Facebook Pixel

২০১২ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা সূচকে ১০৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮১তম, দক্ষিণ এশিয়াতে নিচের দিক থেকে দ্বিতীয়। ২৫টি নির্ণায়কের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত রিপোর্টে দেখা যায় মূলত তিনটি উপাদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে— সামর্থ্য: অবস্থান ৭৮, প্রাপ্যতা: অবস্থান ৮১, গুণগত মান ও নিরাপত্তা: অবস্থান ৯২। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন— খাদ্যনীতি প্রণয়ন, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ খাদ্য সংগ্রহ ও খাদ্য মজুত বৃদ্ধি, খাদ্য আমদানি ও খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উন্নয়ন ও কৃষি গবেষণায় গুরুত্ব প্রদান ইত্যাদি । ক. খাদ্যের উপযোগিতা কী? খ. জনসচেতনতা সৃষ্টি ব্যতীত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়'- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার দিকসমূহ ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত সরকার কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থাসমূহ কি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ খাদ্য নিরাপত্তা

উৎস: Board Exam Question CB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্যের সন্তোষজনক ও টেকসই যোগান, যা গ্রহণে সকল মানুষের সক্ষমতা রয়েছে, তাকেই খাদ্যের উপযোগিতা বলে। (খ) খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কেবল সরকারি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, বরং জনসাধারণের সচেতনতা অপরিহার্য। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে অসাধু ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের অজ্ঞতাকে পুঁজি করে ভেজাল খাদ্য বিক্রি করে। মানুষ যদি সচেতন হয় এবং ভেজাল খাদ্যের কুফল বুঝতে পারে, তবে তারা তা ক্রয় করবে না এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে। এছাড়া সচেতন নাগরিকরা সরকারি ভেজালবিরোধী অভিযানে সহযোগিতা করতে পারে। তাই জনসচেতনতা সৃষ্টি ব্যতীত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। (গ) উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার তিনটি প্রধান দিক নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. খাদ্যের প্রাপ্যতা: এটি হলো নির্দিষ্ট সময়ে খাদ্যের পর্যাপ্ত যোগান। উদ্দীপকের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাপ্যতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮১তম। এর অর্থ হলো দেশজ উৎপাদন, আমদানি ও মজুতের মাধ্যমে খাদ্যের যোগান মোটামুটি থাকলেও তা আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। ২. খাদ্যের সামর্থ্য বা ক্রয়ক্ষমতা: খাদ্যের প্রাপ্যতা থাকলেও তা কেনার সামর্থ্য না থাকলে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জিত হয় না। উদ্দীপকে সামর্থ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৮তম, যা প্রাপ্যতা অপেক্ষা কিছুটা ভালো হলেও সামগ্রিকভাবে সন্তোষজনক নয়। ৩. গুণগত মান ও নিরাপত্তা (ব্যবহার): খাদ্যের পুষ্টিগুণ এবং নিরাপদ ব্যবহার খাদ্য নিরাপত্তার চূড়ান্ত ধাপ। উদ্দীপকে দেখা যায়, গুণগত মান ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ৯২তম, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর অর্থ হলো দেশে খাদ্যের প্রাপ্যতা ও সামর্থ্যের তুলনায় গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। (ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত সরকার কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থাসমূহ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে বলে আমি মনে করি। কারণ এই পদক্ষেপগুলো খাদ্য নিরাপত্তার মৌলিক উপাদানগুলোকে স্পর্শ করেছে: ১. উৎপাদন বৃদ্ধি: কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, সহজলভ্য ঋণ এবং কৃষি গবেষণার মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করলে খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে। ২. মজুত ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ: অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযান জোরদার, মজুত বৃদ্ধি এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজারে খাদ্যের স্থিতিশীল মূল্য বজায় রাখা সম্ভব, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বা সামর্থ্য বৃদ্ধি করবে। ৩. আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: পরমাণু ও প্রাণ-প্রযুক্তি ব্যবহার করে লবণাক্ততাসহিষ্ণু এবং প্রতিকূল পরিবেশ উপযোগী উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করলে খাদ্য উৎপাদন টেকসই হবে। ৪. নীতিগত দিকনির্দেশনা: সুনির্দিষ্ট খাদ্যনীতি প্রণয়ন করার ফলে খাদ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসবে। তবে এই পদক্ষেপগুলোর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সঠিক তদারকি এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের ওপর। যদি এই ব্যবস্থাগুলো যথাযথভাবে মাঠ পর্যায়ে কার্যকর হয়, তবে বাংলাদেশ অবশ্যই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCumilla Board (2019)

২০১২ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা সূচকে ১০৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮১তম, দক্ষিণ এশিয়াতে নিচের দিক থেকে দ্বিতীয়। ২৫টি নির্ণায়কের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত রিপোর্টে দেখা যায় মূলত তিনটি উপাদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে— সামর্থ্য: অবস্থান ৭৮, প্রাপ্যতা: অবস্থান ৮১, গুণগত মান ও নিরাপত্তা: অবস্থান ৯২। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন— খাদ্যনীতি প্রণয়ন, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ খাদ্য সংগ্রহ ও খাদ্য মজুত বৃদ্ধি, খাদ্য আমদানি ও খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উন্নয়ন ও কৃষি গবেষণায় গুরুত্ব প্রদান ইত্যাদি ।

ক. খাদ্যের উপযোগিতা কী? খ. জনসচেতনতা সৃষ্টি ব্যতীত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়'- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার দিকসমূহ ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত সরকার কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থাসমূহ কি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশের জনগণ অতি দরিদ্র। খাদ্যসামগ্রীও প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প। A দেশে প্রতিবছর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রচুর ফসলহানি হয়। কি...

BSTI-এর পূর্ণরূপ কী?

TCB-এর পূর্ণরূপ হলো—

আদর্শ খাদ্য বলতে কোন খাদ্য বোঝায়?

আয়তনের তুলনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনেক বেশি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্যের সংস্থান দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার অভ্যন...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : আমির সাহেব সেমিনারে আলোচনাকালে বলেন, বাংলাদেশে জনগণ নিরাপদ খাদ্যের অভাবে ক্যান্সার,...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : আমির সাহেব সেমিনারে আলোচনাকালে বলেন, বাংলাদেশে জনগণ নিরাপদ খাদ্যের অভাবে ক্যান্সার,...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে অধিক মুনাফা অর্জন করছে। এ ধরনের খাদ্য জনস...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে অধিক মুনাফা অর্জন করছে। এ ধরনের খাদ্য জনস...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : দিনমজুর ময়না মিয়া বাজারে খাদ্যদ্রব্যের যথেষ্ট যোগান দেখে খুশি হন । কিন্তু তিনি যে...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।