Facebook Pixel

অটোমান সুলতান মুরাদ অত্যন্ত জনপ্রিয় শাসক ছিলেন। একজন শৈল্পিক, মার্জিত ও রুচিশীল শাসক হিসেবেও তিনি খ্যাতিলাভ করেন। বিদ্রোহ দমন, বৈদেশিক অভিযান পরিচালনা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্যের সম্প্রসারণে তিনি উদার ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাতের বেলা ছদ্মবেশে নগর ভ্রমণ করে প্রজাদের দুঃখ-দুর্দশা প্রত্যক্ষ করে সে সব দূর করতেন। একজন প্রজাহিতৈষী সুলতান হিসেবে তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন। ক. আব্বাসীয় খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. আবু মুসলিম খোরাসানি সম্পর্কে কী জান? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সুলতান মুরাদের শাসনামলের সাথে তোমার পঠিত আব্বাসীয় খলিফার শাসনামলের মিল ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সুলতানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ খলিফাকে সর্বশ্রেষ্ঠ আব্বাসীয় খলিফা বলার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ আব্বাসি খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. আব্বাসীয় খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ। খ. ইসলামের ইতিহাসে আবু মুসলিম একজন খ্যাতনামা ব্যক্তি। ইস্পাহানের এক নগণ্য পরিবারে তার জন্ম হলেও স্বীয় প্রতিভাবলে তিনি সাম্রাজ্যের 'একজন রাজসংস্থাপক (king maker) হয়ে উঠেছিল। উমাইয়া বংশের পতন ঘটিয়ে আব্বাসি বংশকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে তার অবদান ছিল অপরিসীম। আবু মুসলিম নানা গুণে বিভূষিত ছিলেন। তিনি একদিকে যেমন উদার ও অতিথিপরায়ণ ছিলেন, তেমনি অন্যদিকে নিষ্ঠুর ও নির্দয় ছিলেন। আরববাসী ও পারস্যের খোরাসানিদের দুর্বলতা সম্বন্ধে তিনি ওয়াকিবহাল ছিলেন। কিন্তু এত গুণ থাকা সত্ত্বেও খোরাসানে আবু মুসলিম অপরিসীম ক্ষমতা ও জনপ্রিয়তা শেষপর্যন্ত তার কাল হয়ে দাঁড়াল এবং পরিণতিতে তার পতন ঘটে। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সুলতান মুরাদের সাথে আব্বাসি খলিফা হারুন অর রশিদের মিল রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, অটোমান সুলতান মুরাদ অত্যন্ত জনপ্রিয় শাসক ছিলেন। একজন শৈল্পিক, মার্জিত ও রুচিশীল শাসক হিসেবেও তিনি খ্যাতিলাভ করেন। বিদ্রোহ দমন, বৈদেশিক অভিযান পরিচালনা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্যের সম্প্রসারণে তিনি উদার ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাতের বেলা ছদ্মবেশে নগর ভ্রমণ করে প্রজাদের দুঃখ-দুর্দশা প্রত্যক্ষ করে সে সব দূর করতেন। একজন প্রজাহিতৈষী সুলতান হিসেবে তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন, যা খলিফা হারুন অর রশিদকে নিদের্শ করে। খলিফা হারুন অর রশিদ ৭৮৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ২৫ বছর তিনি আব্বাসি খিলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি ন্যায়বিচারক, প্রজারঞ্জক শাসক হিসেবে বিশ্বে সমধিক খ্যাতি অর্জন করেন। অরাজকতা দমন করতে এবং প্রজাসাধারণের অবস্থা স্বয়ং অবগত হওয়ার জন্য তিনি ছদ্মবেশে নগর ভ্রমণ করতেন। তার চরিত্রে কঠোরতা ও কোমলতার অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছিল। অন্যায়কারী ও বিদ্রোহীদের প্রতি তিনি যেমন কঠোর ছিলেন তেমনি গরিব ও দুঃখীদের প্রতি ছিলেন সদয়, পুষ্পের মতো কোমল। তার মতো ন্যায়পরায়ণ, মহানুভব ও দানবীর নরপতি সে যুগে ছিল না বললেই চলে। তিনি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করতেন। এছাড়াও তিনি প্রত্যেক রাতে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করতেন। তিনি রাজকোষ থেকে অতিরিক্ত খরচ করতেন না। রাজ্যের কোনো কাজও তিনি ফেলে রাখতেন না। জনসাধারণের উন্নতি এবং জনস্বার্থ রক্ষা করাই ছিল তার প্রধান কাজ। ঘ. চারিত্রিক গুণাবলির কারণে উক্ত খলিফাকে অর্থাৎ খলিফা হারুন অর রশিদকে ইতিহাসে বিখ্যাত বলা হয়, যা যথার্থ। আব্বাসি খলিফা হারুন অর রশিদের ন্যায়পরায়ণ মহানুভব দানবীর নরপতি সে যুগে ছিল না বললেই চলে। তিনি ৭৮৬ সালে ভ্রাতা হাদীর মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আরোহণ করে দীর্ঘ ২৪ বছর আব্বাসি খিলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি আব্বাসি শাসন আমলে এক অপূর্ব অধ্যায়ের সূচনা করেন। তার তেইশ বছর শাসনকালে তিনি নয়বার হজব্রত সম্পাদন করেছিলেন। তিনি প্রতিদিন ১০০০ দিরহাম দান-খয়রাত করতেন। ন্যায়বিচারক হিসেবে অরাজকতার দমন এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন আপসহীন। খলিফা হারুন অর রশিদ একজন রাজ্যবিজেতা হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি সাইপ্রাস, ক্রিটস, হেরাক্লিয়া প্রভৃতি অঞ্চল বিজয় করেন। এছাড়াও সাম্রাজ্যকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য তিনি একটি বিশাল সৈন্যবাহিনী গঠন করেন। তিনি সিসিলি, ফ্রান্স, চীনসহ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বহু রাজ্যের নৃপতিগণের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তিনি ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের উদার পৃষ্ঠপোষক। তার দরবার ছিল তৎকালীন বিশ্বের জ্ঞানীগুণী লোকদের তীর্থস্থান। তিনিই সর্বপ্রথম সংগীতকলাকে মহান পেশায় উন্নীত করেন এবং সাহিত্য ও বিজ্ঞানের মতো এটিকেও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেন। খলিফা হারুন অর রশিদের রাজত্বকালে বাগদাদ সে সময়ে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ জাঁকজমকপূর্ণ ও ঐশ্বর্যশালী নগরীতে পরিণত হয়েছিল। পরিশেষে বলা যায়, কৃতিত্বপূর্ণ শাসনের জন্য খলিফা হারুন অর রশিদ সর্বশ্রেষ্ঠ আব্বাসীয় শাসক হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

অটোমান সুলতান মুরাদ অত্যন্ত জনপ্রিয় শাসক ছিলেন। একজন শৈল্পিক, মার্জিত ও রুচিশীল শাসক হিসেবেও তিনি খ্যাতিলাভ করেন।
বিদ্রোহ দমন, বৈদেশিক অভিযান পরিচালনা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্যের সম্প্রসারণে তিনি উদার ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাতের বেলা ছদ্মবেশে নগর ভ্রমণ করে প্রজাদের দুঃখ-দুর্দশা প্রত্যক্ষ করে সে সব দূর করতেন। একজন প্রজাহিতৈষী সুলতান হিসেবে তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন। 

ক.

আব্বাসীয় খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী?

খ.

আবু মুসলিম খোরাসানি সম্পর্কে কী জান?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত সুলতান মুরাদের শাসনামলের সাথে তোমার পঠিত আব্বাসীয় খলিফার শাসনামলের মিল ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত সুলতানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ খলিফাকে সর্বশ্রেষ্ঠ আব্বাসীয় খলিফা বলার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আরবের ‘জোয়ান অব আর্ক’ উপাধি কার?

অটোমান সুলতান আব্দুল হামিদের ক্ষমতারোহণের পশ্চাতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন সেনাপতি ফুয়াদ পাশা। পরবর্তীতে ফুয়াদ পাশার সাহ...

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের উদ্যোগে ১৯৭৮ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় এই স্বপ্ন...

অধ্যাপক পি. কে. হিট্টি বলেন, মামুনের রাজধানী প্রধান কেন্দ্ররূপে সমাদৃত হয়েছিল- i. ব্যবসায় বাণিজ্যের ii. শিল্পের iii. জ্ঞ...

"অল্পকালের মধ্যে বার্মাকিগণ প্রভূত ধনের অধিকারী হন" বলতে বোঝাতে চেয়েছেন- i. প্রচুর সম্পদের মালিক হন ii. কম সময়ে অনেক সম্...

অষ্টম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুসলিম সাম্রাজ্য ছিল মুসলিম শাসনব্যবস্থার স্বর্ণযুগ। এ সাম্রাজ্যের শাসকেরা জ্ঞান - বিজ্ঞান ...

আজদুদ্দৌলাহ্ কার পুত্র ছিলেন?

‘আন নাফস উজ জাকিয়া' শব্দের অর্থ কী?

আবু জাফর মনসুরকে আব্বাসি খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। কারণ তিনি- i. আব্বাসি বংশের শাসন সুদৃঢ় করেছিলেন ii. উমাইয়াদ...

আবু মুসলিম খোরাসানির জন্ম-

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।