Facebook Pixel

১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলসমূহের সম্মেলনে একজন অবিসংবাদিত নেতা কর্তৃক উত্থাপিত কিছু দারিকে বাঙালি জাতির ম্যাগনাকার্টা বলা হয় । ক. সামরিক শাসন কী? খ. ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারির দুইটি কারণ বর্ণনা করো। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত দাবিসমূহের দুইটি দাবি ব্যাখ্যা করো । ঘ. স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বর্ণিত দাবিসমূহের গুরুত্ব মূল্যায়ন করো ।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ

উৎস: Board Exam Question DB 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) দেশের শাসনব্যবস্থা যখন সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সংবিধান স্থগিত করে সামরিক আইন জারি করা হয়, তখন তাকে সামরিক শাসন বলে। (খ) ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারির প্রধান দুটি কারণ নিচে বর্ণনা করা হলো: ১. রাজনৈতিক অস্থিরতা: পাকিস্তান সৃষ্টির পর দেশটিতে কোনো সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল বা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার কোন্দল দেশটিতে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল, যা সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতা দখলের সুযোগ করে দেয়। ২. সামরিক বাহিনীর উচ্চাকাঙ্ক্ষা: ১৯৫৪ সালের পর থেকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সামরিক আমলারা রাষ্ট্রক্ষমতায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে ওঠে। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত অবিসংবাদিত নেতা হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর উত্থাপিত দাবিগুলো হলো ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি। ছয় দফার দুটি দাবি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় পদ্ধতি: পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র হবে যুক্তরাষ্ট্রীয় এবং সরকার হবে পার্লামেন্টারি পদ্ধতির। লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আইনসভা হবে সার্বভৌম। সংবিধানে জনগণের পূর্ণ মৌলিক অধিকার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। ২. মুদ্রা বা অর্থবিষয়ক নীতি: দেশের দুই অংশের জন্য দুটি পৃথক তবে সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। অথবা, পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে মূলধন পাচার রোধের জন্য একটি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে দুই অঞ্চলের জন্য একই মুদ্রা থাকবে, তবে দুই অঞ্চলের জন্য পৃথক ব্যাংকিং রিজার্ভ ব্যবস্থা থাকতে হবে। (ঘ) স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ছয় দফা দাবির গুরুত্ব অপরিসীম। একে বাঙালি জাতির ‘ম্যাগনাকার্টা’ বা ‘মুক্তির সনদ’ বলা হয়। নিচে এর গুরুত্ব মূল্যায়ন করা হলো: ১. স্বায়ত্তশাসনের দাবি: ১৯৬৬ সালের ছয় দফার মাধ্যমে বাঙালিরা প্রথম লিখিতভাবে তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি পেশ করে। এটি ছিল শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম সুসংগঠিত প্রতিবাদ। ২. অর্থনৈতিক মুক্তি: তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হতো। ছয় দফার মাধ্যমে বাঙালিরা তাদের উপার্জিত সম্পদের ওপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়, যা সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করে। ৩. গণজাগরণ ও রাজনৈতিক সচেতনতা: ছয় দফা দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তোলার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। এই আন্দোলনই পরবর্তীতে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করে। ৪. স্বাধীনতার ভিত্তি: ছয় দফা ছিল বাঙালির জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি। এই দাবির মাধ্যমে বাঙালিরা বুঝতে পারে যে, পাকিস্তানি শাসকদের অধীনে তাদের অধিকার আদায় সম্ভব নয়। ফলে ছয় দফার চেতনা থেকেই ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি চূড়ান্ত স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরিশেষে বলা যায়, ছয় দফা কর্মসূচি কেবল একটি রাজনৈতিক দাবি ছিল না, বরং এটি ছিল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূল চালিকাশক্তি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2021)

১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলসমূহের সম্মেলনে একজন অবিসংবাদিত নেতা কর্তৃক উত্থাপিত কিছু দারিকে বাঙালি জাতির ম্যাগনাকার্টা বলা হয় ।

ক. সামরিক শাসন কী?

খ. ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারির দুইটি কারণ বর্ণনা করো।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত দাবিসমূহের দুইটি দাবি ব্যাখ্যা করো ।

ঘ. স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বর্ণিত দাবিসমূহের গুরুত্ব মূল্যায়ন করো ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হেরে যায় এবং ক্ষমতাসীন দলের চর...

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সময় একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হ্যা এবং ক্ষমতাসীন দলের চরম ভরাডু...

‘A’ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী স্বাধীনতা লাভের পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ অধ্যুষিত একটি অঞ্চলের মাতৃভাষার পরিবর্তে অপর একটি ভাষাকে ...

‘B’ নামক রাষ্ট্রে স্বাধীনতার দুই যুগ পর প্রথম একটি সাধার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল...

‘H’ রাষ্ট্রের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য শাসকগোষ্ঠী তাদের জনপ্রিয় নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মা...

‘H’ রাষ্ট্রের সামরিক শাসক রাষ্ট্রটির একটি অংশের জনগণের উপর ঔপনিবেশিক কায়দায় শাসন-শোষণ আরম্ভ করে। জনগণ এতে প্রতিবাদমুখর...

'M' ও 'N' নামক দুটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদ্যমান ছিল। 'M' প্রদেশের নেতৃবৃন্দরাই...

M' রাষ্ট্রটি দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। এর পরই রাষ্ট্রটির এক অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠী অন্য অঞ্চলের জনগণের উপ...

'S' নামক রাষ্ট্র দুটো অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। তন্মধ্যে শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাকে বাদ দিয়ে সংখ্যালঘিষ্ঠের ভাষাকে রাষ্ট্...

X ও Y দুটি অংশ নিয়ে Z রাষ্ট্র গঠিত। Z রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী X অংশের মাত্র ৩% লোকের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেয...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।