Facebook Pixel

১৯৪৬ সালে ভারতবর্ষে ভয়াবহ দাঙ্গা দেখা দেয়। লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতের গভর্নর জেনারেল হয়ে আসেন। তিনি হিন্দু, মুসলিম ও শিখ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে বুঝতে সক্ষম হন যে, ভারতবর্ষে আর ব্রিটিশ শাসন সম্ভব নয়। সেই লক্ষ্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি আইন পাস করা হয়। ক. ‘ভাগ কর, শাসন কর’ নীতি কী? খ. মওলানা ভাসানীকে মজলুম জননেতা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে যে আইনের কথা বলা হয়েছে, তার তিনটি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

উৎস: Board Exam Question BB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) 'ভাগ কর, শাসন কর' নীতি হলো ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে নিজেদের শাসন ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার একটি কূটকৌশল। (খ) মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে মজলুম জননেতা বলা হয় কারণ তিনি আজীবন শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। শোষক শ্রেণির অন্যায়, জুলুম ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি সর্বদা আপসহীন ছিলেন এবং সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাই নিপীড়িত মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে তিনি 'মজলুম জননেতা' উপাধিতে ভূষিত হন। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটি হলো ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন। ১৯৪৬ সালের ব্যর্থ মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা এবং ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতবর্ষের শাসনতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হওয়া এই আইনের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. ব্রিটিশ শাসনের অবসান ও বিভাজন: ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট থেকে এই আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে 'ভারত' ও 'পাকিস্তান' নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ডোমিনিয়ন বা রাষ্ট্র সৃষ্টি করা হয়। ২. গণপরিষদ গঠন: আইন অনুযায়ী, নবগঠিত দুটি ডোমিনিয়নের জন্য পৃথক দুটি গণপরিষদ গঠন করা হয়। নতুন শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত এই গণপরিষদগুলোই স্ব স্ব দেশের কেন্দ্রীয় আইন পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বলে নির্ধারণ করা হয়। ৩. সার্বভৌমত্ব ও কমনওয়েলথ সদস্যপদ: এই আইনের মাধ্যমে ডোমিনিয়ন দুটিকে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব প্রদান করা হয়। তারা ব্রিটিশ কমনওয়েলথভুক্ত থাকবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের দেওয়া হয়। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনটি ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। এই আইনের গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: প্রথমত, এই আইনের মাধ্যমে প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত ফসল হিসেবে বিবেচিত হয়। এর ফলে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়, যা এ অঞ্চলের রাজনৈতিক মানচিত্রকে চিরতরে বদলে দেয়। দ্বিতীয়ত, এই আইনটি শাসনতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে গভর্নর জেনারেল ও গভর্নরের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার বিলুপ্তি ঘটে, যা নতুন রাষ্ট্র দুটিতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে। তৃতীয়ত, এই আইনটি উপমহাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায়। দীর্ঘ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এই আইন প্রণয়নের ফলে একটি নতুন যুগের সূচনা হয়। জনগণ নতুন প্রেরণা ও স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ পায়। পরিশেষে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন কেবল একটি আইন ছিল না, বরং এটি ছিল উপমহাদেশের ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দলিল। এর মাধ্যমেই ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ভারত ও পাকিস্তানের যাত্রা শুরু হয়, যা আজও ইতিহাসের পাতায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2022)

১৯৪৬ সালে ভারতবর্ষে ভয়াবহ দাঙ্গা দেখা দেয়। লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতের গভর্নর জেনারেল হয়ে আসেন। তিনি হিন্দু, মুসলিম ও শিখ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে বুঝতে সক্ষম হন যে, ভারতবর্ষে আর ব্রিটিশ শাসন সম্ভব নয়। সেই লক্ষ্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি আইন পাস করা হয়।

ক. ‘ভাগ কর, শাসন কর’ নীতি কী?

খ. মওলানা ভাসানীকে মজলুম জননেতা বলা হয় কেন?

গ. উদ্দীপকে যে আইনের কথা বলা হয়েছে, তার তিনটি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্...

‘B’ অঞ্চলটি এক সময় স্বাধীন ছিল। অঞ্চলটিতে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একটা সময় অঞ্চলটিতে বিদেশি শক্তি উপন...

X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দে করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করার যাতে দুটি সম্প্র...

'X' প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য 'X' প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুট...

X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়...

অখন্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন—

অখন্ড বাংলার আন্দোলন শুরু করেন কে?

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগ...

অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।