ক.
যে অনুমান পদ্ধতিতে কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ব্যতীত শুধু প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতার ওপর নির্ভর করে ব্যতিক্রমহীন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সংশ্লেষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার প্রক্রিয়াকে বলে অবৈজ্ঞানিক আরোহ (Unscientific Induction)।
খ.
যুক্তিবিদ মিল যে তিন প্রকার অপ্রকৃত আরোহের কথা বলেছেন তার প্রথম রূপটি হলো পূর্ণাঙ্গ আরোহ।
যে আরোহের ক্ষেত্রে কোনো শ্রেণিভুক্ত সকল দৃষ্টান্তকে গণনার মাধ্যমে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্যে স্থাপন করা হয় তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে। যেমন- একটি বাগানে কতকগুলো গাছ আছে। বাগানে ঢুকে প্রত্যেকটি গাছ প্রত্যক্ষ করে দেখা গেল এগুলো কমলা গাছ। এর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো যে, এটি একটি কমলার বাগান। এভাবে পূর্ণাঙ্গ আরোহে যে শ্রেণি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তার প্রত্যেকটিকে গণনা করে বা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ আরোহকে পূর্ণগণনামূলক আরোহ বলা হয়।
গ.
ছক-১ এ বৈজ্ঞানিক আরোহের ইঙ্গিত রয়েছে।
যে আরোহ অনুমানে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের ভিত্তিতে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। বৈজ্ঞানিক আরোহে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দৃষ্টান্ত সংগ্রহ করা হয় এবং কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করে সংগৃহীত দৃষ্টান্ত থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যেমন- 'নাদিয়া, রানা, তমাল হয় বুদ্ধিমান। এভাবে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত থেকে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে যে, সকল মানুষ হয় বুদ্ধিমান।' এই দৃষ্টান্তে মানুষের সাথে বুদ্ধিমানের কার্যকারণ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে এবং প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর বিশ্বাস রেখে সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা হয়েছে। তাই উক্ত উদাহরণটি বৈজ্ঞানিক আরোহকে নির্দেশ করে।
ঘ.
ছক-১ ও ছক-২ এ যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক আরোহ এবং অবৈজ্ঞানিক আরোহকে নির্দেশ করে। নিচে এ দুই অরোহের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো-
বৈজ্ঞানিক আরোহ এবং অবৈজ্ঞানিক আরোহ উভয় প্রকৃত আরোহ। উভয় আরোহে আরোহমূলক লম্ফ উপস্থিত। উভয় আরোহে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি অনুসরণ করা হয়। তবে বৈজ্ঞানিক আরোহে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কারণে বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহে কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে অবাধ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য হয়।
বৈজ্ঞানিক আরোহে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেক্ষেত্রে সদর্থক ও নঞর্থক উভয় দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ করা হয়। তাই এ অনুমানের সিদ্ধান্ত বাস্তবতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহে দৃষ্টান্তের সংখ্যার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ অনুমানে সদর্থক দৃষ্টান্তকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও নঞর্থক দৃষ্টান্তকে একেবারেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল থাকে না।