Facebook Pixel

২০২৩ সালে 'ক' দেশের দামস্তর ছিল ২১৩। ২০২৪ সালে দামস্তর বৃদ্ধি পেয়ে ২২৫ হয়। সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ প্রদান ক্ষমতা হ্রাস, অপ্রয়োজনীয় আমদানি হ্রাস, মজুরি নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ক. সূচক সংখ্যা কী? খ. 'সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে'- ব্যাখ্যা কর গ. 'ক' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় কর । ঘ. সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ যথেষ্ট কিনা মূল্যায়ন কর ।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ মুদ্রাস্ফীতি

উৎস: Board Exam Question CB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) কোনো নির্দিষ্ট বছরের (ভিত্তি বছর) তুলনায় বিবেচ্য বছরে (হিসাবি বছর) কোনো দেশের অর্থনীতিতে গড় দামস্তরের ওঠানামা তথা অর্থের মূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধি পরিমাপ করার নিমিত্তে যে সংখ্যা ব্যবহার করা হয়, তাকে সূচক সংখ্যা বলে। (খ) সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। মুদ্রাস্ফীতির অন্যতম প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত সরকারি ব্যয়। বর্তমানে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। কিন্তু সরকারি ব্যয় যে হারে বৃদ্ধি পায়, স্বল্পকালে উৎপাদন সে হারে বৃদ্ধি পায় না। ফলে সামগ্রিক জোগানের তুলনায় সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এই সমস্যাটি বেশি পরিলক্ষিত হয়। (গ) উদ্দীপকের 'ক' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় করা হলো। ধরি, বর্তমান বছরের দামস্তর P_t এবং পূর্ববর্তী বছরের দামস্তর P_t-1। মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয়ের সূত্রটি হলো: beginaligned textInflation Rate &= P_t - P_t-1/P_t-1 × 100 endaligned উদ্দীপক অনুযায়ী, পূর্ববর্তী বছরের দামস্তর (২০২৩ সাল), P_t-1 = 213 বর্তমান বছরের দামস্তর (২০২৪ সাল), P_t = 225 এখন সূত্রে মান বসিয়ে পাই: beginaligned textInflation Rate &= 225 - 213/213 × 100 &= 12/213 × 100 &= 5.6338dots &≈ 5.63% endaligned সুতরাং, 'ক' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার প্রায় 5.63% (বা 5.64%)। (ঘ) উদ্দীপকে 'ক' দেশে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ (বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ প্রদান ক্ষমতা হ্রাস, অপ্রয়োজনীয় আমদানি হ্রাস এবং মজুরি নিয়ন্ত্রণ) কিছুটা কার্যকর হলেও, আমার মতে এগুলো সম্পূর্ণরুপে যথেষ্ট নয়। মুদ্রাস্ফীতি দীর্ঘমেয়াদে এবং কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. সংকোচনমূলক রাজস্বনীতি: সরকার কর বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় হ্রাস করে সংকোচনমূলক রাজস্বনীতি গ্রহণ করতে পারে। এতে জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় কমে এবং সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায়, যা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ২. সামগ্রিক জোগান বৃদ্ধি: মুদ্রাস্ফীতি দূর করার স্থায়ী উপায় হলো উৎপাদন বৃদ্ধি করা। যদি অপূর্ণ নিয়োগ অবস্থা থাকে, তবে উৎপাদন বাড়িয়ে সামগ্রিক চাহিদা পূরণ করলে দামস্তর হ্রাস পায়। ৩. প্রয়োজনীয় আমদানি বৃদ্ধিকরণ: বাজারে পণ্যের ঘাটতি থাকলে বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানির মাধ্যমে জোগান বাড়িয়ে দামস্তর কমানো সম্ভব। তবে এটি একটি স্বল্পমেয়াদী সমাধান। ৪. বাধ্যতামূলক সঞ্চয়: জনগণকে বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ে উৎসাহিত করলে তাদের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ কমে যায় এবং অর্থের প্রচলন গতি হ্রাস পায়, ফলে চাহিদা হ্রাস পায়। ৫. ফটকা কারবার রোধ: অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারি এবং ফটকা কারবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলে কৃত্রিম সংকট দূর হয় এবং দামস্তর স্বাভাবিক হয়। মূল্যায়নে বলা যায়, সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে ইতিবাচক হলেও, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য রাজস্বনীতি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজার মনিটরিংয়ের মতো সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCumilla Board (2025)

২০২৩ সালে 'ক' দেশের দামস্তর ছিল ২১৩। ২০২৪ সালে দামস্তর বৃদ্ধি পেয়ে ২২৫ হয়। সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ প্রদান ক্ষমতা হ্রাস, অপ্রয়োজনীয় আমদানি হ্রাস, মজুরি নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

ক. সূচক সংখ্যা কী?

খ. 'সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে'- ব্যাখ্যা কর

গ. 'ক' দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় কর ।

ঘ. সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ যথেষ্ট কিনা মূল্যায়ন কর ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।