ক.
'The Spirit of Laws গ্রন্থের রচয়িতা মন্টেস্কু।
খ.
ফরাসি বিপ্লবের সময় বিপ্লববিরোধীদের গিলোটিনে শিরশ্ছেদ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থানকে নির্ধারণ করা হয়, যা ইতিহাসে বিপ্লবের বধ্যভূমি' নামে পরিচিত।
ফরাসি বিপ্লবের সময় রাজনীতিবিদ রোবসপিয়েরের নেতৃত্বে (Maximilien de Robespierre ) গণনিরাপত্তা কমিটি ব্যাপকভাবে বিপ্লববিরোধীদের ধরে বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। এ পর্বটিকে অনেক ঐতিহাসিক 'সন্ত্রাসের রাজত্ব' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। গণনিরাপত্তা কমিটি বিপ্লববিরোধীদের যে স্থানে গিলোটিনের সাহায্যে হত্যা করতো পরে তা বিপ্লবের বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত হয়।
গ.
উদ্দীপকের তমদ্দুন মজলিশের ন্যায় ফরাসি অনমত সংগঠনে দার্শনিকরা জোরালো ভূমিকা রেখেছেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করতে তমদ্দুন মজলিশে ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। বিভিন্ন প্রবন্ধ লেখার মাধ্যমে তারা বাংলাকে রাষ্ট্রভাব! করার দাবি তুলে ধরে ভাষা আন্দোলনের মনস্তাত্ত্বিক পটভূমি সৃষ্টিতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। তবে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক শোসনও ভাষা আন্দোলনে পরোক্ষ ভূমিকা রেখেছিল। পাঠ্যবই হতে আমরা জানতে পারি, ফরাসি সমাজে বিপ্লবের বেশ আগে থেকেই জ্ঞানদীপ্ত দার্শনিকদের জ্ঞানচর্চা মধ্যযুগীয় ভাবধারার সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে একটি আধুনিক সমাজ গড়ার জন্য মানুষকে উজ্জীবিত করতে থাকে। তাদের চিন্তাধারা ফ্রান্সের সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তারাই মধ্যযুগীয় রাজতন্ত্র পরিত্যাগ করে আধুনিক সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে ফরাসি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার যুক্তি তুলে ধরেন। দার্শনিক ভলতেয়ার ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কালে গির্জাবিরোধী রচনা লিখে যেভাবে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন তা ফরাসি বিপ্লবী যুগে বেশ বড় ধরনের অবদান রেখেছিল। মূলত দার্শনিক হলেও মন্টেস্কুর সংবিধান এবং রাজনীতি বিষয়ক রচনাবলি সে যুগে পাঠকদের ভীষণভাবে উজ্জীবিত করেছিল লেখনির দ্বারা মন্টেস্কু ফ্রান্সের জনসাধারণের একটি অংশকে রাজনীতি ও সমাজ সচেতন মানবগোষ্ঠীরূপে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিলেন এজন্য ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দের ফরাসি বিপ্লব পরবর্তী সংবিধানে তার ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতির ব্যবহারিক প্রয়োগ করা হয়। দার্শনিক রুশোকেই মনে করা হয় ফরাসি বিপ্লবের মূল কারিগর। তিনি তার লেখনির মাধ্যমে ফরাসিদের মনে বিপ্লবের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জাগ্রত করতে সক্ষম হন। রুশো একদিকে রাজার Diving Right Theory কে চ্যালেঞ্জ করেন, এভাবেই ফরাসি বিপ্লবে দার্শনিকেরা অবদান রেখে গেছেন। অপরদিকে, স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানুষকে রুখে দাঁড়াবার প্রেরণা যোগান। রুশো তার সামাজিক চুক্তি মতবাদের মাধ্যমে যে ব্যক্তিস্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের কথা বলেন তা ফরাসি জনগণকে এক বিপ্লবী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে।
ঘ.
ভাষা আন্দোলনের মতো ফরাসি বিপ্লবও অন্য আরও কারণ দ্বারা প্রভাবিত্ব ছিল— উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শোষণও ভাষা আন্দোলনে পরোক্ষ ভূমিকা রেখেছিল আর পাঠ্যবই হতে আমরা জানতে পারি, বিপ্লব পূর্ব ফ্রান্সের রাজতন্ত্র সৈরতান্ত্রিক রূপধারণ করে। রাজতন্ত্র ধর্মযাজক ও অভিজাত সম্প্রদায়কে হাতে রেখে দেশের আইন প্রণয়ন, প্রশাসন পরিচালনা ও বিচারকার্যে রাজার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনীর সর্বময় ক্ষমতা রাজার হাতে থাকায় যুদ্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা রাজার ইচ্ছা অনিচ্ছার বিষয় হয়ে পড়ে। রাজতন্ত্রের সীমাহীন ক্ষমতার কারণেই ১৬১৪ সাল থেকে ফ্রান্সের স্টেট জেনারেল নামক সর্বোচ্চ প্রতিনিধি পরিষদ অকার্যকর হয়েছিল। প্যারির পার্লামেন্ট এবং রাজকীয় বিচাবালয়গুলো স্বৈরাচারী ব্যবস্থার কারণে কোনো স্বাধীন মতামত
প্রদান করতে পারত না। রাজার হাতে কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা ন্যস্ত থাকায় দেশের স্থানীয় শাসন প্রায় বিলুপ্ত হয়ে পড়ে। সর্বত্রই ব্যক্তিস্বার্থ, স্বেচ্ছাচার, দুর্নীতি ও অমিতব্যয়িতার বিস্তার ঘটার ফলে পুরাতন ব্যবস্থা মানুষের কাছে অসহনীয় হয়ে ওঠে। ফ্রান্সে অর্থনৈতিক সংকট তীব্রতর হতে থাকে। জাতীয় ঋণ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। জনগণের নিকট থেকে আদায়কৃত রাজস্বের সবটুকু রাজা নিজের প্রাপ্য বলে মনে করতেন। সামন্ত অভিজাত ও যাজক সম্প্রদায় রাজার পক্ষ থেকে সরাসরি ক্ষমতা হস্তগত করে বংশ কৌলিন্যের জোরে দেশ শাসনের সুবিধা ভোগ করত। এর ফলে শাসনক্ষেত্রে অনাচার দেখা দেয়। এ সময় জনগণের রাজতন্ত্র সম্পর্কে সমালোচনা করার কোনো অধিকারও ছিল না। কেউ রাজ্য শাসন সম্পর্কে সমালোচনা করলে তাকে গ্রেফতার করে বিনা বিচারে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাস্তিল দূর্গে আটকে রাখা হতো। এভাবে রাজতন্ত্রের স্বৈরশাসনে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে এবং অধিকারহারা জনতা ফরাসি বিপ্লবের ক্ষেত্র তৈরিতে বিশেষভাবে সচেষ্ট হয় ।
সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়, ভাষা আন্দোলনের মতো ফরাসি বিপ্লব ও অন্য কারণ দ্বারা প্রভাবিত ছিল।