Facebook Pixel

৯০৯ খ্রিস্টাব্দে ওবায়দুল্লাহ আল মাহদী উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। এ খিলাফত প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন আবু আব্দুল্লাহ আস শীঈ। মূলত তার বাগ্মিতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কৌশলী নেতৃত্বের কারণে আগলাবীয়দের পরাজিত করে ফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। খিলাফতে আরোহণ করেই ওবায়দুল্লাহ আল মাহদী নিজের ক্ষমতা সুসংহত করার জন্য আবু আব্দুল্লাহকে হত্যা করেন। ক. আব্বাসীয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কাকে বলা হয়? খ. রাওয়ান্দিয়া সম্প্রদায়ের পরিচয় দাও। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আবু আব্দুল্লাহর হত্যাকান্ডের সাথে তোমার পঠিত আব্বাসি খিলাফতের কোন হত্যাকান্ডের মিল রয়েছে? আলোচনা কর। ঘ. আব্বাসীয় খিলাফতে উক্ত হত্যাকাণ্ডের প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ আব্বাসি খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. আল মনসুরকে আব্বাসীয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। খ. খলিফা আল মনসুর ধর্মপ্রাণ ছিলেন। তার এ ধার্মিকতার কারণে এক দল লোক তাকে আল্লাহর অবতার বলে ঘোষণা করে। ইসলামের ইতিহাসে এরা 'রাওয়ান্দিয়া সম্প্রদায়' নামে পরিচিত। খলিফার মহানুভবতায় আকৃষ্ট হয়ে এ রাওয়ান্দিয়া সম্প্রদায় তাকে আল্লাহর অবতার মনে করেন। খলিফা মনসুর এ ধর্ম বিরোধী কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু রাওয়ান্দিয়া সম্প্রদায়রা খলিফার অনুরোধ অমান্য করলে খলিফা তাদের ২০০ জনকে কারারুদ্ধ করেন এবং রাওয়ান্দিয়ারা খলিফাকে আক্রমণ করলে খলিফা আল মনসুর আক্রমণকারীদের কঠোর হস্তে দমন করেন। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আবু আব্দুল্লাহর হত্যাকান্ডের সাথে আমার পঠিত আব্বাসি খিলাফতের আবু মুসলিমের হত্যাকান্ডের মিল রয়েছে। উদ্দীপকের ওবায়দুল্লাহ আল-মাহদীর উত্তর আফ্রিকায় খিলাফত প্রতিষ্ঠায় আবু আব্দুল্লাহ সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখলেও আল-মাহদী তাকে হত্যা করেন। আবু আব্দুল্লাহর হত্যাকান্ডের সাথে খলিফা আল মনসুরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি আবু মুসলিমকে হত্যা করার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। আবু মুসলিম একজন বিখ্যাত কূটনীতিবিদ, সংগঠক, রণকৌশলী এবং জনপ্রিয় সেনাপতি ছিলেন। তিনি নিজ মেধা ও সাংগঠনিক শক্তিকে আব্বাসি রাজবংশকে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রভৃত ভূমিকা রেখেছিলেন। আবু মুসলিমের জনপ্রিয়তা আবু জাফর আল মানসুর নিজের জন্য বিপজ্জনক মনে করলেন। আবু মুসলিমের জনপ্রিয়তা, ব্যক্তিত্ব ও আব্বাসি বংশের প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা ইত্যাদি কারণে আবু জাফর আল মনুসর তাকে বশে রাখা চ্যালেঞ্জ মনে করে হত্যা করার কৌশল গ্রহণ করেন। তাই আবু মুসলিমের জনপ্রিয়তার ঘাঁটি খোরাসান থেকে তাকে দূরে রাখার জন্য মিশর কিংবা সিরিয়ার গভর্নর হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরিস্থিতি প্রতিকূল হওয়ায় আবু মুসলিমকে খলিফার সাথে সাক্ষাতের জন্য রাজদরবারে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথম দিনে আবু মুসলিমকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরের দিন তার বিরুদ্ধে কতকগুলো অভিযোগ আনা হয়। অতঃপর বিদায়ের মুহূর্তে ৭৫৫ খ্রি. আবু মুসলিমকে তরবারির আঘাতে হত্যা করা হয়। অতএব, উদ্দীপকের আবু আবুল্লাহর হত্যাকান্ডের সাথে আবু মুসলিমের হত্যাকান্ডের মিল রয়েছে। ঘ. উক্ত হত্যাকান্ড তথা আবু মুসলিমের হত্যাকান্ডের ফলে আব্বাসীয় খিলাফত নিরাপদ হয়। তবে এর প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহ দেখা যায়। আল-মনসুর সকল বিদ্রোহ দমন করলে আব্বাসীয় বংশের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়। আবু মুসলিমের নির্মম পরিণতিতে সেনাবাহিনী বিদ্রোহ ঘোষণা করে। খোরাসানবাসী মাজুসি দলপতি সানবাদের নেতৃত্বে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। যিনি মাত্র পঁয়ত্রিশ বছর বয়সের মধ্যে ধীশক্তি, কর্মতৎপরতা এবং বীরমত্তা দ্বারা উমাইয়া ধ্বংসস্তূপের ওপর আব্বাসিদিগকে প্রতিষ্ঠিত করে ইসলামি সাম্রাজ্যের অভূতপূর্ব পরিবর্তন করেছিলেন। আবু মুসলিমের নির্মম ও অস্বাভাবিক মৃত্যুতে জনসাধারণ ও তার সেনাবাহিনীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। খলিফা আল মনসুর অর্থ দেওয়ার প্রলোভনে আবু মুসলিমের সেনাবাহিনীকে শান্ত করেন। কিন্তু মাজুসি দলের দলপতি সানবাদ আবু মুসলিমের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণকারী হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি ৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দে 'রায়' হতে নিশাপুর পর্যন্ত রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যকলাপে লিপ্ত হন। খলিফার প্রেরিত বাহিনী তার কাছে বেশ কয়েকবার পরাজিত হলেও ৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে সানবাদ পরাজিত ও নিহত হন। আবু মুসলিমের নৃশংস হত্যার প্রতিক্রিয়া মেসোপটেমিয়াতেও পড়ে। পারস্যবাসীরা খলিফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। খলিফা আল মনসুর তার কৌশল দ্বারা পারস্য ও মেসোপটেমিয়া বিদ্রোহ দমন করতে সক্ষম হন। আবু মুসলিম কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হলওয়ানের শাসনকর্তা আবু নাসের খলিফার খড়গ নেমে আসার আগেই খলিফার কাছে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব প্রেরণ করেন। তাই বলা যায়, আবু মুসলিমের হত্যাকান্ডের ফলে আব্বাসি খিলাফতে বিদ্রোহ দেখা দিলেও আল-মনসুর সকল বিদ্রোহ দমন করে আব্বাসীয় শাসনকে নিষ্কন্টক করেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

৯০৯ খ্রিস্টাব্দে ওবায়দুল্লাহ আল মাহদী উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। এ খিলাফত প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন আবু আব্দুল্লাহ আস শীঈ। মূলত তার বাগ্মিতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কৌশলী নেতৃত্বের কারণে আগলাবীয়দের পরাজিত করে ফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। খিলাফতে আরোহণ করেই ওবায়দুল্লাহ আল মাহদী নিজের ক্ষমতা সুসংহত করার জন্য আবু আব্দুল্লাহকে হত্যা করেন।

ক.

আব্বাসীয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কাকে বলা হয়?

খ.

রাওয়ান্দিয়া সম্প্রদায়ের পরিচয় দাও।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত আবু আব্দুল্লাহর হত্যাকান্ডের সাথে তোমার পঠিত আব্বাসি খিলাফতের কোন হত্যাকান্ডের মিল রয়েছে? আলোচনা কর।

ঘ.

আব্বাসীয় খিলাফতে উক্ত হত্যাকাণ্ডের প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আরবের ‘জোয়ান অব আর্ক’ উপাধি কার?

অটোমান সুলতান মুরাদ অত্যন্ত জনপ্রিয় শাসক ছিলেন। একজন শৈল্পিক, মার্জিত ও রুচিশীল শাসক হিসেবেও তিনি খ্যাতিলাভ করেন। বিদ্রো...

অটোমান সুলতান আব্দুল হামিদের ক্ষমতারোহণের পশ্চাতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন সেনাপতি ফুয়াদ পাশা। পরবর্তীতে ফুয়াদ পাশার সাহ...

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের উদ্যোগে ১৯৭৮ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় এই স্বপ্ন...

অধ্যাপক পি. কে. হিট্টি বলেন, মামুনের রাজধানী প্রধান কেন্দ্ররূপে সমাদৃত হয়েছিল- i. ব্যবসায় বাণিজ্যের ii. শিল্পের iii. জ্ঞ...

"অল্পকালের মধ্যে বার্মাকিগণ প্রভূত ধনের অধিকারী হন" বলতে বোঝাতে চেয়েছেন- i. প্রচুর সম্পদের মালিক হন ii. কম সময়ে অনেক সম্...

অষ্টম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুসলিম সাম্রাজ্য ছিল মুসলিম শাসনব্যবস্থার স্বর্ণযুগ। এ সাম্রাজ্যের শাসকেরা জ্ঞান - বিজ্ঞান ...

আজদুদ্দৌলাহ্ কার পুত্র ছিলেন?

‘আন নাফস উজ জাকিয়া' শব্দের অর্থ কী?

আবু জাফর মনসুরকে আব্বাসি খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। কারণ তিনি- i. আব্বাসি বংশের শাসন সুদৃঢ় করেছিলেন ii. উমাইয়াদ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।