Facebook Pixel

X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়। সংরক্ষিত বিষয়গুলো গভর্নরের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। ক. মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন কী? খ. দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে তোমার পঠিত কোন আইনের সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ব্রিটিশ ভারতে সাংবিধানিক সংস্কারের লক্ষ্যে ভারত সচিব জন মর্লে এবং গভর্নর জেনারেল লর্ড মিন্টোর উদ্যোগে ১৯০৯ সালে যে আইন পাস করা হয়, তাকে মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন বা ১৯০৯ সালের ভারত পরিষদ আইন বলা হয়। (খ) দ্বৈতশাসন বলতে মূলত কোনো শাসনব্যবস্থায় প্রশাসনিক দায়িত্ব ও ক্ষমতাকে দুটি পৃথক কর্তৃপক্ষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়াকে বোঝায়। ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি লাভের পর লর্ড ক্লাইভ বাংলায় এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এই ব্যবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিচার পরিচালনার দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল বাংলার নামমাত্র নবাবের ওপর, অন্যদিকে রাজস্ব আদায় ও দেওয়ানি সংক্রান্ত লাভজনক বিষয়গুলো কোম্পানি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে নবাব পান ক্ষমতাহীন দায়িত্ব এবং কোম্পানি পায় দায়িত্বহীন ক্ষমতা। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের (মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইন) সাদৃশ্য রয়েছে। ১৯১৯ সালের এই আইনে ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশগুলোতে প্রথমবারের মতো দ্বৈতশাসন প্রবর্তন করা হয়। উদ্দীপকের ন্যায় এই আইনেও প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: সংরক্ষিত বিষয় এবং হস্তান্তরিত বিষয়। সংরক্ষিত বিষয়গুলো (যেমন: পুলিশ, বিচার, ভূমিরাজস্ব) গভর্নর ও তার কার্যনির্বাহী পরিষদের অধীনে রাখা হয়, যা মন্ত্রিসভার কাছে দায়বদ্ধ ছিল না। অন্যদিকে, হস্তান্তরিত বিষয়গুলো (যেমন: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি) প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার ওপর ন্যস্ত করা হয়, যারা আইনসভার কাছে দায়বদ্ধ ছিল। উদ্দীপকে বর্ণিত 'X' রাষ্ট্রের প্রাদেশিক বিষয়গুলোর দ্বিখণ্ডন এবং গভর্নরের হাতে সংরক্ষিত বিষয় ন্যস্ত করার প্রক্রিয়াটি ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের দ্বৈতশাসন কাঠামোর সাথে হুবহু মিলে যায়। (ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনটি ভারতের সাংবিধানিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও কার্যকারিতার দিক থেকে এটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল। এর কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. অকার্যকর দ্বৈতশাসন: প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করার ফলে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়। সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত বিষয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করে। ২. গভর্নরের অপ্রতিহত ক্ষমতা: প্রাদেশিক গভর্নরদের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা ন্যস্ত ছিল। তিনি মন্ত্রিসভার পরামর্শ অগ্রাহ্য করতে পারতেন এবং সংরক্ষিত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে তিনি আইনসভার কাছে দায়বদ্ধ ছিলেন না। ৩. দায়িত্বহীনতা ও ত্রুটিপূর্ণ বণ্টন: হস্তান্তরিত বিষয় পরিচালনার জন্য অর্পিত বাজেট ছিল অত্যন্ত সীমিত। এছাড়া, মন্ত্রীরা যৌথভাবে নিযুক্ত না হয়ে ব্যক্তিগতভাবে গভর্নরের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল চেতনার পরিপন্থী ছিল। ৪. রাজনৈতিক অসন্তোষ: এই আইনটি ভারতবাসীর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়। ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো একে অসম্পূর্ণ ও নৈরাশ্যজনক বলে প্রত্যাখ্যান করে। পরিশেষে বলা যায়, ১৯১৯ সালের আইনটি দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলেও এটি ভারতে পর্যায়ক্রমে স্বায়ত্তশাসন বিকাশের পথ প্রশস্ত করেছিল। তবে কাঠামোগত ত্রুটি ও ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার মানসিকতার কারণে এটি কার্যত ব্যর্থ হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়। সংরক্ষিত বিষয়গুলো গভর্নরের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ক. মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন কী?

খ. দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে তোমার পঠিত কোন আইনের সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্...

‘B’ অঞ্চলটি এক সময় স্বাধীন ছিল। অঞ্চলটিতে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একটা সময় অঞ্চলটিতে বিদেশি শক্তি উপন...

X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দে করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করার যাতে দুটি সম্প্র...

'X' প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য 'X' প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুট...

অখন্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন—

অখন্ড বাংলার আন্দোলন শুরু করেন কে?

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগ...

অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

আব্বাস দৈনিক সমকালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ পড়ে ভারতবর্ষের প্রথম রাজনৈতিক দল সম্পর্কে জানতে পারে। ঐ দল প্রতিষ্ঠার পটভূমিও...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।