর্টে করা হয়।
ঘ.
উদ্দীপকের (?) চিহ্নিত স্থানে যে প্রত্যয়টি ইঙ্গিত করা হয়েছে, তা হলো বেভারেজ রিপোর্ট (Beveridge Report)। ১৯৪২ সালে স্যার উইলিয়াম বেভারেজ যুক্তরাজ্যে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যে ঐতিহাসিক রূপরেখা প্রদান করেন, এটি তারই প্রতিফলন।
এই রিপোর্টের মূল তাৎপর্য হলো এটি আধুনিক সমাজকল্যাণ ও 'কল্যাণ রাষ্ট্র' (Welfare State) ধারণার ভিত্তি স্থাপন করেছে। বেভারেজ রিপোর্টে সমাজের উন্নতির পথে প্রধান পাঁচটি অন্তরায়কে চিহ্নিত করা হয়, যা 'পঞ্চদৈত্য' (অভাব, রোগ, অজ্ঞতা, অলসতা ও মলিনতা) নামে পরিচিত। এই দৈত্যগুলোকে বিনাশ করার মাধ্যমেই একটি জাতির সামগ্রিক মুক্তি সম্ভব বলে তিনি মত দেন। এর সুপারিশগুলো গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্র জনগণের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
সর্বোপরি, বেভারেজ রিপোর্ট শুধু যুক্তরাজ্য নয়, বরং সারা বিশ্বের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করে। এটি প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রের দায়িত্ব কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা নয়, বরং নাগরিকের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আধুনিক সমাজকর্মের ইতিহাসে এটি একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ, যা দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে।