Facebook Pixel

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলের সবগুলো ম্যাচ দেখার পর রানা তার বন্ধু সুমনকে বললো, "বিশ্বকাপ ফুটবলের সব খেলাই ভালো মানের।" উত্তরে সুমন বললো, "আমিও এ পর্যন্ত যত কাক দেখেছি কালো। তাই বলা যায়, সব কাকই কালো।" ক. অপ্রকৃত আরোহ কী? খ. আরোহমূলক লম্ফ বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে রানার বক্তব্যে কোন ধরনের আরোহকে নির্দেশ করে? ঘ. সুমনের বক্তব্যে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে বিষয় প্রকাশ পেয়েছে তার সাথে বৈজ্ঞানিক আরোহের পার্থক্য দেখাও।

বিষয়: যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ আরোহের প্রকারভেদ

উৎস: Board Exam Question BB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. যে আরোহ প্রক্রিয়ায় আরোহমূলক লম্ফ থাকে না, তাকে অপ্রকৃত আরোহ বলে। খ. আরোহ অনুমানের জানা আশ্রয়বাক্য থেকে অজানা সিদ্ধান্তে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরোহমূলক লম্ফ বলে। আরোহমূলক লক্ষের মাধ্যমে কতিপয় বিশেষ দৃষ্টান্তের প্রেক্ষিতে সার্বিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেমন- ক, খ ও গ নামক ব্যক্তির মৃত্যু দেখে 'সকল মানুষ হয় মরণশীল'। এরূপ অনুমান করার প্রবণতাই হলো আরোহমূলক লম্ফ। আরোহমূলক লম্ফ ছাড়া প্রকৃত আরোহের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এ কারণে আরোহমূলক লম্ফকে আরোহের প্রাণ বলা হয়। গ. উদ্দীপকে রানার বক্তব্য পূর্ণাঙ্গ আরোহ নির্দেশ করেছে। যে আরোহ অনুমানে সকল দৃষ্টান্তের পর্যবেক্ষণ বা নিরীক্ষণের ভিত্তিতে সার্বিক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে। যেমন- একটি ঝুড়িতে রাখা ১৫টি আঙ্গুরের স্বাদ পরীক্ষা করে বলা হলো, 'ঝুড়ির সকল আঙ্গুর হয় টক'। এই সার্বিক বাক্যটির সত্যতা পরীক্ষার জন্য স্বতন্ত্রভাবে প্রতিটি আঙ্গুর খেয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। এ কারণে এটি পূর্ণাঙ্গ আরোহের দৃষ্টান্ত। উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলের সবগুলো ম্যাচ দেখার পর রানা বলে, "বিশ্বকাপ ফুটবলের সব খেলাই ভালো মানের।" অর্থাৎ তাকে প্রতিটি খেলা দেখে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তাই এ ঘটনাটি পূর্ণাঙ্গ আরোহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘ. সুমনের বক্তব্যে অবৈজ্ঞানিক আরোহের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। নিচে এই আরোহের সাথে বৈজ্ঞানিক অরোহের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো- বৈজ্ঞানিক আরোহে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কারণে বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহে কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে অবাধ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কারণে অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত হয় সম্ভাব্য। বৈজ্ঞানিক আরোহে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হলেও এখানে দৃষ্টান্তের সংখ্যার চেয়ে গুণের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ এ আরোহে সদর্থক ও নঞর্থক উভয় প্রকার দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ করা হয়। তাই এ অনুমানের সিদ্ধান্ত বাস্তবতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহে দৃষ্টান্তের সংখ্যার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ অনুমানে সদর্থক দৃষ্টান্তকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে নঞর্থক দৃষ্টান্তকে একেবারেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রেই অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল থাকে না। পরিশেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহ উভয়ই প্রকৃত আরোহের শ্রেণিবিভাগ হলেও এদের মধ্যে পদ্ধতিগত ও গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে ভিন্নতা বিদ্যমান। এ কারণেই বৈজ্ঞানিক আরোহের সাথে অবৈজ্ঞানিক আরোহের পার্থক্য পরিলক্ষিত।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2019)

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলের সবগুলো ম্যাচ দেখার পর রানা তার বন্ধু সুমনকে বললো, "বিশ্বকাপ ফুটবলের সব খেলাই ভালো মানের।" উত্তরে সুমন বললো, "আমিও এ পর্যন্ত যত কাক দেখেছি কালো। তাই বলা যায়, সব কাকই কালো।"

ক.

অপ্রকৃত আরোহ কী?

খ.

আরোহমূলক লম্ফ বলতে কী বোঝ?

গ.

উদ্দীপকে রানার বক্তব্যে কোন ধরনের আরোহকে নির্দেশ করে?

ঘ.

সুমনের বক্তব্যে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে বিষয় প্রকাশ পেয়েছে তার সাথে বৈজ্ঞানিক আরোহের পার্থক্য দেখাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।