ক.
'The Spirit of Laws' গ্রন্থের রচয়িতা চার্লস মন্টেস্কু।
খ.
সামন্তবাদ ছিল মূলত এক প্রকার ভূমি ব্যবস্থাপনা। এই ব্যবস্থাপনা সমগ্র মধ্যযুগব্যাপী ইউরোপীয়দের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবন এবং তাদের আচার-আচরণ ও ভাবধারার ওপর বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল। অর্থাৎ সামন্তবাদ হলো এমন এক ধরনের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যবস্থা যেখানে শর্তসাপেক্ষে ভূমিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
গ.
উদ্দীপকের ছবিটি পাঠ্যবইয়ের ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবকে ইঙ্গিত করেছে। ফরাসি বিপ্লবের সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণ হলো-
সামাজিক কারণ: বিপ্লব-পূর্ববর্তী ফ্রান্সের সমাজ দুই ভাগে বিভক্ত ছিল- ১. বিশেষ অধিকারপ্রাপ্ত (Privileged) ও ২. অধিকারহীন (Unprivileged)। অধিকারপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিল যাজক (Clegry) ও অভিজাত সম্প্রদায় (Nobility)। যাজক সম্প্রদায় ছিল প্রথম স্তরের (First Estate) এবং অভিজাত সম্প্রদায় ছিল দ্বিতীয় স্তরের (Second Estate) অন্তর্ভুক্ত। অধিকারবিহীন ছিল যাজক ও অভিজাত ছাড়া সমাজের অন্যান্য স্তরের মানুষ।
রাজনৈতিক কারণ: ফরাসি বিপ্লবের পূর্বে রাজা ছিলেন স্বেচ্ছাচারী। সপ্তদশ শতকের ফরাসি রাজনীতিবিদ ম্যাজারিন, রিশল্যু ও ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুই ফরাসি রাজতন্ত্রকে একটি স্বৈরতন্ত্রী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। এ যুগের রাজারা মনে করতেন, ঈশ্বরই রাজাকে নিযুক্ত করেন। তাই চতুর্দশ লুই মন্তব্য করেন, "I am the state" অর্থাৎ আমিই রাষ্ট্র। এ বংশের শেষ রাজা ষোড়শ লুই দাবি করেন, "আমি যা করি তাই আইন।” ফরাসি রাজশক্তি শুধু অধিকারের কথা ভাবত, কর্তব্যের কথা ভাবত না। ফ্রান্সের রাজারা সকল ক্ষমতা নিজ হাতে নিয়ে প্রজাদের মতামত অগ্রাহ্য করে চলতেন। এর ফলে বুরবোঁ রাজারা বৃহত্তর জনসাধারণ থেকে দূরে চলে যায়।
উপর্যুক্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণ ছাড়াও আরও কতিপয় কারণে ১৭৮৯ সালে ফ্রান্সে সংঘটিত হয়েছিল এক দুনিয়া কাঁপানো বিপ্লব যা ইতিহাসে ফরাসি বিপ্লব নামে পরিচিত।
ঘ.
উক্ত বিপ্লব অর্থাৎ ফরাসি বিপ্লবের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।
ফরাসি বিপ্লব ফ্রান্সের সমাজ ব্যবস্থা, রাষ্ট্র পরিচালনা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সূচনা করে। বিপ্লবের আগে ফ্রান্স ছিল একটি সামন্ততান্ত্রিক দেশ। বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে তা পুঁজিবাদী ধারায় বিকশিত হতে থাকে। ফ্রান্সে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র ও ধর্মযাজক গোষ্ঠীর প্রভাব দুর্বল হতে থাকে। ফ্রান্স কার্যত একটি বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হওয়ার সুযোগ লাভ করে বিপ্লবের মাধ্যমে। ফরাসি বিপ্লব ফ্রান্সের জন্য সংবিধান প্রণয়ন করেছে, বিভিন্ন নামে ফ্রান্সে জাতীয় সংসদ গঠন করেছে, ফ্রান্সকে প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংস্কারের মাধ্যমে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে অবদান রেখেছে। এই বিপ্লব ফরাসি জাতির মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার সঞ্চার করেছে। ফ্রান্সের রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটার সুযোগও এ বিপ্লবের ফলে শুরু হয়। *জিরন্ডিন, জ্যাকোবিনসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী ফ্রান্সে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্ম প্রকাশ ঘটে।
ফরাসি বিপ্লব শুধু ফ্রান্সের সমাজকেই নয়, গোটা ইউরোপকেও আলোড়িন করেছিল। গণতন্ত্র, যুক্তিবাদ, ব্যক্তি স্বাধীনতা, সাম্য, শোষণমুক্তি, নাগরিক অধিকার ইত্যাদি ধারণা ফরাসি বিপ্লব পরবর্তী ইউরোপের রাষ্ট্রসমূহে বিস্তার লাভ করে। ফরাসি জাতি প্রতি বছর ১৪ জুলাইকে তাদের প্রধান জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। এর মাধ্যমে ফ্ররাসি বিপ্লবের চেতনায় তারা উজ্জীবিত হওয়ার শপথ নতুন করে গ্রহণ করে থাকে। ফরাসি বিপ্লব এভাবেই ফরাসি জাতির কাছে মহান এক ঐতিহাসিক কালপর্ব হিসেবে সমাদৃত হয়েছে। পৃথিবীর সব দেশেই ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পঠিত হয়। এই বিপ্লবের ইতিহাস পাঠে ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলিত হয়ে, নিজ নিজ দেশের বিপ্লব, মুক্তিযুদ্ধ ও সংগ্রামের সাথে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করে।