ক.
যেসব আরোহের মধ্যে আরোহের মৌলিক বৈশিষ্ট্য আরোহাত্মক উল্লম্ফন বিদ্যমান থাকে তাকে প্রকৃত আরোহ বলে।
খ.
আরোহমূলক লম্ফ (Inductive Leap) বলতে আরোহের প্রাণকে বোঝায়। অর্থাৎ এটি আরোহের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। এ বৈশিষ্ট্যের কারণে আরোহ অনুমান জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাতে, বিশেষ থেকে সার্বিকে গমন করে। যেমন- হাসান, জামান, তুষার প্রভৃতি বিশেষ মানুষের মরণশীলতা প্রত্যক্ষ করে আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে 'সকল মানুষ হয় মরণশীল'। যে বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তিন জনের মরণশীলতা প্রত্যক্ষ করে সমগ্র মানুষের মরণশীলতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় সেটি হলো আরোহাত্মক উল্লম্ফন।
গ.
উদ্দীপকে অবৈজ্ঞানিক আরোহের প্রতিফলন ঘটেছে। কেননা এখানে যে দৃষ্টান্তটি দেওয়া হয়েছে, সেটি অবৈজ্ঞানিক আরোহের বৈশিষ্ট্য বহন করে।
এই প্রকার আরোহে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি বিদ্যমান থাকে কিন্তু কার্যকারণ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে না। তাই বলা যায় যে, প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সার্বিক সংশ্লেষক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ভর নয় বিধায় এই প্রকার আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত নয়, সম্ভাব্য হয়ে থাকে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে,
ঢাকার কাক হয় কালো।
কুমিল্লার কাক হয় কালো।
রংপুরের কাক হয় কালো।
সুতরাং, সকল কাক হয় কালো।
এখানে কাক দেখার বিষয়টি বাস্তব অভিজ্ঞতা এখানে কার্যকারণ সম্পর্ক নেই এবং এই বাস্তব অভিজ্ঞতা একই রকম ও অবাধ। ব্যতিক্রম কোনো দৃষ্টান্ত এখনও চোখে পড়েনি। অর্থাৎ অন্য রঙের কাক কখনো চোখে পড়েনি। এ থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, 'সকল কাক হয় কালো', যা একটি সার্বিক যুক্তিবাক্য। তাহলে বোঝা যাচ্ছে, এটি একটি অবৈজ্ঞানিক আরোহের দৃষ্টান্ত।
ঘ.
উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এর মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক আরোহ এবং দৃষ্টান্ত-২ এর মাধ্যমে অবৈজ্ঞানিক আরোহকে নির্দেশ করে। এই দুই প্রকার আরোহ প্রকৃত আরোহ হিসেবে পরিচিত। এদের মধ্যে পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
১. প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে যে আরোহ বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে তাকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। অন্যদিকে, প্রতিকূল দৃষ্টান্তবিহীন অবাধ অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে যে আরোহ বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে তাকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।
২. বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠার সময় উভয় প্রকার দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করা হয়। তাই এ প্রকার আরোহে অনুকূল ও প্রতিকূল উভয় প্রকার আরোহের ভূমিকা থাকে। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহের ক্ষেত্রে কেবল অনুকূল দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করা হয়। তাই এখানে প্রতিকূল দৃষ্টান্ত উপেক্ষিত থাকে।
৩. বৈজ্ঞানিক আরোহে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাই এখানে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়ম উভয়ই বর্তমান থাকে। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহে কার্যকারণ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে। তাই এখানে আরোহের আকারগত দিক অপূর্ণ থাকে।
৪. বৈজ্ঞানিক আরোহে দৃষ্টান্তের মানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ, বৈজ্ঞানিক আরোহ সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য গৃহীত দৃষ্টান্তের মানের ওপর গুরুত্ব প্রদান করে। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহে দৃষ্টান্তের সংখ্যা গুরুত্ব পায়। অর্থাৎ, অবৈজ্ঞানিক আরোহ দৃষ্টান্তের মানের চেয়ে দৃষ্টান্তের সংখ্যার ওপর বেশি গুরুত্ব প্রদান করে।
৫. বৈজ্ঞানিক আরোহ কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে এ প্রকার আরোহ নিশ্চিত সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করতে পারে। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহ অভিজ্ঞতার ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে এ প্রকার আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য থাকে, নিশ্চিত সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।
পরিশেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক আরোহের মধ্যে আরোহের মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকার কারণে এটি অন্যান্য আরোহ থেকে বেশি গুরুত্ব বহন করে। তবে জ্ঞানের ক্ষেত্রে অবৈজ্ঞানিক আরোহও কমবেশি ভূমিকা পালন করে।